Latest News

সুপার ওভারে হার পাঞ্জাবের, ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হল রাহুলদের

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা খেলা কখনও দিল্লির দিকে, আবার কখনও পাঞ্জাবের দিকে ঘুরেছে। খেলার শুরু থেকে শামির আগুনে স্পেলে খেলা নিজেদের মুঠোয় রেখেছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। কিন্তু শেষ চার ওভারে সব হিসেব এলোমেলো করে দিলেন মার্কাস স্টয়নিস। আবার পাঞ্জাবের হারা ম্যাচ জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে চলে গিয়েছিলেন একা মায়াঙ্ক আগরওয়াল। কিন্তু জেতাতে পারলেন না তিনি। টাই ম্যাচ সুপার ওভারে জিতে নিল দিল্লি ক্যাপিটালস।

সুপার ওভারে সবাই ভেবেছিলেন পাঞ্জাবের হয়ে ব্যাট হাতে নামবেন ৮৯ করে মায়াঙ্ক। সঙ্গে থাকবেন রাহুল। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল তো নামলেন। কিন্তু কোথায় মায়াঙ্ক। তার বদলে নামলেন নিকোলাস পুরান। ম্যাচে রান পাননি এমন দুই ব্যাটসম্যান নামলে যা হয় হয় তাই হল। সুপার ওভার অভিজ্ঞ রাবাদার দ্বিতীয় বলে রাহুল ও তৃতীয় বলে পুরান আউট হতেই শেষ হয়ে গেল পাঞ্জাবের ইনিংস। রাহুল আউট হওয়ার পরেও কিন্তু নেমেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। মায়াঙ্ককে দেখা যায়নি।

তিন রান ডিফেন্ড করার ক্ষমতা বিশ্বের কোনও বোলারেরই নেই। তাই সহজেই সেই রান তুলে নিলেন শ্রেয়স ও ঋষভ। এই হারের পরে নতুন অধিনায়ক রাহুল ও কোচ অনিল কুম্বলের পরিকল্পনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। হাত সেট হয়ে যাওয়া মায়াঙ্ক কেন নামলেন না সুপার ওভারে। কেন সেই বিদেশিদের উপর ভরসা দেখাতে হল, যেখানে ঘরের ছেলেই হারা ম্যাচ প্রায় জিতিয়ে দিচ্ছিলেন। আর তার ফলেই ২ পয়েন্ট হাতের মুঠোয় এনে খোয়াতে হল পাঞ্জাবকে।

দিল্লি প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে ১৭ রানে। তার মধ্যে প্রথম দুটি উইকেট চলে যায় মাত্র নয় রানের বিনিময়ে। তাও শিখর ধাওয়ান (০) ও পৃথ্বী শ-র মতো ব্যাটসম্যানরা। সেই দলের এমনিতেই স্নায়ু চলে যাওয়ার কথা, আবার তার মধ্যে শিমরন হেটমায়ারের (৭) মতো তারকাও মহম্মদ শামির শিকার।

শামি কেন এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পেসার, আরও একবার দেখালেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও সেইসঙ্গে নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি পেলেন তিনটি উইকেট। এমনকি দিল্লির নেতা শ্রেয়স আইয়ার (৩২ বলে ৩৯) সামির কাছে নতিস্বীকার করেছেন। সামির আরও একটি শিকার হলেন ওপেনার পৃথ্বী শ (৫)।

দিল্লিকে এই শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে থেকে উদ্ধার করেন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়ান মার্কাস স্টয়নিস, যিনি ২১ বলে দুঃসাহসিক ৫৩ রান করে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেন। তাঁর এই ঝোড়ো ইনিংসে রয়েছে সাতটি বাউন্ডারি ও তিনটি বিশাল ছক্কা। একমাত্র শামি (৩/১৫) ছাড়া কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বাকি বোলার কটরেল, জর্ডন, গৌতমদের ওপর নির্দয় ছিলেন তিনি। স্টয়নিসের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করে গিয়েছেন দলনায়ক শ্রেয়স ও ঋষভ পন্থ (২৯ বলে ৩১)।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ৩৫ রানের মধ্যে পাঞ্জাবের চার উইকেট পড়ে যায়। তারপরেও মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও কৃষ্ণাপ্পা গৌতম মিলে যে জুটি গড়েন, সেটাই খেলার পার্থক্য গড়ে দেয়। তার মধ্যে যদিও মায়াঙ্কের ক্যাচ মিস করেন পৃথ্বী শ ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। খেলার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গৌতমের আউট হওয়াও চাপে ফেলেছিল পাঞ্জাবকে।

কিন্তু যেভাবে মায়াঙ্ক ম্যাচ বের করেন, তিনি এবারের আইপিএলের নায়ক হতে চলেছেন। সারা ইনিংসে ধৈর্য্য বজায় রেখে তিনি ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার মুখে এনে দিয়েছিলেন। মায়াঙ্কের ব্যাট থেকে এসেছে ৬০ বলে ৮৯ রান। তিনি শেষ করে যেতে পারেননি, শেষমেশ ছয় মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। পরের বলেই আউট হন জর্ডন। ফলে সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ।

You might also like