Latest News

মেরির দেখানো পথেই সাফল্যের সরণীতে লভলিনা, পাখির চোখ সোনাই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টোকিও অলিম্পিক ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন লভলিনা বড়গোহাই। তবে তাতেই থামতে রাজি নন তিনি। ভারতীয় বক্সার চাইছেন সোনার পদক। সেমিফাইনালে উঠে সেই কথাই জানালেন তিনি।

শুক্রবার চাইনিজ তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে দেন লভলিনা। সেমিফাইনালে উঠে লভলিনা বলেন, ‘‘কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে দারুণ লাগছে। এ বার সেমিফাইনাল জেতাই লক্ষ্য। চেষ্টা করব আরও ভাল খেলতে। ভারতের জন্য সোনা জিততে চাই। সেটাই আমার আসল লক্ষ্য।’’

লন্ডন অলিম্পিকে প্রথম মহিলা বক্সার হিসেবে পদক জিতেছিলেন মেরি কম। গোটা ভারত যখন মেরির সাফল্যে উদ্বেলিত, তখন অসমের গোলাঘাট জেলায় এক ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়নের প্রথম পাঠ শুরু হয় বক্সিংয়ের। ১৪ বছর বয়সে নজরে পড়েন অসমের বিখ্যাত বক্সিং কোচ পাদুম বোরোর।

অনটনের মধ্যেই বড় হয়েছেন। বাবার ছোট ব্যবসা অসমের গোলাঘাটেই। ছোটবেলা থেকেই দেখতেন দুই বড় দিদি লিচা ও লিমা কিকবক্সিংয়ে মেতে থাকতেন। জাতীয় স্তর পর্যন্ত খেলেওছেন তাঁরা। তখন থেকেই মনে মনে পুষে রেখেছিলেন একদিন দিদিদের মত বক্সার হবেন। তবে আর্থিক অনটনের কারনে দুই দিদির কিক বক্সিং নিয়ে আর এগোনো হয়নি। চোখের সামনে স্বপ্নগুলো তখন ধূসর হচ্ছে লভলিনা।

তারপরেই অন্যদিকে মোড় নিয়েছে তাঁর ঘটনা। অলিম্পিকে পদক জিতলেন মেরি কম। দমে যাওয়া ইচ্ছাশক্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল লভলিনার। ঠিক সেই সময়ই অসমে সাইয়ের পক্ষ থেকে বারপাথা গার্লস হাইস্কুলে ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হয়। ট্রায়ালে অসমের বিখ্যাত বক্সিং কোচ পাদুম বোরোর নজরে পড়েন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মাত্র ছ বছর বক্সিংয়ের শিক্ষা। তার মধ্যে ২০১৮ সালে কমনওয়েলথ গেমসে ডাক পান লভলিনা। তবে আশাহত করেন তিনি। ওয়েল্টারওয়েট বিভাগে স্যান্ডি রায়ানের কাছে হার কোয়ার্টার ফাইনালে। স্যান্ডি রায়ানই জেতেন কমনওয়েলথ গেমসে সোনা। কমনওয়েলথ গেমসের আগে অবশ্য ভারতীয় বক্সিংয়ে নজর কাড়তে শুরু করেছিলেন লভলিনা।

২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারিতেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ইন্ডা ওপেনে সোনা জেতেন লভলিনা। তার আগের বছরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কাড়তে শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে এশিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন লভলিনা। প্রেসিডেন্ট কাপেও জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ।

২০১৮ ও ১৯ পরপর দু’বারই বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জয়। তার ভিত্তিতেই অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন। তিনি মনে করে এসেছেন জাতীয় শিবিরে থাকার সময় মেরি কমের মতো কিংবদন্তিকে বারবার দেখেই তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রাণিত। সেই কারণেই বলেছেন, আমি মহম্মদ আলির ফ্যান হতে পারি, কিন্তু চোখের সামনে মেরি দিদিকে দেখেই সবকিছু শিখেছি।

 

 

 

You might also like