নির্বাচকদের ওপর রাগ মিটিয়ে মুম্বইকে দুরন্ত জয় এনে দিলেন সূর্যকুমার

৯৬১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

মুম্বই ব্যাটিং ইনিংসে সূর্যকুমার যাদবের খেলা দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, ছেলেটার কত রাগ জমা ছিল জাতীয় নির্বাচকদের ওপর। অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানে ওকে টিকিট দেয়নি আমাদের নির্বাচকরা। সেই কথা মনে রেখে ব্যাটিং করে গেল সূর্য।

দারুণ ব্যাটিং, প্রতি শটে যেন বোঝাচ্ছিল ওর প্রতি কতটা অবিচার হয়েছে এবার দল নির্বাচনে। একজন যোগ্যকে রেখে দল বাছাই মানা যায় না। যে বাদ পড়ে, সেই বোঝে কতটা কষ্ট বুকে নিয়ে চলতে হয়। সূর্য সেটাই বোঝাল বুধবারের এমন স্বপ্নের ইনিংসে।

কোহলিদের ১৬৪ রান তাড়া করতে নেমে মুম্বইয়ের একটা সময় ৭২ রানে তিন উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সেই কঠিন অবস্থা থেকে দলকে একঝলক টাটকা বাতাস এনে দিল সূর্যকুমার ও ঈশান কিশানের ব্যাট।

ঈশান ১৯ বলে ২৫ রান করে ফিরে গেলেও একা একটা দলকে জেতালেন সূর্যকুমার। মুম্বইয়ের এই ব্যাটসম্যানের দুরন্ত ইনিংস নিয়ে কিছু বলার ভাষা নেই। যত দেখেছি মুগ্ধ হয়েছি, কত মানসিক কাঠিন্য থাকলে এমন খেলা যায়। আমার তো মনে হয় এই ইনিংস দেখার পরে জাতীয় নির্বাচকদের ওর কথা ভাবা উচিত।

সেরা সময়তেই সেরা মানুষকে বাছতে হয়, এটাই নিয়ম। সেই হিসেবে সূর্যের এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানো উচিত দেশের ক্রিকেটে। ৪৩ বলে ৭৯ রানের ইনিংস খেলেছে সূর্য, রয়েছে ১০টি চার ও তিনটি ছয়। তার ব্যাটিং তান্ডবে মুম্বই পাঁচ বল আগেই পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল। শেষমেশ তারা করেছে ১৬৬/৫।

এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বই শীর্ষেই রয়েছে। আরসিবি একই ম্যাচ খেলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টেবিলে। সব দলই আজকে পর্যন্ত ১২টি করে ম্যাচ খেলে ফেলল। প্লে অফের লড়াই জমে উঠেছে, বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে, আমার একটি প্রশ্ন, বিরাট কোহলিকে কী ‘খাদ্য’ বানিয়ে ফেলেছে যশপ্রিৎ বুমরা? আমার তো তাই মনে হচ্ছে, যেভাবে প্রতি ম্যাচে ভারতীয় অধিনায়ককে আউট করছে বুমরা, তাতে করে ওকে প্রথম একাদশে রাখবে তো আইপিএল শেষে!

এটা রসিকতা করলাম, আমার তো মনে হয় বিরাটও খুশি হচ্ছে বুমরার বোলিং দেখে। ওর থেকে অস্ট্রেলিয়া সফরেও এমন আগুনে বোলিং দরকার, সেটি নিশ্চয়ই ভাবছে কোহলিও।

বেঙ্গালুরু দলের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতার খুব অভাব। কোহলি ও ডি’ভিলিয়ার্স না খেললে দলকে টানার মতো কেউ নেই। প্রতি ম্যাচে তাই দেখা যাচ্ছে। বুধবার অবশ্য আবুধাবিতে দলের দুই ওপেনার টানল। যশ ফিলিপ (২৪ বলে ৩৩) ও দেবদূত পাল্লিকাল (৪৫ বলে ৭৪) মিলে ওপেনিং জুটিতে করেছে ৯৫ রান।

তারপরেও আরসিবি-র বাকি ব্যাটসম্যানরা নয় ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে, রাত তুলেছে ৫৪ বলে ৬৯ রান। আরও দশ রান বেশি উঠলে ভাল হতো। ম্যাচের শেষদিকে এটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কোহলি (৯) ও ডি’ভিলিয়ার্স (১৫) তো ব্যর্থই, বাকিরাও সেই অবদান রাখল কোথায়!

বুমরার প্রশংসা যত করা যায়, তত কম মনে হবে। প্রতি ম্যাচে দেখাচ্ছে কেন ওকে বিশ্বের সেরা বোলার বলা হয়। ১৪ রানে তিন উইকেট, তার মধ্যে একটি মেডেন ওভার। ওর পাশে বাকিদের অনুজ্জ্বল লেগেছে। তবে কোহলিদের দলের ২০ বছরের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পাল্লিকাল দারুণ খেলে মন জিতেছে। ওর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও একটি ছক্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ২০ ওভারে ১৬৪/৬। পাল্লিকাল ৭৪, ফিলিপ ৩৩, বুমরা ৩/১৪।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ১৯.৫ ওভারে ১৬৬/৫। সূর্যকুমার যাদব ৭৯, ঈশান ২৫।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জয়ী ৫ উইকেটে। ম্যাচের সেরা : সূর্যকুমার যাদব

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More