Latest News

গুণধর রাজ আইপিএল থেকেও হয়েছিলেন বিতাড়িত, প্রথম তাঁর স্বরূপ চিনেছিল ক্রিকেটই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবাই জানত, রাজ কুন্দ্রা শিল্পপতি, কিন্তু তিনি যে বড় ‘শিল্পী’, সেটি কেউ জানত না!

একটা সময় রাজস্থান রয়্যালস মানেই ছিল রাজ কুন্দ্রা, তিনি প্রতি ম্যাচে গ্যালারিতে স্ত্রী শিল্পা শেঠীকে নিয়ে খেলা দেখতে আসতেন। সেইসময় রাজ মানেই কেতাদুরস্ত ব্যাপার। তিনি আবার দলের সব ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতেন না। দলের অধিনায়কের মাধ্যমে বাকিদের বার্তা পাঠাতেন।

ভারতীয় ক্রিকেটে বলা হয়, ললিত মোদীর অধঃপতন, আর রাজের উত্থান, এরকম এক চিত্রনাট্য ছিল। জয়পুরে তাঁর একটা অস্থায়ী ঠিকানা ছিল। সেই অফিসের ইনচার্জ ছিলেন এক সুবেশা তরুণী। তিনিই রাজের অ্যাপয়েন্ট দিতেন।

রাজের ইন্টারভিউ করার আগে তাঁর কাছে প্রশ্ন পাঠাতে হতো। তাঁর মনপসন্দ হলে তবেই তিনি জবাব দিতেন, না হলে ওই তরুণী লাল কালি দিয়ে ক্রস চিহ্ন করে দিতেন, তার মানে ওই প্রশ্নের জবাব রাজ দেবেন না।

২০০৮ সালে আইপিএল খেতাব জিতেছিল রাজস্থান রয়্যালস। আর সেই দলের মালিক রাজ কুন্দ্রার গড়াপেটায় জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা একেবারেই কাকতালীয় ছিল না। তিনি প্রভাব বিস্তার করে বুকিদের দিয়ে ম্যাচ ছাড়তেন, সেই মতো দলের ক্রিকেটারদের কাছে বার্তা পাঠাতেন। তবে তিনি কৌশলে বহিরাগত দিয়ে ওই কাজটি করতেন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিদমন শাখাই রাজের এই স্বরূপ চিনতে পারে। তারা তদন্ত করে দেখে, রাজ তৃতীয় ব্যক্তি দিয়ে গড়াপেটার জাল বিস্তার করেছিলেন। তাঁকে ক্রিকেট থেকে নির্বাসন করা হয়। এমনকি এও বলে দেওয়া হয়, তিনি ক্রিকেট মাঠের আশেপাশে আসতে পারবেন না।

সব থেকে বড় বিষয়, রাজ কুন্দ্রা নিজের প্রভাব বিস্তার করে গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়ালেও তিন ক্রিকেটার চিরতরে ভিলেন হয়ে গিয়েছিলেন। শান্তাকুমারণ শ্রীসান্থসহ অঙ্কিত চবন, অজিত চান্ডিলাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মনে করা হয়, রাজ নিজেও অর্থ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ চুপ করিয়ে দেন।

কিন্তু অপরাধের বীজ থাকে অনেক গভীরে। সেবার রেহাই পেলেও পর্ন কাণ্ডে রাজের জড়িয়ে যাওয়া একেবারেই অবাক করার মতো বিষয় নয়, কারণ তিনি অপরাধ জগতের সঙ্গে সক্রিয় বরাবরই, এই অভিযোগ মুম্বই মহলের।

 

You might also like