Latest News

চোটে খেলা ছেড়ে দেবেন ভেবেছিলেন, নায়ক শ্রীজেশের সোনার প্রত্যাবর্তন টোকিওতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলা শেষে তাঁকে ঘিরে আবেগের ঢল নেমেছিল টোকিও অলিম্পিক স্টেডিয়ামে। সবাই তাঁকে আলিঙ্গন করছেন। কারণ খেলার একেবারে শেষ সীমায় তিনি যদি দূর্গ না আগলাতেন, তা হলে খেলার পরিণতি কী হতো বলা যায় না। তাই শ্রীজেশ যেন এই জয়ের মধ্যমনি। ভারতের এই সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষককে দেখা গিয়েছে খেলা শেষ হতেই গোলপোস্টের ওপরে বসে ভিকট্রি দেখাচ্ছেন।

আজ তাঁরই দিন। ৩৩ বছরের এই তারকা জন্মেছেন কেরলের এর্নাকুলামে। তিনি ছোটবেলায় স্প্রিন্ট, ভলিবল এবং লং জাম্প খেলেছেন। কিন্তু যে স্কুলে পড়তেন সেখানকার স্পোর্টস টিচারই তাঁকে বলেন হকি খেলতে।

উচ্চতা বেশি হওয়ায় গোলকিপার হিসেবে সুযোগ পান শ্রীজেশ। ২০০৪ সালে জুনিয়র আন্তর্জাতিক হকি দিয়ে কেরিয়ার শুরু। প্রথম দিকে খুব একটা সাফল্য পাননি। বেশিরভাগ সময়েই পরিবর্ত হিসেবে সুযোগ পেতেন। কিন্তু ২০১১-য় এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত খেলায় জাতীয় দলের পাকাপাকি সদস্য হয়ে যান। এরপর এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পরপর সাফল্য পেতে শুরু করেন।

২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্যর্থতার পর ভেবেছিলেন খেলা ছেড়ে দেবেন। চোট-আঘাতে জাতীয় দল থেকে বাদও পড়েন। কিন্তু ঠিক সময়ে দলে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন। এই অলিম্পিকে নতুন করে নায়ক বনলেন কেরলের কিপার।

শ্রীজেশকে জীবনের সেরা পথ বলে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী অনিষা। তিনি যখন খেলা ছেড়ে দেবেন ভেবেছিলেন, সেইসময় স্ত্রী তাঁকে জানান এখনও দেশের হয়ে তাঁর অনেককিছুই দেওয়ার রয়েছে। সেটি মিলে গেল টোকিওতে। শ্রীজেশ যেন সোনার দিনে ফিরলেন, তিনি শুধু গোল আটকে দায়িত্ব শেষ করেন না, বরং পুরো দলকে খেলার বিষয়ে উদীপ্ত করেন গোলের সামনে থেকে।

এই শ্রীজেশের একটা মজার গল্প রয়েছে। সেইসময় ভারতের কোচ হরেন্দ্র সিং, তিনি পুরো দলকে ট্রায়ালে ডেকেছিলেন। প্রথমদিন শ্রীজেশ পরে গিয়েছিলেন কেরলের চির পরিচিত লুঙ্গি, সেই নিয়ে সবাই বলছিল, আরে তুমি এটা পরে কেন এসেছো? বলেছিলেন, এটাই তো আমাদের প্রধান পোষাক, তাই এসেছি। সবাই তাঁর কথা শুনে হেসে ফেলেছিল।

 

 

You might also like