Latest News

গতবারই সই করা ভুল হয়েছিল, তা হলে এবার সই করতে আপত্তি কেন ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের?

বাইচুং ভুটিয়া

 

আমার কাছে বিষয়টি খুবই জটিল লাগছে। এরকম হওয়ার তো কথা ছিল না। ইস্টবেঙ্গল এত বড় দল, তাদের পিছনে এত সমর্থন রয়েছে। ক্লাবে এত নামী সব কর্তারা রয়েছেন, অনেক অভিজ্ঞরা রয়েছেন তার মধ্যে। তারপরেও গত মরসুমে প্রাথমিক চুক্তিপত্রে দ্রুত সই করে দেওয়া হল কেন?

আমরা তো একটা বীমা কেনার সময়ও সবকিছু পড়ে নিয়ে থাকি। আর যেখানে ক্লাবের একটা টার্মশিটের বিষয় জড়িত, তারপরেও কোনওকিছু দেখা হল না? তা হলে কি গতবারই ভুলটা করা হয়েছিল, এই প্রশ্নের জবাব দেবে কে?

গতবার মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বিষয়টি দেখেছিলেন, তার মানে এই নয় যে সবকিছু সই করে খেলতে নেমে যেতে হবে। আগে তো পড়তে হবে চুক্তিপত্রে কোনও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে কিনা। বিদ্রোহ গতবারই দেখানো উচিত ছিল। যেহেতু এটিকে-মোহনবাগান খেলবে, সেই হিসেবে দ্রুত সব সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে নেমে গিয়েছিল দল, আর চরম ভুল হয় ওখানেই।

এবার তা হলে টার্মশিটে সই করতে এত দ্বিধা কেন কর্তাদের? কারণ দলের স্বার্থ সকলের আগে, ফুটবলাররা কোনওভাবে যাতে বঞ্চিত না হয়, সেটাই আসল বিষয়। তার থেকে বড় কথা, টার্মশিটে বেশ কয়েকটি সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। আমার কাছে খবর রয়েছে, এর দ্রুত নিস্পত্তি ঘটবে, সেটি কাল নয় পরশু। কোম্পানির আধিকারিকরাও ভাবছেন, তারা এত অর্থ বিনিয়োগ করছেন, সেই জন্য তাঁদের কথা মেনে চলতে হবে। এই নিয়ম সারা বিশ্বে চলছে, তারপরেও ক্লাবের স্বার্থও দেখা জরুরী।

গতবার যখন টার্মশিটে সই করার মতো পরিস্থিতি এসেছিল, সেইসময় ক্লাবে একটা প্রাক্তন ফুটবলারদের মধ্যে মিটিং হয়েছিল। সেই বৈঠকে আমরা কয়েকজন ফুটবলার এই চুক্তিতে সই করার প্রতিবাদ করেছিলাম। সেইসময় আমাদের কথা মানা হয়নি, তা হলে এখন এর প্রতিবাদ করে কী হবে? এতে করে ইস্টবেঙ্গল দলের ক্ষতি হবে, তাদের পরিচিতি ফুটবল খেলেই, সেদিক থেকে মাঠে না নামলে সমর্থকদের মনের অবস্থা ভেবে দেখতে হবে ক্লাবের।

যে কোনও শর্তেই কঠোর নিয়মের বিষয় থাকে, এক্ষেত্রে কর্তাদের আরও ভাবা উচিত ছিল। একটা ক্লাবের মার্জার ও ইনভেস্টরের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেটি হয়তো বুঝতে পারেননি কর্তারা, তাতেই সব বিতর্কের সূত্রপাত। তবে এও ঠিক, যে কোনও শর্তে দুই পক্ষের বেরিয়ে আসার বিষয় থাকে, এই টার্মশিটে সেটা নেই, এটা মানা যায় না।

তবুও বলব, সমর্থকদের কথা ভেবে, ক্লাবের ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে আইএসএলে খেলতেই হবে, না হলে সম্মান বলে কিছু থাকবে না।

 

 

 

You might also like