দুরন্ত রোহিত, হার দিয়ে অভিযান শুরু নাইটদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

এই কেকেআর দলকে দেখে হতাশ হলাম। একটা দলকে সাফল্য পেতে গেলে টিম হিসেবে খেলতে হয়। কেকেআর সেটা পারল কোথায়? আমি আগেই বলেছিলাম, কেকেআর ফেভারিট তখনই যদি রাসেল রান পায়, কিংবা সবাই কোনও না কোনও অবদান রেখে যায়। সেটাই বা হল কোথায়! যেন কেউ কাউকে চেনে না। দলের মধ্যে কোনও কৌশল নেই, যে যার মতো ব্যাটিং করতে চলে এসেছে! যে কারণে কেকেআরের হার এত মসৃণভাবে, ৪৯ রানে।

দলের ওপেনিং জুটি ব্যর্থ, নারিন (৯) রানই পেল না, একই অবস্থা শুভমান গিলের (৭) ক্ষেত্রেও। ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিক ভাল শুরু করেছিল, কিন্তু ফিরল রাহুল চাহারের স্পিনে ফ্লাইট বুঝতে না পেরে। ২৩ বলে কার্তিকের ৩০ রান দলকে লড়াইয়ে রেখেছিল, কিন্তু তাঁর ফেরা দলের রানকে স্লথ করে দিয়েছিল। নারিনের খেলা সবাই ধরে নিয়েছে, তাই পরের ম্যাচে ওপেনিংয়ে কার্তিকের সঙ্গে গিল যাক, তা হলে বিপক্ষের কাছেও অজানা হবে বিষয়টি।

রাসেলও আউট ১১ রানে। কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না। তবে আমার একটা দিক থেকে এবারের আইপিএল অবাক করছে, সেটি হল দলে বিগহিটাররা থাকতেও তাদের পরে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন? রাসেল তিনে এলে তো নিশ্চিন্তে রান করে যেতে পারত। কিন্তু বুমরার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে গেল।

আর ইয়ন মরগ্যানও রান পেল না ওপেনিং ম্যাচে। মাত্র ১৬ রানে ফিরল বুমরার বলে কট বিহাইন্ড হয়ে। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট অবশ্য বুমরার তৃতীয় ওভারের দুরন্ত স্পেল, এক ওভারে ফেরাচ্ছে রাসেল ও মরগ্যাকে, সবদিক থেকে দারুণ। এই কারণেই তাকে সেরা মানা হয়, বুমরা বোঝাল।

আরও একটি বিষয় পরিষ্কার হল, মুম্বই মানেই ‘জুজু’ কেকেআরের কাছে, না হলে এই দলটির কাছে নাইটরা ২০ বার হারে, তাও ২৬ বারের সাক্ষাতে। মুম্বইয়ের কাছে হার অভ্যাসে পরিণত করেছে শাহরুখের দল। এবারও ১৯৫ রানের জবাবে কেকেআর শেষ ১৪৬ রানে। খেলাটা এত একপেশে যে মনই ভরেনি।

এ ম্যাচে যথারীতি এটাও প্রমাণ হল, রোহিত শর্মা বরাবরই স্পেশাল। এমন একজন ক্রিকেটার, যাঁকে আপনি কোনওদিন অনুমান করতে পারবেন না। অসাধারণ প্রতিভা, যিনি জানেন কখন জ্বলে উঠতে হয়। এমনভাবে শট খেলে যেন মনে হবে ক্রিকেট খেলাটা কত সহজ।

বুধবারও খেলল কেকেআরের বিপক্ষে। আহা দারুণ ইনিংস, চোখ বুজলে এমন ইনিংস স্বপ্নে আসে। ৫৪ বলে ৮০ রান, তিনটি চার ও ছয়টি ছক্কা। একেবারে রোহিতচিত ইনিংস খেলে গিয়েছে। কুইন্টন ডি’কক আউট হল শিবম মাভির বলে, অন্য প্রান্তে রোহিতকে কী নির্লিপ্ত দেখাল, যেন মনে হল কিছুই হয়নি।

এটাই বড় ব্যাটসম্যানের লক্ষ্মণ। তারপর সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে যে জুটি গড়ল, তা কেকেআরের বোলারদের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৮ বলে সূর্যর নামের পাশে রয়েছে ৪৭ রান, যার মধ্যে ছয়টি বাউন্ডারি ও একটি ছয়। সূর্যের ব্যাটিংয়েও অনেক পরিণতবোধ চোখে পড়েছে। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছে।

আমি অবশ্য অবাক দীনের কার্তিকের নেতৃত্বে। আন্দ্রে রাসেলের মতো বোলারকে অত পিছনে নিয়ে এল কেন? গ্যারাজে আপনার রয়েছে মার্সেডিজ বেঞ্চ, আর আপনি ব্যবহার করছেন অন্য কোনও গাড়ি, যে গাড়ি ঠিক সচল নয় খারাপ রাস্তায়, তা হলে আপনি কী করবেন? কার্তিক সেটাই বুঝতে পারল না।

তারপর বলব সাড়ে ১৫ কোটি টাকার প্যাট কামিন্সের কথা, এত বড় বোলার যে এত মার খেল। বুঝতেই পারল না কোথায় বল ফেলবে! আর আমি অবাক হয়ে দেখলাম যাকে কামিন্স, মাভিরা বোলিং করছিল, সে তো বিশ্বের সেরা পুল শট মারা ব্যাটসম্যান। তবুও রোহিতের মতো দক্ষ পুল শট মারা ক্রিকেটারকে শর্ট বল করে গেল। এটা যে বড় নির্বুদ্ধিতা।

কামিন্স দিয়েছে তিন ওভারে ৪৯ রান। কুলদীপ যাদব চার ওভারে ৩৯ রান। সেরা বোলারদের মার খেতে দেখে এটাই অবাক লেগেছে রোহিতকে কেন তারা শর্ট বল করছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। রোহিত কেকেআরের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৮৭৪ রান করে ফেলল। কেকেআর বোলিং সেদিনই ক্লিক করবে যেদিন তাদের নারিন ও রাসেল উইকেট পাবে। কামিন্স গতিতে পরাস্ত করবে, এটা ভাবা গিয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান যখন রোহিত থাকে, সেদিন সেটি আর বোলারদের জন্য থাকে না, তারই প্রমাণ পেলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ২০ ওভারে ১৯৫/৫। রোহিত ৮০, সূর্যকুমার ৪৭, শিবম মাভি ২/৩২। কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০ ওভারে ১৪৬/৯। প্যাট কামিন্স ৩৩, কার্তিক ৩০, বুমরা ২/৩২, প্যাটিনসন ২/২৫, বোল্ট ২/৩০। মুম্বই জয়ী ৪৯ রানে। ম্যাচের সেরা : রোহিত শর্মা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More