Latest News

বড় ম্যাচের আবেগ, মাহাত্ম থাকলেও বঙ্গসন্তানদের সেই নাম, যশ আর নেই

প্রবীর ঘোষাল

 

আমি ফুটবলের অন্ধ অনুরাগী। রাত জেগে বিশ্ব ফুটবল দেখি, আমার ভাল লাগে। ওই ফুটবল দেখলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। তারপর যখন আমাদের এসব ফুটবল দেখি, সেইসময় ভাবি কী দেখছি আমি!

আমি আমাদের ফুটবলকে একবারও ছোট করছি না, কিন্তু ফুটবলের সেই উৎকর্ষতা যা ছিল আমাদের, সেটি এখন আর নেই। এগুলো দেখতেই খারাপ লাগে।

আইএসএলে আমাদের বাঙালি ছেলে রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের সেই নাম, যশ নেই, যা দিয়ে মাঠে লোক টানে, সেগুলি উধাও। বিদেশীদের রমরমা রয়েছে, তাও যদি উন্নত ফুটবল হতো, মানা যেত।

তবুও মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের নামেই আবেগ, তার মাহাত্ম আলাদা। সেই কারণে আপামর বাঙালি এখনও তাদের সেই আবেগ নিয়ে বেঁচে রয়েছে। আমাদের বাড়িতেও তাই, মোট ৪৩টা রেশনকার্ড রয়েছে, বড় ম্যাচ হলে তার আলাদা আকর্ষণ। সবাই নিজেদের দলের প্রতি সমর্থন শুরু করে দেয়, যেন মহাযজ্ঞ, এটাই চিরন্তন ম্যাচ বাঙালির কাছে।

আমাদের বাড়িতে খেলারই একটা ঘর রয়েছে। টিভিতে সারাক্ষণ ওই ঘরে খেলাই চলছে, সবাই সেখানে আনন্দ করছে। বড় ম্যাচ হলে কী অবস্থা হয় ওই ঘরে, সহজেই অনুমেয়। তাই বড় ম্যাচের উন্মাদনাকে উপেক্ষা করা যাবে না, এর একটা জাদু রয়েছে।

ফুটবলের গুণগত মান নিয়ে পরে আসছি, আমার মনে পড়ছে কয়েকদিন আগে প্রয়াত নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের শ্রাদ্ধবাসরে হাজির ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ফুটবলের উন্মাদনা নিয়ে কথা হচ্ছিল।

একটা সময় সুব্রতদা-ই (প্রয়াত রাজনীতিবিদ) আমাদের মতো সাংবাদিকদের বলতেন, ‘‘খবরের কাগজের প্রথম পাতায় সুব্রত, আর শেষপাতাতেও সুব্রত (ভট্টাচার্য)। সে ভাল খবরে হোক কিংবা বিতর্কিত খবরে।’’

সেইসময় মোহনবাগানে সুব্রত ভট্টাচার্যকে নিয়ে একটা বিতর্ক চলছিল। সেই নিয়েই প্রয়াত নেতার বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। সেই শুনে সুব্রতদা (রাজনৈতিক নেতা) মশকরা করেই বলেছিলেন, ‘‘তা হলেই তোমরা দেখো সুব্রতর নামে কী রয়েছে!’’ সেই শুনে আমরা হাসতাম ঠিকই, আবার এটিও ঠিক, সেই নামের মাহাত্ম আর নেই ফুটবলারদের।

বড় দলে খেলেও সেই নাম নিয়ে আগ্রহ নেই বাঙালির। শুধু সুব্রত কেন, আগেকার ফুটবলারদের নামগুলি উচ্চারণ করলেই একটা আলাদা উন্মাদনা তৈরি হতো, সেটি এখন আর নেই। সে যতোই ডার্বি নিয়ে উন্মাদনা থাকুক, কিংবা বড় ম্যাচ নিয়ে হাসি-কান্না থাকুক।

আমি বলতে চাই, বিদেশীদের রমরমায় বাংলার ফুটবলের কোনও উন্নতি হচ্ছে না। আগেও মজিদ, চিমা, ব্যারেটোরা খেলে গিয়েছেন, কিন্তু সেইসময়ও দলে বাংলার ফুটবলারদের আধিক্য ছিল, সেটি কমতে কমতে দূরবীন লাগবে বঙ্গসন্তান খুঁজতে, এটাই কষ্টের আমাদের কাছে।

 

You might also like