মা হওয়ার কয়েক মাসেই ট্র্যাকে নেমে সোনা জিতলেন দুই স্প্রিন্টার! ভাঙলেন উসেইন বোল্টের রেকর্ডও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাতৃত্বকালীন অবসর পার করে, সবে ট্র্যাকে নামলেন তিনি। আর ট্র্যাকে নেমেই দশ মাসের ছোট্ট সন্তানের মা গড়ে ফেললেন ইতিহাস। এই গ্রহের দ্রুততম মানুষ হিসেবে খ্যাত উসেইন বোল্টের রেকর্ড ভেঙে তছনছ করে দিলেন!

    বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে ৫টি ভিন্ন ইভেন্ট মিলিয়ে ১২তম স্বর্ণপদক গলায় ঝুলিয়ে জামাইকান স্প্রিন্টার উসেইন বোল্টকে পিছনে ফেললেন মার্কিন মহিলা স্প্রিন্টার অ্যালিসন ফেলিক্স।এর আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে সর্বাধিক ১১টি সোনা জয়ের নজির ছিল উসেইন বোল্টের দখলে।

    এই নিয়ে ন’বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ট্র্যাকে নামলেন ফেলিক্স। সংগ্রহ করলেন ১২টি পদক। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক্স মিলিয়ে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ইতিহাসে এই মার্কিন স্প্রিন্টা ফেলিক্সের মুকুটেই এই মুহূর্তে রয়েছে সর্বাধিক পদক জয়ের পালক।

    রবিবার  দোহার খলিফা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চ সাক্ষী থাকল অভূতপূর্ব এই নজিরের। ৪x৪০০ মিটার মিক্সড রিলে ইভেন্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সোনা জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই জামাইকান উসেইন বোল্টকে পিছনে ফেলে দেন ফেলিক্স। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড শুধু নয়। ৪x৪০০ মিটার মিক্সড রিলের এই ইভেন্টে এ দিন বিশ্বরেকর্ড তৈরি করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিক্সড রিলে টিমও। ৩:০৯:৩৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্প্রিন্টাররা। এই ইভেন্টে এই সময় এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন।

    তবে ফেলিক্স একা নন। মাতৃত্বকালীন ছুটির পরে আরও এক স্প্রিন্টার ট্র্যাকে নেমেছিলেন এ দিন। জামাইকান রানার শেলি আন ফ্রেসার প্রাইস। হতাশ করেননি তিনিও। মহিলাদের ১০০ মিটার দৌড়ে চেনা মেজাজেই এ দিন ধরা দেন জামাইকান স্প্রিন্টার। মা হওয়ার পর প্রাইসেরও এটাই প্রথম মেজর চ্যাম্পিয়নশিপে ট্র্যাকে নামা। ১০.৭১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সোনা জেতেন প্রাইস।

    প্রমাণ করেন, এক সন্তানের মা হয়েও ফুরিয়ে যাননি তিনি। বরং প্রায় দু’বছর পর ফিরে এসেছেন ট্র্যাকের রানির মতো! প্রায় এক যুগ ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে এমন সাফল্য খুব কম অ্যাথলিটেরই রয়েছে। কে বলবে, ৩২ বছর বয়স হয়েছে তাঁর! কে বলবে, সবে এক বছর হয়েছে তাঁর প্রথম সন্তানের! পারফরম্যান্স যেন আরও ধারালো হয়ে উঠেছে তাঁর। এই নিয়ে টানা চতুর্থ বার ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। এর আগে ২০০৮ ও ২০১২ অলিম্পিকেও সোনার পদক জিতেছিলেন শেলি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ছেলেকে কোলে নিয়েই সেলিব্রেট করলেন জামাইকান স্প্রিন্টার। দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায় সেই ছবি।

    বোল্টকে পিছনে ফেলে পদকের রেকর্ড গড়া মহিলা স্প্রিন্টার ফেলিক্স জানান, “এই সোনা আমার কাছে ভীষণ স্পেশ্যাল। আমার ছোট্ট মেয়ে গ্যালারি থেকে আমায় জয় দেখছে, এটা আমার কাছে পৃথিবী মুঠোয় পাওয়ার মতো। আমার জন্য এটা দুর্দান্ত একটা শুরুয়াৎ।”

    একই কথা বলেন শেলি প্রাইসও। এ দিন তাঁর ছোট্ট ছেলেও ছিল গ্যালারিতে। আর এটাই আরও বেশি করে উদ্বুদ্ধ করেছে ‘মহিলা বোল্ট’ বলে পরিচিত জামাইকান স্প্রিন্টার শেলিকে। সোনা জয়ের পরে তিনি বলেন, “অ্যাথলিট ও মানুষ হিসেবে সব সময়ে নিজের ফোকাস ধরে রাখি আমি। চেষ্টা করি, যে কঠিন পরিশ্রমটা আমাকে তুলে এনেছে, সেটা চালিয়ে যেতে। আর এখন তো আমার ছেলেই আমার অনুপ্রেরণা।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More