রবিবার, নভেম্বর ১৭

আমি আমার স্ত্রীর চেয়ে বেশি রোনাল্ডোর সঙ্গে শুয়েছি: রবার্তো কার্লোস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও তাঁর খেলা সারা পৃথিবীর ফুটবলপ্রেমীদের মন কেড়ে নিয়েছিল। সেই রবার্তো কার্লোসের সঙ্গে রোনাল্ডোর (ব্রাজিলীয়) বন্ধুত্ব কতটা গভীর তা বোঝাতে গিয়ে এমন কথা বলেছেন এই লেফট ব্যাক, সেটাই এখন নেট দুনিয়ার ফুটবল কলোনিতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। কার্লোস বলেছেন, “আমি আমার স্ত্রীর থেকে বেশি রোনাল্ডোর সঙ্গে শুয়েছি।”

সম্প্রতি রিয়েল মাদ্রিদের তরফে কার্লোসের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমি আর রোনাল্ডো অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। এখনও তা অটুট।” খোলামেলা সাক্ষাৎকারে কার্লোস আরও বলেছেন, “রিয়েল মাদ্রিদে থাকার সময়ে এমনও হয়েছে, যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে আমরা ইংল্যান্ডে গিয়েছি। ওই সফরে রোনাল্ডো এবং আমার স্ত্রীও ছিলেন। হোটেলে ডিনারের পর আমি আর রোনাল্ডো এক ঘরে শুতে চলে যেতাম। আর দুজনের বউ সন্তানদের নিয়ে অন্য ঘরে চলে যেত।”

কার্লোস বলেছেন, খেলোয়াড় জীবনে রোনাল্ডো তাঁকে যতটা বুঝেছেন, অন্য কোনও সতীর্থ ততটা বোঝেননি। তাঁর কথায়, “এই রকম একেক জনের সঙ্গে একেক জনের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। যেমন রিয়েলে থাকার সময়ে দেখেছি আমার আর রোনাল্ডোর মতো জিগরি দোস্ত ছিলেন জিদান আর ফিগো।” মজা করে বলেছেন, “বেকহ্যামের কোনও বন্ধু ছিল না। ওঁর প্রচুর বান্ধবী ছিল!”

তবে গত এক দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সার্বিক একটা নিসঙ্গতা, বন্ধুত্বহীনতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন কার্লোস। তাঁর কথায়, দলের সতীর্থদের প্রতি সেই আন্তরিক টানটা আর তেমন দেখা যায় না। তাঁর ওভার ল্যাপ দেখে অনেকেই বলতেন, এই লোকটার বোধহয় জোড়া হৃদপিণ্ড রয়েছে। না হলে এত দম আসে কোথা থেকে! ওই গতিতে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে যাওয়া থেকে কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকাতে সঙ্গে সঙ্গে একই গতিতে নিজের বক্সে নেমে আসা—কার্লোস এই গোটা ব্যাপারতাঁকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। খেলা ছেড়ে দেওয়ার অনেকদিন পর সাক্ষাৎকারে কার্লোসের আক্ষেপ ঝরে পড়ল ব্রাজিলের ফুটবল নিয়েও। এবং তিনি মনে করেন, “খেলোয়াড়দের নিদেজের মধ্যে বন্ডিং না তৈরি হলে ভাল ফুটবল সম্ভব নয়। আর তা না হলে ট্রফিও নয়।” তিনি বারবার উদাহরণ হিসেবে টেনে এনেছেন তাঁর এবং রোনাল্ডোর বন্ধুত্বকে।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

সুন্দরবনের  দুটি দ্বীপ, ভূমি হারানো মানুষ

Comments are closed.