বরফ গলল, সমঝোতাও হল, কিন্তু শর্ত মেনেই ইনভেস্টরদের সঙ্গে চলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে

২৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বরফ গলল, সমঝোতাও হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ-বিসম্বাদও দেখা গিয়েছে, তবুও সবশেষে স্বস্তি, ইস্টবেঙ্গলে ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্ট থাকছে। এবং লাল হলুদ প্রত্যাশিতভাবেই আইএসএলও খেলবে এ মরসুমে।

টানা চার ঘণ্টার সভা, যে তিনটি শর্ত নিয়ে কথা হবে ভাবা গিয়েছিল, সেগুলি নিয়ে তো হলই, পাশাপাশি আরও কিছু গোপন শর্তও মানতে বাধ্য হলেন লাল হলুদ কর্তারা। কিন্তু দুই পক্ষই মানছে কিছু পেতে গেলে কিছু ছাড়তে হবেই। তাই একে অপরকে দোষারোপ করে লাভ নেই। বরং ক্লাব ও ইনভেস্টর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে বাকি দিনগুলিতে।

বিশেষ সাধারণ সভায় ওঠা তিনটি শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। তাতে ইনভেস্টরদের আধিকারিক অনেকটাই সদস্যদের স্বাধীনতা নিয়ে নিজেদের শিথিল মনোভাব প্রকাশ করলেও পাশাপাশি বলে রেখেছেন, আগামী দিনে কোনওভাবেই যাতে ক্লাব কর্তারা বিষয়গুলি উত্থাপন করে ফের বিতর্ক না উসকে দেন।

সব থেকে প্রাসঙ্গিক বিষয় হল, গত সোমবার অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তারা নিজেদের প্রস্তাব ইনভেস্টরদের কাছে রাখেন। সেখানে বলা হয় ক্লাব সদস্যদের বিষয়ে সরাসরি কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না বিনিয়োগকারী সংস্থা। আবার এও জানতে চাওয়া হয়, ক্লাবে মোট সদস্যদের কারা সক্রিয় সদস্য।

এমন সদস্যরা রয়েছেন, যাঁরা ক্লাবের কোনও কার্যকলাপে অংশ নেন না। এমনকি দলের খেলা দেখতে যুবভারতীতেও যান না। অথচ তাঁরা সদস্য হয়ে বসে রয়েছেন দিনের পর দিন। তাঁদের দেখা যায় স্রেফ ভোটের মুহূ্র্তে। ওই সদস্যদের ক্ষেত্রে ক্লাব কী ভাবছে জানতে চাওয়া হয় সভায়।

শর্তে উল্লেখ ছিল, সদস্যদের ভোটের ভিত্তিতে ক্লাবের কার্যকরি কমিটির সদস্যরা ঠিক হতেন, সেটি কীভাবে অপরিবর্তিত রাখা যায়, এই প্রশ্নে ইনভেস্টররা জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন, যাতে কোনও সমস্যা না হয়।

আচমকা কেন ইনভেস্টরদের পক্ষ থেকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও উঠেছে। কেননা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই পক্ষ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিল। এমতাবস্থায় কোনও কোম্পানি সরে গেলে তাতে অন্য বার্তা যেতে পারে। সেই প্রশ্নে অবশ্য ইনভেস্টরদের পক্ষ থেকে নরম সুর শোনা গিয়েছে।

আবার পাশাপাশি এও বলা হয়েছে, লিখিত আকারে বন্ডে সই হয়ে যাওয়ার পরে কোনও প্রশ্নে কোম্পানির বিরোধিতা করা যাবে না, এমনকি কোনও সদস্য যাতে ভবিষ্যতে আদালতে না যেতে পারেন ইনভেস্টরদের বিরুদ্ধে, সেটিও পরিষ্কার করে নেওয়া হয়েছে। এমনকি কর্তারাও কোনও বিষয়ে বিরুদ্ধাচারণ করতে পারবেন না, তাও বলে নেওয়া হয়েছে।

বিগত পাঁচ বছরের অডিট পেশ, পূর্ববর্তী ক্লাবের কোনও বকেয়া নয়া ইনভেস্টর মেটাবে না, সেটিও বলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া বাকি খেলার স্পোর্টিং রাইটসও বিনিয়োগকারীর হাতেই থাকবে।

ক্লাবের এক নামী কর্তার সঙ্গে রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা জানতামই ইনভেস্টর কখনই যাবে না। ওরা চাপে রাখতেই এমন কথা বলছিল। কারণ যে কোম্পানি আমাদের হয়ে আইএসএল খেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা দিয়ে দেয়, তারা কেন পিছিয়ে আসবে বিনিয়োগের বিষয়ে? এটা তো সাধারণ ভাবনা। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বাঙ্গুর গোষ্ঠী আমাদের সঙ্গে হাত মেলায়, সেই হাত তারা ছেড়ে চলে যাবে, এটা কখনও হয়? তা হলে তো মুখ্যমন্ত্রীকেই পরোক্ষে অমর্যাদা করা হয়।’’

কর্তাদের একাংশ তাই মনে করছেন, কোনও সমস্যাই ছিল না। তাঁদের যুক্তি, যেহেতু আমাদের আগে চুক্তি হয়েছে, পরে আলোচনা হয়েছে, তাই এত বিতর্কের গন্ধ খুঁজছেন অনেকে, না হলে দুই পক্ষের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই। আমরা আইএসএলে খেলব পূর্ণ শক্তি নিয়েই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More