Latest News

আদ্যোপান্ত ছিলেন মোহনবাগানী, এটিকে-র সঙ্গে সংযুক্তিকরণে সায় দিয়েছিলেন ‘অভিভাবক সুব্রত’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুব্রত মুখোপাধ্যায় (Subrata Mukhopadhyay) প্রকৃত অর্থেই মাঠের লোক ছিলেন। তিনি মোহনবাগান (Mohun bagan) ছাড়া আর কিছু জানতেন না। তবে চিরপ্রতিপক্ষ দুই ক্লাব ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিংয়ের কর্তাদের সঙ্গেও তাঁর সমান সখ্য ছিল। তিনি সকলের কথা শুনতেন, সেই মতো উদ্যোগী হতেন সমস্যা সমাধানের।
কংগ্রেসের দাপুটে নেতা থাকা থেকে শুরু করে তৃণমূলের মন্ত্রী, এই সময়ের মধ্যে বহুবার সবুজ মেরুন ক্লাবে খেলা দেখতে এসেছেন। লিগের ম্যাচ দেখতে তিনি ভালবাসতেন। তাঁর সঙ্গে পুরনো আমলের ফুটবলারদের দারুণ সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে সুব্রত ভট্টাচার্য থেকে প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কিংবা কম্পটন দত্ত থেকে মানস-বিদেশদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তিনি ফুটবলারদের কাছের মানুষ ছিলেন। সুব্রতকে সই করিয়েছিলেন একবার নিজ উদ্যোগে।
আদ্যোপান্ত তিনি মোহনবাগানী ছিলেন। বলতেন, আমার রক্তই সবুজ মেরুন। তবে বাকি দুই ক্লাব সমর্থকদের প্রতিও আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে। মোহনবাগানের যে কোনও সমস্যায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি মোহনবাগান দিবসে হাজির থেকে একাধিকবার দলের ফুটবলারদের পুরস্কৃত করেছিলেন।

সবুজ মেরুন পতাকায় ঢেকে দেওয়া হচ্ছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মরদেহ। রয়েছেন মোহন সচিব সৃঞ্জয় 

বিশিষ্ট আইনজীবী গীতানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরে তিনি মোহনবাগানের অস্থায়ী সভাপতি পদে বসেছিলেন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ক্লাবে আসার চেষ্টা করতেন। তাঁর প্রয়াণের খবর শোনার পরে মোহনবাগান ক্লাবের বর্তমান সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেছেন, ‘‘সুব্রত কাকুর সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। বাবার সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্ক ছিল। আমাদের বাড়িতেও তিনি এসেছেন বেশ কয়েকবার। আমাদের কাছে দারুণ ক্ষতি, ক্লাবও একজন সত্যিকারের অভিভাবককে হারাল। আমাদের ক্লাবের পতাকা তিনদিন অর্ধনমিত থাকবে, তিনি ক্লাবের বর্তমান সহ-সভাপতি ছিলেন।’’
এটিকে-র সঙ্গে মোহনবাগান ক্লাবের সংযুক্তিকরণ নিয়ে যখন সমস্যা চলছিল, সেইসময় তিনি কর্তাদের পাশে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বাস্তব পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে-র সঙ্গে সংযুক্তিকরণে সমস্যার কিছু নেই, তবে দেখতে হবে মোহনবাগানের সত্ত্বা যাতে নষ্ট না হয়। এও দেখতে হবে সমর্থকদের ভাবাবেগে যেন এই চুক্তি আঘাত না করে।’’
তিনি সেইসময় সভাপতি ছিলেন, তাই তাঁর মত বাকি কর্তাদের কাজকে সহজ করেছিল। তিনি এও জানিয়েছিলেন, ‘‘ক্লাবে অর্থ দরকার, তারজন্য কোনও সংস্থা যদি এগিয়ে আসে, তা হলে খারাপ তো কিছু নেই। বাস্তব ভাবধারা মাথায় রেখে চলা উচিত সকলের।’’
ক্লাবের যখন আইনজীবীদের রিসিভার বসেছিল, তিনি ছিলেন ওই বিশেষ কমিটিতে। আইনগত দিকগুলি সেইসময় তিনি ক্লাবের হয়ে দেখতেন। মোহনবাগানের দুঃসময়ে তিনি দলের ফুটবলারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে উদীপ্ত করে গিয়েছেন বহুবার। তিনি নিজেও একটা সময় নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।
যদিও ফুটবলের পাশে কবাডি ও টেবল টেনিস নিয়েও আগ্রহ ছিল। ওই দুই সংস্থার কার্যকরি সভাপতিও হয়েছিলেন। কবাডি তাঁবুতে তিনি কর্তাদের সঙ্গে মিটিং করতে যেতেন। টেবল টেনিসের তিনটি গোষ্ঠীর বিভাজন নিয়ে বীতশ্রদ্ধ ছিলেন। প্রায়ই বলতেন, ‘‘সোমনাথদা-র (চট্টোপাধ্যায়) মতো ব্যক্তিত্ব টিটি-র সমস্যা দূরীকরণ করতে পারেননি, আমি কী পারব সবাইকে একত্র করতে?’’
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের জীবনাবসানে মাঠও হারাল একজন প্রকৃত ক্রীড়াপ্রেমী মানুষকে।

You might also like