Latest News

জাপানে বাড়ছে কোভিডের আঁচ, তবু অলিম্পিক বাতিলে গড়িমসি কেন? আড়ালে অদ্ভুত কারণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুনিয়াজুড়ে আঁচ বাড়াচ্ছে করোনা। আর এই অতিমারির আবহ ছাপ ফেলেছে খেলার ময়দানে। বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা মাঝপথে বাতিল হয়েছে। ঘরোয়া লিগ কোথাও কোথাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে বটে। কিন্তু দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে বিনোদন এতটুকু বেঁচে নেই।

এই অবস্থায় প্রশ্নের মুখে অলিম্পিকের আসর। গত বছর যা টোকিওতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে এই আসর চলতি মরশুমে হওয়ার কথা। ক্যালেন্ডার বলছে, মেরেকেটে আর মাস দুয়েক বাকি। কিন্তু আয়োজক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ কিংবা হোটেল ব্যবসায়ী— কেউই জানেন না ভবিতব্য কী? আদৌ বসবে অলিম্পিক? বাতিল হবে? নাকি ফের পেছবে? ক্রমশ দানা বাঁধছে প্রশ্ন।

জাপান থেকে অবশ্য নেতিবাচক কোনও সাড়াশব্দ মিলছে না। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংগঠনও টুর্নামেন্ট মিটিয়ে ফেলতে আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বলছে ঠিক উলটো কথা। অতিমারির ধাক্কায় কাঁপছে এই দেশ। আয়োজক টোকিও সহ অন্য তিন শহরে এখনও কোভিড ইমার্জেন্সি জারি আছে। প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা। যার জেরে সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য মহল বারবার মুখ খুলেছে। আসর বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি একটি জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, জাপানের ৭০% আমজনতা টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু এতেও একচুল সরে আসতে নারাজ ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)।

কিন্তু রাজনীতি বড় বালাই। অলিম্পিকের চেয়ার আর দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি এক নয়। তাই জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা চলতি বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর আশ্বাস, অলিম্পিক কখনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে না। আগে নাগরিকদের স্বার্থ। তারপর খেলাধুলো। যদিও এরপর তিনি যোগ করে, বাতিল কিংবা চালু রাখা সংক্রান্ত সমস্ত দায়ভার আইওসি-র। তারাই যা ঠিক করার করবে।

শুনতে অবাক লাগলেও সুগা খুব ভুল কিছু বলেননি। এর কারণ, অলিম্পিক সংক্রান্ত চুক্তিপত্র। যেখানে কমিটির হাতে প্রায় একচ্ছত্র অধিকার তুলে দেওয়া হয়েছে। আয়োজক শহর টোকিও এবং আইওসি-র মধ্যে রফাসূত্রে বলা হয়েছে, আয়োজন বাতিলের সম্পূর্ণ অধিকার একমাত্র অলিম্পিক কমিটির। অন্য কেউ তাতে নাক গলাতে পারবে না।

যুক্তি কী? উত্তর— অলিম্পিকের উপর কমিটির একচেটিয়া অধিকার। এমনটাই দাবি আন্তর্জাতিক খেলাধুলো সংক্রান্ত আইনজীবী আলেকজান্ডার মিগুয়েল মিস্ত্রের। তিনি বলেন, শুধু বাতিল আটকানো নয়, বাতিল ঘোষণার সিদ্ধান্তও কমিটি নিতে পারে।

যদিও আইন যেমন আছে। তেমনই রয়েছে আইনের ফাঁকও। সেটা কী? চুক্তি অনুসারে, যুদ্ধ কিংবা গণবিদ্রোহের মতো ঘটনা দেখা দিলে কিংবা প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কমিটি সরে আসতে পারে। করোনার ফলে এই রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। কিন্তু অলিম্পিক কমিটি তা ধরে এগিয়ে যাবে কিনা, তা সময়ই বলবে।

দ্বিতীয় আরেকটা উপায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে আয়োজক দেশ-কমিটি-সম্প্রচার সংস্থাগুলিকে ঐক্যমতে আসতে হবে। তাহলে বিমা সংক্রান্ত একটা মোটা পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই মিলতে পারে।

গোটা পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে একাধিক প্রতিযোগী দেশ মখ খুলেছে। কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে৷ কারও চিন্তা সংক্রমণ নিয়ে, আবার কেউ বিনা দর্শকে টুর্নামেন্ট খেলা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যদিও জাপানের পর্যটন ও অন্যান্য মহল থেকে টুর্নামেন্টের পক্ষে আওয়াজ উঠছে। দেশের অর্থনীতি সুনামি-করোনার জেরে বেশ ক্ষয়ের দিকে। অলিম্পিককে সামনে রেখে যা ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে।

আপাতত বল আইওসি-র কোর্টে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই সকলের পাখির চোখ।

You might also like