Latest News

East Bengal। Emami: ২৫ বছর পর ইমামি ফিরল ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে, নস্টালজিয়ার গন্ধে বিভোর লাল-হলুদ জনতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবল মাঠে পয়মন্ত বলে একটা চালু কথা রয়েছে। মানে ‘লাক ফ্যাক্টর।’ বুধবার আইএসএলে (ISL) ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal Emami) নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে ‘ইমামি’-র (Emami) নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই লাল-হলুদ জনতা হাঁটতে শুরু করেছে স্মৃতির সরণিতে। নস্টালজিয়ার গন্ধ লেগে থাকা ইমামি লেখা সেই লাল-হলুদ জার্সিও হঠাৎ করেই যেন নতুন হয়ে উঠেছে।

২৫ বছর আগের কথা। ইস্টবেঙ্গলের প্রথম স্পনসর ছিল ইমামি। ১৯৯৫-৯৬ এবং ১৯৯৬-৯৭ মরসুমে ইমামি লেখা জার্সিতে একের পর এক ট্রফি জিতেছিলেন তুষার রক্ষিত, দুলাল বিশ্বাস, বাসুদেব মণ্ডল, স্যামি ওমেলোরা। বহুদিন ট্রফির মুখ না দেখা ইস্টবেঙ্গল জনতাও তাই ইমামিতেই খুঁজছে ‘লাক ফ্যাক্টর।’

Roy Krishna: রয় কৃষ্ণকে বড় প্রস্তাব ইস্টবেঙ্গলের, স্ত্রী সায় দিলে তবেই লাল হলুদে ফিজি তারকা

ক্রীড়া প্রবন্ধকার দেবাশিস সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, “ওই দুই মরসুমে ইস্টবেঙ্গল হাফ ডজন ট্রফি জিতেছিল। ১৯৯৫-৯৬ মরসুমে এসেছিল চারটি ট্রফি—কলকাতা লিগ, আইএফএ শিল্ড, ডুরান্ড কাপ এবং অল এয়ারলাইন্স কাপ। ১৯৯৬-৯৭ মরসুমে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির লাল-হলুদ তাঁবুতে এসেছিল কলকাতা লিগ ও ফেডারেশন কাপ।

প্রাক্তন ফুটবলার তুষার রক্ষিতের কথায়, “ইমামি গ্রুপ আসা অবশ্যই আমাদের কাছে একটা নস্টালজিক ব্যাপার। সেবার ইমামি গ্রুপের আধিকারিকরাও দলের ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।” তিনি আরও বলেন, “ইমামির সময়ে আমরা অনেক ট্রফি পেয়েছিলাম, সেই গোল্ডেন কামব্যাক হলে ভাল লাগবে। তবে এটুকু বলতে পারি, ইস্টবেঙ্গল বড় দল, তাদের গত দু’বছর ভাল যায়নি। সেই খারাপ সময় কাটিয়ে আবারও ভাল সময় আসুক, সেটাই একজন প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে চাইব।”

প্রাক্তন গোলরক্ষক সুমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, “ইমামি বড় গ্রুপ, মাঠের মধ্যে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের মধ্যে তো লড়াই হবেই। পাশাপাশি সিইএসসি ও ইমামির মতো কর্পোরেট গ্রুপের লড়াইও জমবে আশা রাখি। ক্লাবে বিনিয়োগ এসেছে, এটাই বড় কথা। একটা ভারতীয় কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের প্রতি, এটা ভাল দিক। আমরা চাইব ইমামির হাত ধরে ইস্টবেঙ্গলে ফের সোনালি দিন আসুক। তাদের দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটুক।”

দুলাল বিশ্বাস (১৯৯৭ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক) বলেন, “ইমামি ইস্টবেঙ্গলের কাছে লাকি কোম্পানি। ওরা দলগঠনটা কার্যকরিভাবে করে। আমাদের সময়ে টিমে ছিলেন ছিল প্লেটো ও মার্সেলো। সেইসঙ্গে কেনিয়ার স্যামি ওমেলো। গোলরক্ষককেও কেনিয়া থেকে নিয়ে এসেছিলেন স্যামি। ইস্টবেঙ্গলের মতো দল কতদিন ধরে ট্রফিহীন, এভাবে চলতে পারে না। ইমামির কর্তাদের সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা ঠিক থাকুক, ট্রফি আসুক তাঁবুতে।”

আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপেই বিনিয়োগ পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। এবার দল গঠনের পালা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ করতে হবে ইস্টবেঙ্গল ও ইমামি গ্রুপকে। সমর্থকদের এখন একটাই চাওয়া, ইমামি লেখা জার্সিতে আবার ফিরুক ট্রফি জেতার গন্ধ। ঠিক আড়াই দশক আগে যেমন ছিল।

You might also like