Latest News

মস্তিষ্কে এখনও রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে, অসুস্থ বলরামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল ইস্টবেঙ্গল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবলের একদা ‘থ্রি-মাস্কেটিয়ার্স’ বলা হত তাঁদের। গতবছরই চিরবিদায় নিয়েছেন পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় ও চুনী গোস্বামী। তাঁদেরই প্রিয় সতীর্থ তুলসীদাস বলরাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে অ্যাপেলো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

গত ১৯ মার্চ বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কিংবদন্তি এই সেন্টার ফরোয়ার্ড। উত্তরপাড়া বাজার স্টপেজে গঙ্গার ধারে একটি ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকেন। পাড়ার মানুষরাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পড়ে গিয়ে মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। দেরি না করে সেটিতে অস্ত্রোপচারও করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে যদিও জানানো হয়েছে, ৮৫ বছরের তারকা চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। বলরামের অন্যান্য নানা শারীরিক সমস্যা রয়েছে বাধর্ক্যজনিত কারণে।  যদিও নামী এই প্রাক্তন তারকার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁকে ২৭ মার্চ ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। বলরামের চিকিৎসার বিষয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব পাশে দাঁড়িয়েছে।

এমনকি আইএফএ-য়েও বলরামের চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তা করবে জানিয়েছে। লাল হলুদ ক্লাবের পক্ষ থেকে শীর্ষ কর্তা ডাঃ শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত এদিন জানিয়েছেন, বলরাম ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের গর্ব, তাঁর চিকিৎসার সব দায়িত্ব ক্লাব বহন করবে।

বহুবছর আগেই তিনি ভবানীপুর ছেড়ে উত্তরপাড়ায় চলে আসেন। আদতে হায়দরাবাদের মানুষ বলরাম কলকাতা ময়দান থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন অভিমানে। তাঁর প্রিয় দুই সতীর্থ পিকে-চুনী পদ্মশ্রী পেলেও তিনি পাননি। এই অভিমান তাঁকে এখনও ময়দান থেকে বিমুখ করে রেখেছে। এমনকি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিও তাঁর অভিমান রয়েছে। সেই কারণে ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসেও তিনি যান না।

১৯৫৬ থেকে ১৯৬৩ সাল, এই সাত বছর ছিল ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগ। তার মূল কারণ ছিল চুনী-পিকে-বলরাম ত্রয়ী। তিনজনেই স্ট্রাইকার। পিকে খেলতেন রেলের হয়ে। চুনী মোহনবাগানে আর বলরাম ইস্টবেঙ্গলে। মাঠের বাইরে এই ত্রয়ী ছিল খুব ভাল বন্ধু। দেশের হয়ে টানা খেলেছেন তাঁরা।

বলরাম মানেই এক জীবন্ত আবেগ। তিনি হায়দরাবাদের মানুষ হলে কী হবে, ফুটবলার জীবনে সেই যে কলকাতায় চলে এসেছিলেন, তারপর থেকে আর এখান থেকে যাননি। এই কিংবদন্তি ফুটবলার অর্জুন পেলেও পদ্মশ্রী পাননি, অথচ ভবানীপুর থানা থেকে তাঁর নামে রিপোর্টও গিয়েছিল। শেষমেশ বাতিল হয়ে যায় এক অজ্ঞাত কারণে। সেই নিয়ে সারা জীবন আক্ষেপ বয়ে বেড়িয়েছেন। বারবার বলতেন, আমি বাঙালি না হয়েও বাংলার মানুষের চেয়ে বেশি বাঙালি। তাঁর উত্তরপাড়ার ফ্ল্যাটে গেলে দেখা যাবে মা কালী, বুড়ো শিবের ফটো। তাঁর ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে দেখা যায় দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি।

যেহেতু তিনি একা থাকেন, সেই কারণে নিজের শেষ ইচ্ছের কথা দেওয়ালে লিখে রেখেছেন, তাতে রয়েছে, মৃত্যুর পর যেন তাঁর দেহ দাহ না করা হয়, সেটি গবেষণার কাজে যেন ব্যবহার করা হয়। আর মৃত্যুর পরে যেন কোনও স্মরণসভা আয়োজন না করা হয়।

 

 

 

 

 

You might also like