Latest News

সৌরভই রাজি করালেন, ছেলে সমিতের কারণে বিরাটদের কোচ হতে চাননি দ্রাবিড়

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

 

রাহুল শরদ দ্রাবিড় (Rahul Sharad Dravid) অন্য ধাতুতে গড়া। বেশ মনে আছে, সেটি সম্ভবত ২০০৫ সালের কথা। প্রাক্তন পৌরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য্যের ব্যবস্থাপনায় শিলিগুড়িতে একটি স্পোর্টস লাইব্রেরির উদ্বোধন হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে পূর্বতন মন্ত্রী ডেকেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ইরফান পাঠান ও রাহুলকে।

রাতে নৈশভোজের টেবিলে তৎকালীন মন্ত্রী প্রশ্ন করেছিলেন রাহুলকে, খেলা ছাড়ার পরে তোমার ভাবনা কী? উত্তরে রাহুল বলেছিলেন, ‘‘আমার ইচ্ছে ছোটদের কোচিং করাব। আমি সিনিয়র দলের কোচ হতে চাই না।’’

পাশে বসেছিলেন সৌরভ, ইরফান, তাঁরাও অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, ‘‘কী বলছিস রে, সত্যি?’’ হেসে তারপর রাহুল বলেছিলেন, ‘‘আরে বন্ধু, আমাকে কে সিনিয়র দলের কোচ করবে, বল?’’

ঘটনাটি কাকতালীয়, কিন্তু সেই দ্রাবিড়ীয় স্টান্সের এখনও বদল হয়নি। মনোভাবের দিক থেকে এখনও অদম্য রয়েছেন। ক্রিজে যেমন মজবুত ডিফেন্স ছিল, মননেও তিনি কঠোর। যা বলবেন, সেটাই করবেন।

আরও পড়ুন: লুধিয়ানার এক কাঠমিস্ত্রির ছেলে ওমানের হয়ে বিশ্বকাপ কাঁপাচ্ছেন 

না হলে সবাই যখন ধরে নিয়েছিল দ্রাবিড়ই কোচ হবেন বিরাটদের, তিনি ওই সবে পা বাড়াননি। তিনি ভেবেছিলেন অন্যকিছু, বরং জুনিয়র দলের কোচ হয়েছিলেন। এমনকি জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধানও হয়ে যান।

ভারতীয় ক্রিকেটের ‘দ্য ওয়াল’ চেয়েছিলেন, তিনি আগামী দিনের জন্য দেশকে আরও অনেক শচীন, দ্রাবিড়, সৌরভ, সেহওয়াগ, শ্রীনাথ, কুম্বলে দিয়ে যেতে পারেন। সেইজন্যই বারবার তাঁকেই অনুর্ধ্ব ১৯, ২৩, এমনকি ভারতীয় এ দলের কোচ করা হয়েছে। তিনি ইগো সমস্যায় ভোগেননি।

তিনি কখনও মনে করেননি, আমি রাহুল দ্রাবিড়, আমি কেন জুনিয়র দলের কোচ হব, বরং উল্টোটাই ভেবেছেন। তিনি চাননি সিনিয়র দলের কোচ হয়ে ক্রিমটুকু খেতে। তাই তিনি ব্যতিক্রমী তারকা।

কয়েকদিন আগেও যে দ্রাবিড় ভারতীয় সিনিয়র দলের কোচ হতে চাননি। তাঁকে রাজি করানোর কঠিন কাজটি করেছেন খোদ সৌরভ নিজেই। বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দুবাইতে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে রাহুলের। সৌরভই বারবার বলেছেন, ‘‘তুই যদি এখনই দায়িত্ব না নিস, তা হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে, ভারতীয় ক্রিকেট অনেকটা পিছিয়ে পড়বে।’’

কেন কী কারণে দ্রাবিড় অরাজি ছিলেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বলা হয়েছে, সৌরভ যেমন আক্রমণাত্মক, তেমনি রাহুল ঝুঁকি নিতে ভয় পান, যদি ব্যর্থ হন, সেই ভাবনা থেকেই নিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু সেই ধারণা যে সঠিক নয়, সেটি সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে।

সৌরভকে ‘বন্ধু’ রাহুল বলেছেন, ‘‘দ্যাখ, আমার বড় ছেলে সমিত অনুর্ধ্ব ১৬ ভারতীয় দলে রয়েছে, ও ভাল খেলছে। আমি চাই না বাবা হিসেবে ওর ভবিষ্যৎ মন্দ হোক, কারণ আমি সিনিয়র দলের কোচ হলে ওর দলে ঢোকা নিয়ে নানা কথা হবে। সবাই সেইসময় ভাববে বাবা স্বজনপোষণ করে ছেলেকে দলে ঢুকিয়ে দিল, এতে আমারও ভাল হবে না, ওরও দক্ষতার প্রতি সুবিচার করা হবে না।’’

এই শুনে সৌরভের শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গিয়েছে একদা সতীর্থের প্রতি। সৌরভ ও বোর্ড সচিব জয় শাহ দু’জনেই সেইসময় বলেন, ‘‘এসব ভাবা উচিত নয়। সবাই জানে রাহুল দ্রাবিড় সম্পর্কে, ক্রিকেটার হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও দ্রাবিড়কে সবাই জানে। কেউ ওটা ভাববে না, বরং সমিত নিজের দক্ষতায় ভারতীয় দলে আসবে। কারণ সমিত এমন একজনের ছেলে, সেও জানে দক্ষতা না দেখালে বাবা কোনওদিন সমর্থন করবে না।’’

এই কথা শোনার পরেই দ্রাবিড়ের স্টান্স নড়ে গিয়েছে, আর সেই কাজটি করে সফল বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ। যিনি সবসময় বলে এসেছেন, ‘‘আমাকে কোনও সাধারণ শিক্ষার্থী ক্রিকেটার যদি প্রশ্ন করে, আমার কার মতো ব্যাটিং করা উচিত, আমি সবসময় বলে এসেছি রাহুল দ্রাবিড়ের মতো। সকলের ব্যাটিংয়ে ভুল থাকতে পারে, রাহুলের সবটা ঠিক।’’

সেই কারণেই সৌরভেরও জেদ ছিল ভারতের কোচ হিসেবে দ্রাবিড়কে দায়িত্বে রাজি করাবেন, সেই কাজে মহারাজ সফল। দ্রাবিড়ও বোঝালেন তিনি চেয়ারের লোভে কোনওদিন ছিলেন না, এবারও নেই।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ

 

You might also like