টেলরের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে জয় নিউজিল্যান্ডের, সুযোগ নষ্টের খেসারত দিলেন বিরাটরা

১০ রানের মাথায় জাদেজার বলে টেলরের সহজ ক্যাচ ছাড়েন কুলদীপ। টেলর তখন আউট হলে চাপে পড়ে যেত নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেটা হল না। তার ফল ভুগতে হল বিরাটদের। প্রথমে নিকোলস ও পরে ল্যাথামের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়লেন টেলর। এই দুই পার্টনারশিপেই হারতে হল কোহলিদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ রানের মাথায় রস টেলরের সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন কুলদীপ যাদব। সেই ক্যাচ ছাড়া কাল হল। টেলরই ম্যাচ নিয়ে গেলেন বিরাটদের হাত থেকে। তাঁর দুরন্ত সেঞ্চুরিতে হ্যামিলটনে প্রথম ওয়ান ডে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।

এদিন টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ভারতের দুই ওপেনার পৃথ্বী শ ও ময়ঙ্ক আগরওয়ালের অভিষেক হল আজ। শুরুটা ভালই করেছিলেন পৃথ্বী ও ময়ঙ্ক। শুরুতে কিউয়ি পেসারদের সুইং সামলে খেলতে থাকেন তাঁরা। মাঝেমধ্যে বাউন্ডারি আসছিল। নির্দিষ্ট রেটে রান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। সাত ওভারে ৫০ রান হয় দলের। তারপরেই প্রথম ধাক্কা খায় ভারত। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের প্রথম ওভারে থার্ডম্যান দিয়ে খেলতে গিয়ে কিপার টম ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২০ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে ফেরেন পৃথ্বী। তারপরেই ৩২ রানের মাথায় সাউদির বলে আউট হন ময়ঙ্ক।

তারপর পার্টনারশিপ গড়েন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়স আইয়ার। ধীর ধীরে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তাঁরা। হাত সেট হয়ে যাওয়ার পরে বড় শট খেলতে শুরু করেন দুই ব্যাটসম্যানই। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি করার পরেই ইশ সোধির গুগলি বুঝতে না পেরে ৫১ রানের মাথায় বোল্ড হয়ে ফেরেন বিরাট।

এদিন পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন লোকেশ রাহুল। কিন্তু তাতে কোনও তফাৎ দেখা গেল না কর্ণাটকের এই ব্যাটসম্যানের খেলাতে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। অন্যদিকে হাফসেঞ্চুরি করেন আইয়ার। বিরাট-শ্রেয়সের সেঞ্চুরি পার্টনারশিপের পর ফের সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ গড়েন তাঁরা। এদিন নিজের ওয়ান ডে কেরিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন শ্রেয়স। ১০৩ রানের মাথায় বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন আইয়ার।

রাহুলের সঙ্গে মিলে ভারতের রানকে ৩০০-র উপর নিয়ে যান কেদার যাদব। অল্প সময় পেলেও ঝোড়ো ইনিংস খেলেন কেদার। অন্যদিকে সেঞ্চুরির দিকে যাচ্ছিলেন রাহুলও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৬৪ বলে ৮৮ করেই থামতে হয় তাঁকে। ১৫ বলে ২৬ করেন কেদার। ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রান করে ভারত।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস। রানের গতি কম হলেও উইকেট হারাননি তাঁরা। পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট পড়েনি। অবশেষে ৩২ রানের মাথায় গাপটিলকে আউট করে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন শার্দুল ঠাকুর। নিউজিল্যান্ডের তরফে এদিন অভিষেক হওয়া টম ব্লান্ডেল রান পাননি। কুলদীপের গুগলিতে স্টাম্প হন তিনি।

তারপর নিকোলসের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন রস টেলর। ১০ রানের মাথায় জাদেজার বলে টেলরের সহজ ক্যাচ ছাড়েন কুলদীপ। টেলর তখন আউট হলে চাপে পড়ে যেত নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেটা হল না। তার ফল ভুগতে হল বিরাটদের। প্রথমে নিকোলস ও পরে ল্যাথামের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়লেন টেলর।

নিকোলস ৭৮ করে কোহলির দুরন্ত থ্রোয়ে রানআউট হন। অধিনায়ক ল্যাথাম ৪৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে টিকে ছিলেন টেলর। চলতি সিরিজে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। টেলর ১০৯ ও স্যান্টনার ১২ করে অপরাজিত থাকেন।

এদিনের হারে ৩ ম্যাচের সিরিজে ০-১ ফলে পিছিয়ে পড়লেন বিরাটরা। সিরিজ জিততে হলে বাকি দুটি ম্যাচ জিততে হবে ভারতকে। তবে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে এখনও উন্নতি করতে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। এদিন সেই দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে গেল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More