Latest News

শ্রী সিমেন্টের চুক্তিপত্র নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা শুরু করলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা কাটছে না, বরং জট আরও ঘনিভূত হচ্ছে। কারণ ক্লাবের ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের আধিকারিকরা যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়েছেন। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, শেষবারের মতো চুক্তিপত্র পাঠানো হয়েছে, সেটি যাতে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আলোচনা করে সই করে দেওয়া হয়। না হলে অন্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

কী সেই ব্যবস্থা, সেই নিয়েও ময়দানে তীব্র গুঞ্জন চলছে। ইস্টবেঙ্গলের পিছনে মোট ৬৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বিনিয়োগকারী সংস্থার। চুক্তিপত্রে সই না করলে সেই অর্থ ফেরত চাইতে পারে শ্রী সিমেন্ট। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এগতে চাইছে লাল হলুদ ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

সেই জন্যই গত বৃহস্পতিবার কলকাতার নামী আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন ক্লাব কর্তারা। চুক্তিপত্রের কিছু শর্ত নিয়েই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা চাইছেন, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের দু’জন কর্তা শুধু বোর্ড অফ ডিরেক্টরে থাকুন। এই নিয়ে সমস্যা রয়েছে ক্লাবমহলে।

এমনকি ফুটবল দলের পাশে হকি ও ক্রিকেট দলেরও দায়িত্ব নিতে চায় বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তারা। সেটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ দিতে চায় না কিছুতেই।

ক্লাবের এক নামী কর্তা এদিন জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে যখন প্রাথমিক কথা হয়েছিল কোম্পানির। সেইসময় তো সদিচ্ছার কথাই তারা জানিয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি দিনদিন কিভাবে তারা ক্লাবের প্রশাসনিক ব্যবস্থা কায়েম করবে, সেটি নিয়েই ভেবে এসেছে। এটা তো ঠিক নয়।’’

সব থেকে বড় বিষয় হল, শ্রী সিমেন্টের ডিরেক্টর তথা কর্ণধার হরিমোহন বাঙ্গুর জানিয়েছিলেন তিনি কলকাতায় এসে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে। ক্লাবের সবাই ভেবেছিলেন মালিক যখন কথা বলতে চান, সেইসময় ইতিবাচক দিক খুলবে হয়তো। কিন্তু কর্ণধারও বেঁকে বসেছেন চুক্তিপত্রে সই করার বিষয়ে। তিনি বিশ্বস্তমহলে জানিয়েছেন, এত অর্থ যখন ঢালা হয়েছে, সেইসময় ইনভেস্টর তো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করবেই। এই নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত।

একান্ত বিনিয়োগকারী সংস্থা সরে গেলে আরও সমস্যা দেখা দেবে ক্লাবের। কারণ সেইসময় তারা খরচ হওয়া অর্থ চাইবে। এমনকি এই নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের ক্লাব প্রতিনিধিরা কিছু কোম্পানির সঙ্গে স্পনসর হওয়ার বিষয়ে কথাও বলেছিল। সব সংস্থাই ভাবছে তারা যদি নতুন করে ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়, তা হলে শ্রী সিমেন্টের অর্থ তাদের দিতে হবে না তো? এটিও একটি বিষয় এসে হাজির হয়েছে।

বিতর্ক আরও সৃষ্টি হয়েছে যেহেতু ক্লাবের ফুটবল সচিব সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনভেস্টরের অন্যার্য্য দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, চারটি শর্ত যে আরোপ করা হয়েছে, সেই শর্তে সই করলে ক্লাবের হাতে কোনও ক্ষমতাই থাকবে না। এক, ক্লাব পরিকাঠামো ঢেলে সাজাবে কোম্পানি। তারা তাবুঁতেই কোম্পানির অফিস ঘর বানাতে চায়। দ্বিতীয়ত, সব বিভাগের খেলাধুলোয় তারা সিদ্ধান্ত নেবে। সদস্যদের বিষয়ে শেষ কথা বলবে তারাই। শেষটি, এটিকে-মোহনবাগানের যেমন গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী দলগঠনের বিষয়েও কথা বলতে পারে, সেই বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিতে চায় শ্রী সিমেন্ট।

এতেই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। পরিস্থিতি যা বিচ্ছেদের দিকেই এগচ্ছে সম্পর্ক, কিন্তু সম্পর্ক থেকে বেরলেও সমস্যা রয়েছে, সেই কারণেই আইনি দিক দেখে রাখছেন কর্তারা।

 

 

 

 

 

 

You might also like