রোনাল্ডোদের চিন্তা নেই, ওদের ইমিউনিটি পাওয়ার বেশি বলেই দ্রুত মাঠেও ফিরে আসবে

১১৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ডাঃ শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত
(বিশিষ্ট চিকিৎসক, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সহ সচিব)

যে ভাইরাস আমেরিকা হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করে গিয়েছে, তাকে আটকাবে কার সাধ্যি! এখন মনে হয় শুধু বাকিংহ্যাম প্যালেসটা বাকি রয়েছে। তাও কোনদিন দেখব…।

এটা এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। যারা খোলা আকাশের নিচে থাকছে, তারা মনে হয় বেশি সুরক্ষিত আমাদের চেয়ে। মানে যারা অপেক্ষাকৃত ঘরের ভেতরে রয়েছে, কিংবা মনে করছে আমরাই বেশি সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রয়েছি। তাদের চিন্তা বেশি থাকার কথা, কেননা বাইরে থেকে ভাইরাস নিয়ে এসে একজন হার্ড ইমিউনিটি ব্যক্তি যদি পরিবারের বয়স্ক, রোগী মানুষদের সংস্পর্শে আসেন, তা হলে আরও মারাত্মক।

যিনি ভাইরাস নিয়ে এলেন, তাঁর হয়তো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই রয়েছে, কিন্তু বাকিদের থাকবে, তার গ্যারান্টি কোথায়! সেই কারণেই দেখতে হবে, যতটা সম্ভব নিজেদের মধ্যে দুরত্ব তৈরি করা। হয়তো সেটি সহজ কাজ নয়, একটাই ঘর, বা দুটি ঘর, তারা কী করবেন, আলাদা তো থাকা যায় না। সেই কারণেই বয়স্ক যাদের বাড়িতে রয়েছে, তাঁদের সাবধানতা অবলম্বন জরুরী।

মাঝেমধ্যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থেকে সল্টলেকের বাড়িতে ফিরি বেলেঘাটা খাল পার দিয়ে। যাওয়ার সময় ভাবি, এই খাল পারের বাসিন্দাদের কী করোনা হয় না, ওদের সকলের টেস্ট হয়েছে? নাকি এদের কোনওদিন ডেঙ্গু হয়নি? কথাটি দয়া করে অন্যভাবে নেবেন না, শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, হয়তো দেখা যাবে ওই বাসিন্দাদের প্রত্যেকেরই কোভিড ১৯ পজিটিভ। তারপরেও কোনও সমস্যা নেই। এদের নেই কোনও উপসর্গ, নেই কোনও প্রতিক্রিয়া, কিন্তু কেন? কারণ ওই মানুষদের ইমিউনিটি আপনা হতেই শরীরে তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই রোদে পুড়লেও কিছু হয় না, আবার অতি শীতেও একটা ফিনফিনে জামায় কাজ চালিয়ে দেয়। তাই বাকিদের থেকে ওদের ইমিউনিটি হাজার গুন বেশি, ওদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই বেশি হয়ে থাকে।

এবার আসি খেলার মাঠের প্রসঙ্গে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো করোনার শিকার হতেই অনেকেই প্রশ্ন করছে, তা হলে কী চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে ভাবার সময় এসেছে? তা হলে কী কেউই নিরাপদ নয়? এর কোনও উত্তর নেই পরিষ্কারভাবে। শুধু এটুকু বলতে পারি, রোনাল্ডো, নেইমার, উসেইন বোল্ট, সাদিও মানে, ইব্রাহিমোভিচদের করোনা হতেও এরা ফিরে এসেছেন দ্রুত। এই তো সেদিনই নেইমারের শরীরে ভাইরাসের চিহ্ন মিলল, কিন্তু আবার ম্যাচে ফিরেও এল। পেরুর বিরুদ্ধে তো গতরাতে হ্যাটট্রিকও করে ফেলল।

এগুলি সাধারণরা পারবে না, কারণ তারা অতি দ্রুত সুস্থ হতে পারবে না। সবসময় মাথায় রাখতে হবে ক্রীড়াবিদদের অ্যান্টিবডি অন্যদের থেকে অনেক ভাল। ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলেও সেটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারবে না। কারণ তাদের ফিটনেস সূচী, মাল্টি ভিটামিন প্রয়োগ, নিয়মের আবর্তে চলাটাই বাকিদের থেকে পার্থক্য করে দেয়। এমনকি ওদের হার্ড ইমিউনিটি এমনিতেই রয়েছে, তাই দ্রুত ফিরে আসবে দৈনন্দিন কাজে।

রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে তো কোনও উপসর্গই নেই। বিশ্বের যে কোনও মেগা টুর্নামেন্টে সপ্তাহে তিনবার কোভিড ১৯ পরীক্ষা হচ্ছে। সাধারণের কাছে সেই সুযোগ কোথায়, তাই ভাইরাস শরীরে থাকলেও ধরা পড়ছে না। এই আইপিএলেও ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে আলিঙ্গন করছে, কাছাকাছি থাকছে একটাই কারণে, তারা জৈববলয়ের মধ্যে রয়েছে। সবাইয়ের রিপোর্ট নেগেটিভ বলেই তারা ওই কেন্দ্রে থাকতে পারছে। তাই তারা চিন্তা মুক্ত হয়ে সবাই মিলে একসঙ্গে থাকছে।

(লেখক বিশিষ্ট চিকিৎসক ও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সহ সচিব)

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More