Latest News

ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা মেটাতে আগ্রহী রিলায়েন্স, তাঁবুতে এসে চুক্তিপত্র দেখলেন সম্বরণ, সমাজপতিরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা মেটাতে এবার আসরে নামলেন এফএসডিএল-র কর্তারা। আইএসএলের আয়োজকও তারা, আদতে এটি চালায় রিলায়েন্স কর্তারা। তাদের তরফ থেকে লাল হলুদ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কেননা আইএসএলে খেলার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল ১৫ জুলাই পর্যন্ত। তার মধ্যে লাল হলুদের সমস্যা মেটেনি, বরং আরও জটিল হয়েছে প্রক্রিয়া।

তার চেয়েও বড় কথা হল, সম্প্রতি ক্লাবে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদের ঘটনা সারা ভারতীয় ফুটবলে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সচিব কুশল দাস এক বার্তায় জানিয়েছেন, ইস্টবেঙ্গলের ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ ও আতঙ্কিত। একটা বড় দলের সমর্থকদের মধ্যে এমন ক্ষোভ প্রশমন করা দরকার। এটা ইস্টবেঙ্গলের অভ্যন্তরীন বিষয়, আমরা এতে হস্তক্ষেপ করব না। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতরও বটে।

মনে করা হচ্ছে ফেডারেশন সচিবের এই বার্তার পরেই টনক নড়েছে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর। তারা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর করেছে ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের থেকেও। কারণ তাদের চুক্তিপত্রে প্রাথমিকভাবে সই করেছিলেন লাল হলুদ কর্তারা। তারপরে নাকি সেই চুক্তির বয়ান পালটে ফেলা হয়। ওই ঘটনা অবশ্য রিলায়েন্স কর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এমনকি শোনা গিয়েছে, এফএসডিএল-র ডিরেক্টর নীতা আম্বানির কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।

এফএসডিএল একটা কারণেই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে চায়। তারা জানে ইস্টবেঙ্গল যদি আইএসএলে না খেলতে পারে, তা হলে জনপ্রিয়তা হারবে লিগ। কলকাতার দুই প্রধান ক্রাউডপুলার, তাদের দর্শক সমর্থন লিগের জনপ্রিয়তা বাড়ায় সন্দেহ নেই। ইস্টবেঙ্গল না খেলা মানে বানিজ্যিকভাবে লোকসান হতে পারে।

শুধু তাই নয়, করোনার কারণে ফাঁকা মাঠে খেলা হলেও টিভি দর্শকের সমীক্ষার বিচারে ইস্টবেঙ্গলই এগিয়ে রয়েছে। সেই হিসেবে রিলায়েন্স কর্তারা চান শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করতে।

এদিকে, লাল হলুদ কর্তারা জানিয়েছিলেন, দলের প্রাক্তন তারকারা ইচ্ছে করলে তাঁবুতে এসে চুক্তিপত্র দেখে যেতে। তাঁরা আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন ক্রিকেট অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও দুই নামী প্রাক্তন তারকা সুকুমার সমাজপতি ও চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এমনকি মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকেও আসতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে তাঁবুতে এসে চুক্তিপত্র দেখে যান সম্বরণ। আর সন্ধ্যায় ক্লাবে এসে কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যান সমাজপতি ও চন্দন বাবু। দুই প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল অধিনায়কই ক্লাবকে সমর্থন করে বলেছেন, এই চুক্তিপত্রে সই করা, আর গঙ্গাজলে ঝাঁপ দেওয়া দুটিই সমান। তারা এই ঘটনায় ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করতে বলেছেন কর্তাদের।

এদিন আবার ইস্টবেঙ্গল নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেছেন, দেখুন মুখ্যমন্ত্রী কোনও জায়গায় কথা বলে দিতে পারেন। তারপর তা স্পনসর এবং ক্লাবের ব্যাপার। এর মধ্যে দিলীপ ঘোষ কেন ঢুকবেন, আমরাই বা কেন ঢুকব।

তিনি আরও বলেন, যদি আমাকে লিখে পাঠাতে হত তাহলে তো দিলীপ ঘোষের বাড়িতে পাঠাতে পারতাম। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে কেন পাঠাব। এসব আমরা করি না, দিলীপ দা-রা করেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এত ভোটে আমরা জিতেছি, দিলীপ দা-রা এত নাচানাচি করেও হেরেছেন। আমরা এসবের মধ্যে থাকব কেন। যত শান্তি থাকবে তত নম্বর বাড়বে।

You might also like