Latest News

নীরজের বর্শাফলকে অনেক অনেক সোনা, ‘পানিপথ কা লড়কা’র উত্থান যেন রূপকথা

শোভন চক্রবর্তী

শতাব্দীর খরা কাটিয়েছেন তিনি। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে সোনা এসেছে ২৩ বছরের ছেলেটার হাত ধরেই। হরিয়ানার পানিপথের নীরজ চোপরাকে নিয়ে যখন আবেগে ভাসছে গোটা দেশ তখন পরিসংখ্যান যেন গল্প শোনাচ্ছে এক বিষ্ময় বালকের। বলছে, অলিম্পিক তাঁকে আলো দিলেও তার আগেই ঝুলিতে অনেক অনেক সোনা পুরে ফেলেছিলেন এই তরুণ অ্যাথলিট। তবু অলিম্পিক তো অলিম্পিকই। বিশ্বক্রীড়ার মহামঞ্চ। সেখানে সোনা জেতা সব কিছুর থেকেই আলাদা।

পানিপথ কা লড়কা

১৯৯৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর হরিয়ানার পানিপথের খানদ্রায় জন্ম নিরজের। ছোট কৃষক পরিবার, তেমন স্বচ্ছল ছিল না। তার মধ্যেই বড় হতে হতে নিজের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিলেন নীরজ। প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সময়েই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডকে ধ্যানজ্ঞান করে ফেলেছিলেন নীরজ। যদিও ট্র্যাকে আসাটা ছিল একেবারেই অন্য কারণে। ওজন বেড়ে যাচ্ছিল ছোট্ট ছেলেটার। তাই চিকিৎসকরাই তার বাবা-মাকে বলেছিলেন, ছেলেকে মাঠে পাঠান। নইলে শরীরে রোগের বাসা তৈরি হবে। সেই যে মাঠে যাওয়া শুরু, ব্যাস!

ছোট বয়সেই হাঁটুতে চোট

ক্লাস সেভেনে পড়তে একটা মারাত্মক চোট লেগেছিল হাঁটুতে। অনেকেই ভেবেছিলেন, ট্র্যাক থেকে ছিটকে যাবে একটা প্রতিভা। কিন্তু মানসিক জোরেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন নীরজ। শুরুতে স্প্রিন্টের দিকে ঝোঁক থাকলেও পরে জ্যাভলিনেই মনোনিবেশ করেন। আর তাতেই আসে সাফল্যের পর সাফল্য।

সাউথ এশিয়ান গেমসে সোনা

২০১৬ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন নীরজ। তাঁর বর্শা গিয়ে পড়েছিল ৮২.২৩ মিটার দূরে। ওই বছরই পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইএএএফ অনুর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যাভলাইন সোনা জেতেন নীরজ। ২০১৬ সালকে কার্যত সোনার বছর করে ফেলেছিলেন পানিপথের পুত্র। জুলাই মাসে সামার অলিম্পিকে ফের সোনা জেতেন নীরজ। তখন থেকেই দেশের অ্যাথলেটিক্স মহলে অলিম্পিকের সোনার স্বপ্ন উস্কে দিয়েছিলেন এই তরুণ।

১৭ সালে তিন সোনা, ১৮ তে কমনওয়েলথ

এরপর ২০১৭ সাল। ষোল সালে তিন সোনা তাঁর মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি। বরং অনুশীলনের সময়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নীরজ। চোয়াল চাপা লড়াই। লক্ষ্য একটাই, অলিম্পিকে সোনা। এশিয়ান অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে ফের সোনা পান নীরজ। জ্যাভলিন গিয়ে পড়ে ৮৫.২৩ মিটার দূরে।

এরপর ২০১৮ সাল আরও বড় সাফল্য এনে দেয় নীরজকে। কমনওয়েলথে সোনা জিতে ঢুকে পড়েন ভারতের এলিট অ্যাথলিটদের তালিকায়। তখন তাঁর বয়স একুশ। এত কম বয়সে এলিট তালিকায় জায়গায় পাওয়া কার্যত বিরল। ওই বছরই দোহা ডায়মন্ড লিগে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন নীরজ। তাঁর জ্যাভলিন পারি দেয় ৮৭.৪৩ মিটার।

কনুইয়ে সার্জারি

এরপর ২০১৯ সালে অন্ধকার নেমে আসে নীরজের জীবনে। হাতের চোটে দীর্ঘদিন থাকতে হয় ট্র্যাকের বাইরে। তারপর চিকিৎসা, ফিজিও থেরাপির মাধ্যমে চোটমুক্ত হন নীরজ। শুরু করেন অনুশীলন। তাঁর জার্মান কোচ এ ব্যাপারে বলেছেন, “আমি সেই সময় নীরজকে বলেছিলাম, কী পেয়েছ ভুলে যাও। ভেবে নাও শুরু করতে হবে শূন্য থেকে। সেটাই ও মাথায় গেঁথে নিয়েছিল।” তিনি এও বলেছেন, “চোটগ্রস্ত থাকার সময় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন নীরজ। আস্তে আস্তে ওকে স্বাভাবিক ছন্দে আনা গিয়েছিল।” এবছর পর্তুগালের একটি ইভেন্টে সোনা জিতে টোকিওর দিকে যাত্রা করেছিলেন হরিয়ানার ভূমিপুত্র। তারপর সোনার ইতিহাস গড়লেন তিনি।

You might also like