Latest News

বাঙালির চিরন্তন ম্যাচ ‘ডার্বি’ হল ঠিকই, কিন্তু ক্যারিশমা হারিয়ে গিয়েছে ফুটবলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শতবর্ষের ডার্বি। সেঞ্চুরির ডার্বি। কতরকমভাবে আজ শনিবারের ম্যাচকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ১৯২১ সালে প্রথমবার যে বড় ম্যাচ হয়েছিল, তার বৃত্ত সম্পূর্ণ হচ্ছে এদিন। ১০০ বছরের বড় ম্যাচের ইতিহাসে কত সব রং, কত ঘটনার সমারোহ, সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছে এই খেলার উৎকর্ষতা, আবেগের চক্রবুহ্যে।

পাড়ার চায়ের দোকানে দুই অশতিপর বৃদ্ধের কথা শুনলেই মনে হয় মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল বাঙালির হৃদয়ে অবস্থান করছেন।

মধু মিত্তির: হ্যাঁ,গো খোকনের বাবা শনিবারের ম্যাচে জিতবে কে?

মিহির  সমাদ্দার: এখন খেলার খবর রাখি না গো আর, জানি না কে জিতবে।

মধু মিত্তির: বলো কী! একটা সময় বড় ম্যাচের টিকিট দিতে পাড়াশুদ্ধু লোককে, তুমি না কাস্টমসে কাজ করতে? নিজেও তো খেলেছে কলকাতা ময়দানে?

মিহির সমাদ্দার: সে তো খেলেছি, কিন্তু এখন যা খেলার হাল ভাল লাগে না, বাংলার ছেলেই নেই তেমন, শুধু বিদেশী, আর বাইরের ছেলেদের রমরমা। খেলা দেখার ইচ্ছে নেই।

মধু মিত্তির: কে খেলছে বড় কথা নয়, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল মাঠে নামছে, আর তোমরা এক্স ফুটবলার হয়ে সেই খেলা দেখবে না, এমনটা করো না, এতে ফুটবলকে অসম্মান করা হবে।

মিহির সমাদ্দার: বলছো? তবে শুনলাম এই ম্যাচে নাকি দুই দলের অধিনায়ক হয়েছে দুই বাঙালি ছেলে, একদিকে থাকবে অরিন্দম, অন্যদিকে প্রীতম কোটাল, তা হলে তো জমে দই।

মধু মিত্তিরের মনে পড়ছে ১৯৫০ সালের ডার্বি ম্যাচের কথা। সেইসময় ডার্বি নয়, সবাই বলতো বড় খেলা, সেটাই কালেক্রমে ডার্বি হয়েছে। ৯২-র বৃদ্ধ বলছিলেন, সেইসময় টেম্পোতে করে খেলা দেখতে যেতাম গড়ের মাঠে। বর্ষার সময় হাইড্রেনগুলিতে জল পূর্ণ থাকত, কতবার ডিঙতে গিয়ে পড়ে মরেছি। হাত-পা কেটে গেলেও যন্ত্রনা থাকত না মোহনবাগান জিতলে।

মিহিরবাবু আবার পাঢ় বাঙাল, কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে এ দেশে এসে নিজের অধিকারে সব করেছেন, থিতু হয়েছেন। লাল হলুদের রক্ত মানে জার্মান রক্ত তাঁদের শরীরে। হারের আগে হারব না, এই তাঁদের দলের মন্ত্র। বলরাম, রামবাহাদুরদের খেলা দেখে যৌবন কেটেছে। এই বয়সে এসে প্রীতম, শুভাশিস, রফিকদের খেলা দেখে মন ভরে না।

খেলার সেই ক্যারিশমা কোথায়? সৃজনশীলতার খুব অভাব এই ছেলেদের। মধু মিত্তিরের মনে পড়ছে, শৈলেন মান্না, কেস্ট সেনদের খেলা। ধীরেন দে, উমাপতি কুমারদের সেই প্রতাপ। তাঁর কথায়, সেই কর্তারাও নেই ময়দানে, সবাই নিজেদের স্বার্থ দেখছে, আর টিভিতে মুখ দেখাচ্ছে, দলের কথা কেউ ভাবে না।

দলের মধ্যে ভারসাম্য নেই, আক্রমণে ভালমানের বিদেশী, রক্ষণ নড়বড়ে। আগে কর্তারা খেলাটাও বুঝতেন, তাঁরা কোনও অংশে কোচের চেয়ে কম ছিলেন না। তাঁরাও ফুটবলারদের স্পট করতেন, এখন কর্তারা শুধু টাকা চেনেন, আর ফুটবলার এনে কাটমানি পকেটে ভোরেন।

তাই খেলার মান ক্রমে কমছে, বরং অযোগ্য বিদেশীদের ভিড়ে বাংলার ছেলেরাই মার খাচ্ছেন। পরিকাঠামো নেই, ভাল করার ইচ্ছেও নেই। শুধু ডার্বির কথা বলে আবেগকে সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা।

You might also like