Latest News

টিকিটের আকাল, সমর্থকদের বিক্ষোভ, ঘোড়পুলিশের দাপট, ময়দানে ফিরল আশির দশক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) মাঝমাঠে কি পিন্টু চৌধুরী?

মোহনবাগানের (Mohun Bagan) ডানদিকে কি গৌতম সরকার? একটা হাফ টার্নে থ্রু বাড়াবেন প্রসূনকে লক্ষ্য করে?

টিকিটের আকাল, ঘোড়পুলিশের দাপাদাপি, কাকভোর থেকে ক্লাব গেটের সামনে লম্বা লাইন, সমর্থকদের বিক্ষোভ- এসব টুকরো টুকরো কোলাজে ময়দানে ফিরল আশির দশক।

২০২২ সালে প্রথম বড়ম্যাচ (Kolkata Derby) ঘিরে তুমুল উত্তেজনা গড়ের মাঠে।

তিন বছর পর ডার্বি ফিরছে কলকাতায় (Kolkata)। করোনার প্রকোপে যা দু’বছর আগে মাণ্ডবীর তীরে চলে গিয়েছিল, তা আবার ফিরেছে গঙ্গাপাড়ের শহরে। আগামী রবিবার যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের খেলায় ফের মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। আর এই ম্যাচ ঘিরেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল ওয়ালে উত্তেজনার পারা চড়ছিল। ম্যাচের ৭২ ঘণ্টা আগে সমর্থকদের বাঁধভাঙা আবেগ আছড়ে পড়ল লেসলি ক্লডিয়াস সরণি এবং গোষ্ঠ পাল সরণিতে।

ডুরান্ড কাপের আয়োজক অর্থাৎ ভারতীয় সেনা বহু আগেই অনলাইনে বড় ম্যাচের টিকিট ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু অনেকেই তখন টিকিট কাটতে পারেননি। কারণ, ১০ মিনিটের মধ্যেই সোল্ড আউট হয়ে গিয়েছিল সমস্ত টিকিট। তাই বাধ্য হয়েই অফলাইন টিকিট বিক্রির অপেক্ষায় বসেছিলেন দুই ক্লাবের সমর্থকরা।

অনলাইন টিকিট বহু আগেই শেষ। অফলাইনেও টিকিট প্রায় নেই বললেই চলে। মোহনবাগান ক্লাব থেকে মাথাপিছু দুটি টিকিট ও ইস্টবেঙ্গল জনপিছু একটি করে টিকিট দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এরপরেও সমর্থকদের উন্মাদনায় ভাটা পড়েনি। শুক্রবার মোহনবাগান ক্লাবের সামনে সেই টিকিট না পাওয়া নিয়েই উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ছুটে আসতে হয় ময়দান থানার পুলিশকে।

মোহনবাগানে টিকিট নিয়ে ধুন্ধুমার! রাস্তা অবরোধ সমর্থকদের, নামল পুলিশ

এদিন ভোররাত থেকেই মোহনবাগানের তাঁবুর সামনে সমর্থকরা টিকিটের জন্য ভিড় করতে শুরু করেন। বেলা যত বাড়তে থাকে সেই ইডেন উদ্যান ছাড়িয়ে প্রায় বাবুঘাটের দিকে চলে যায়। সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুর গড়াতেই তা লাগামছাড়া হয়ে যায়। সমর্থকদের অভিযোগ, ভোর থেকে লাইন দিয়েও টিকিট পাননি তাঁরা। এরপরই পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। একটা সময় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে করতে নামানো হয় মাউন্টেন পুলিশও। তাদের তাড়া খেয়ে ছন্নছাড়া হয়ে যায় উত্তেজিত সমর্থকেরা।

East Bengal-Mohun Bagan

মোহনবাগানে যখন উন্মত্ত জনতার দাপাদাপি, ইস্টবেঙ্গলে তখন ঠিক যেন উল্টো ছবি ধরা পড়ল। এদিন দুপুর দুটো থেকে অফলাইন টিকিট বিক্রির ঘোষণা করা হয়েছিল ক্লাবের তরফে। সেই মতো সকাল আটটা থেকেই লাইন পড়তে শুরু করে লাল-হলুদ তাঁবুর সামনে। ধীরে ধীরে সেই লাইন পৌঁছে যায় সেন্ট্রাল এক্সাইজ ক্যান্টিনের কাছাকাছি। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সামনে কোনওরকম উত্তেজনা ছড়ায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক সমর্থকের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সকলেই ছাতা মাথায় বসে আছে। কড়া রোদে তখন কমবেশি সকলেই কাহিল। তাই লাইনে না দাঁড়িয়ে সকলেই প্রায় বসে পড়েছেন পিচের রাস্তায়। পাঁচ হাত দূর দূর তখন সমর্থকদের জটলা। একটা-দুটো ছাতার তলায় গোল করে কোনওরকমে বসে আছেন পাঁচ-সাতজন।

East Bengal-Mohun Bagan

এমন টুকরো টুকরো ছবির কোলাজ দেখে অনেকেই স্মৃতির সরণি বেয়ে পৌঁছে গেছেন আশির দশকে। অনেক প্রবীণ সমর্থকের মতে, আশির দশকে ডার্বি নিয়ে এমন উত্তেজনা দেখা যেত। তাই বলাই যায়, এখনও পর্যন্ত ডুরান্ড কাপে ময়দানের দুই প্রধান দল খুব একটা ভাল ফলাফল করতে না পারলেও আঠাশের ডার্বি নিয়ে আলাদাই মেজাজে দু’দলের সমর্থকরা।

You might also like