Latest News

গলগল করে রক্ত, নাকে চিড়, তাও ক্লাবকে জিতিয়েছি, ক্লাবও সম্মান দিয়েছে

মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য

লম্বা জার্নি। লাল-হলুদ জার্সিতে ১৫ বছরের ফুটবল জীবন। তারপর কয়েক ধাপে বেশ ক’বছর কোচিং। প্রতিটা মানুষের জীবনে ভাল-খারাপ, উত্থান-পতন যেমন লেগে থাকে, আমারও ছিল। জীবনে কোনও কোনও সিদ্ধান্ত ভুল নিয়েছি। আবার সেটা শুধরে নিয়েছি। ইস্টবেঙ্গলের একশো বছরে আমাকে এবং ভাস্করকে (গঙ্গোপাধ্যায়) জীবনকৃতি সম্মান দিচ্ছে ক্লাব। এর জন্য আমি সম্মানিত। কিন্তু আক্ষেপ একটাই, আমি একটাও অ্যাওয়ার্ড পাইনি (পড়ুন খেলরত্ন, অর্জুন ইত্যাদি)।

অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার জন্য একটা বিশেষ দক্ষতা লাগে। সেটা আমি শিখতে পারিনি। যদি বুঝতাম যাঁরা পেয়েছেন, তাঁরা সবাই আমার থেকে ভাল খেলোয়াড়, তা হলে একটা ব্যাপার ছিল। কিন্তু তা তো হয়নি। আমার থেকে খারাপ প্লেয়ারও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। বুঝেছি অ্যাওয়ার্ড পেতে গেলে যে স্কিলের দরকার, সেটা আমার নেই।

ছোটবেলা থেকে একটা জিনিসই শিখেছি। সেটা ফুটবল। আর খেলেছি চ্যালেঞ্জ নিয়ে। ৫০-এর বেশি বড় ম্যাচ খেলেছি। এত ট্রফি জিতেছি- সবটাই ছিল চ্যালেঞ্জের। মনে পড়ে ৮৫-র ফেডারেশন কাপের কথা। আমাদের সঙ্গে সেমিফাইনাল পড়ল পঞ্জাব বিদ্যুৎ পর্ষদের। ওই ম্যাচে হেড করতে উঠে ধাক্কা। গলগল করে রক্ত। নাকের হাড়ে চিড় ধরল। ফুলে গেল মুখ। সেমিফাইনাল জিতলাম। ফাইনাল পড়ল মোহনবাগানবাগানের সঙ্গে। ডাক্তারবাবু বলে দিলেন, “কোনও ভাবেই মাঠে নামা যাবে না। আবার যদি ওর উপর লাগে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে।”  কিন্তু ওই চ্যালেঞ্জ। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ফাইনাল আর মাঠের বাইরে বসে থাকব? নামলাম মাঠে। ওই অবস্থাতেই খেললাম পুরোটা। হারালাম মোহনবাগানকে। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছিলাম আমি।

কোচিং জীবনেও তাই। ৯৫-৯৬ সালে প্রথম ইস্টবেঙ্গলে কোচিং করতে আসি। টিম আহামরি কিছু ছিল না। বিদেশি নেই। ওই নিয়েই জিতেছিলাম কলকাতা লিগ আর ফেডারেশন কাপ। ৯৬-৯৭ মরসুমে প্রদীপদার (পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়) সহকারী হিসেবে কোচিং করিয়েছি। তারপর ৯৮-এ আবার একা। হাফ ডজন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, একটায় চ্যাম্পিয়ন আর বাকি পাঁচটায় রানার্স হয়েছিলাম।

২০০১-এর শুরুতে আমি ছিলাম না। তখন জাতীয় লিগ ১২ দলের। দু’পর্ব মিলিয়ে মোট ২২ ম্যাচ। দুটো ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পর টিমের দায়িত্ব নিই আমি। সেই দুটি ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট ছিল তিন। বাকি ২০টি ম্যাচের মধ্যে ১৯টি ম্যাচ হারেনি ইস্টবেঙ্গল। জাতীয় লিগ জিতেছিলাম। প্রথম জাতীয় লিগ এসেছিল লাল-হলুদ তাঁবুতে।

কিন্তু গত (এখনও পর্যন্ত শেষ) পর্বে খালিদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা না হলেই ভাল হতো। আমার মনে হয় খালিদ কারও পরামর্শ নেননি। উনি যদি কারও পরামর্শ নিতেন, তাঁরা বলতেন আমার সঙ্গে এটা করতে না। আমি একটা কথা বলতে পারি খালিদ নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মেরেছেন। সেই বছরের আগের বছর যখন দু’ম্যাচ বাকি থাকতে ট্রেভর জেমস মর্গ্যানকে সরিয়ে রঞ্জন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হল, তখন আমাকে বলা হল রঞ্জনকে একটু গাইড করার জন্য। শেষ দুটি ম্যাচ ছিল মিনার্ভা এবং মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। দুটি ম্যাচে ৭ গোল দিয়ে একগোল খেয়েছিলাম। তারপর খালিদ এলেন। আমাকে বলা হল, একই দায়িত্বে থাকতে। মানে ডিফেন্সটা মজবুত করতে হবে। কিন্তু আমার তো ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ঢুকে নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই। খালিদ বুঝলেন না। টিম ভাল ছিল। আমায় যুক্ত হতে দেননি। আমি সরে গিয়েছিলাম। কোনও মনোমালিন্য চাইনি। তাতে টিমের উপর প্রভাব পড়ত। চুপ করে সরে গিয়েছিলাম। ক্ষতি হোক চাইনি। আফটার অল ইস্টবেঙ্গল তো!

You might also like