Latest News

‘ডার্বির ভিলেন’ অরিন্দমকে প্রত্যাবর্তনের পথ বাতলে দেবেন কিংবদন্তি ভাস্কর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএসএলে গত মরসুমের সেরা গোলরক্ষকের মর্যাদা পেয়েছিলেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। তবুও তাঁকে এ মরসুমে রাখেনি এটিকে-মোহনবাগান। বরং ইস্টবেঙ্গল তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে দলনেতা করেছে। কিন্তু শতবর্ষের ডার্বিতে লাল হলুদের হারে অরিন্দমকেই দায়ী করা হচ্ছে। নায়ক থেকে রাতারাতি তিনি ভিলেনে পর্যবসিত হয়েছেন।

গতবারের তিনি ছিলেন গোল্ডেন গ্লাভস জয়ী গোলরক্ষক। অরিন্দমের দুই হাত মানে ভরসার প্রতীক, কিন্তু লাল হলুদের তিন গোল হজমের জন্য তিনিই নাকি দায়ী, এই নিয়ে আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, অরিন্দমের মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কী করে এই ভুল করতে পারেন।

যে গোলরক্ষক ক্লিনশিট গোলরক্ষকের মর্যাদা পেয়েছিলেন, তিনি পুরনো দলের বিপক্ষে কী চাপে পড়ে গেলেন? বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসছে নানা দিক। এও বলা হচ্ছে, শনিবার ভাস্কোর তিলক ময়দানে অরিন্দম চোট পেয়ে উঠে যাওয়ায় শাপে বর হয়েছে দলের। কারণ তিন গোল ২২ মিনিটের মধ্যে হজম করে নেওয়ায় তিনি বেদম হয়ে গিয়েছিলেন।

তারপরে উত্তরপাড়ার ছেলে শুভম সেন নামায় দলের পতন রোধ হয়। দলের পরিকল্পনা, পরের ম্যাচ থেকে শুভমই দলের গোলরক্ষা করতে পারেন। সেই নিয়ে অবশ্য সিদ্ধান্ত হয়নি।

অরিন্দম যেমন ডার্বিতে তিন গোল খেয়েছেন, তেমনি একই ঘটনা ঘটেছিল ৪৬ বছর আগেও। ১৯৭৫ সালের সেই কলঙ্কিত বড় ম্যাচে মোহনবাগানের গোলরক্ষক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় একাই চার গোল হজম করেছিলেন, বাকি গোলটি খেয়েছিলেন পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা গোলরক্ষক প্রশান্ত মিত্র। ভাস্করের মতোই এমনই এক কালো দিন অরিন্দমেরও।

ভাস্করের মনে রয়েছে ৪৬ বছর আগের সেই ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে ম্যাচ। সেই ম্যাচের কথা আর মনে করতে চান না। কিংবদন্তি গোলরক্ষক বলছিলেন, ‘‘কী হবে মনে রেখে ওসব ম্যাচ? তবে সাফল্য পেতে গেলে ব্যর্থতার দিনও মনে রাখতে হয়। আমি অরিন্দমকেও সেই পরামর্শ দেব, ও যদি ফোন করে সেই কথাই বলব। কারণ আমি ওই ব্যর্থতার পরেও ভারত সেরা গোলরক্ষক হয়েছিলাম। আমার পাশে ছিল সতীর্থরা, কোচরাও। অরিন্দমের পাশেও সবাইকে থাকতে অনুরোধ করব। ও সত্যিই ভাল গোলরক্ষক, একেকটি দিন এমন হয়ে যায়।’’

ভাস্করের মতো ডাকাবুকো গোলরক্ষকের বেশ মনে রয়েছে, ওই ম্যাচে মোহনবাগানের কোচ ছিলেন অরুণ ঘোষ, তিনি বেশ কয়েকদিন তাঁর হাওড়ার বাড়িতে ভাস্করকে নিয়ে রেখেছিলেন, যাতে মানসিকভাবে চাঙ্গা করা যায়, আর সেটি তিনি করেছিলেনও। অরিন্দমকেও মানসিকভাবে শক্তি জোগাতে তেমন কোনও মনোবিদ নিয়োগ করতে হবে।

ভাস্করের কথায়, ‘‘এখন তো সবাই পেশাদার, এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেউ নিজের মতো পাশে থাকবে না, তাই নিজেকে মানসিকভাবে উন্নত করতে গেলে মনোবিদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’’

ভাস্কর সেই ম্যাচের অন্ধকার কাটিয়ে আলোয় ফিরে এসেছিলেন, অরিন্দমের কাছেও সেই একই চ্যালেঞ্জ। পারবেন তিনি ফিরতে আলোর সরণীতে?

You might also like