ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার কলকাতার, রোহিত-ডি’ককের দাপটে লিগ শীর্ষে মুম্বই

২৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

মুম্বই বরাবরই কলকাতার কাছে জুজু। চলতি আইপিএলের প্রথম ম্যাচেও মুম্বইয়ের কাছে হারতে হয়েছিল কলকাতাকে। সেবার প্রথমে বল করে হারতে হয়েছিল। আর এদিন প্রথমে ব্যাট করেও একই অবস্থা হল। মুম্বই বোলারদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ের সামনে রান পেল না কলকাতার ব্যাটসম্যানরা। আর তারপরে ব্যাট হাতে ঝলসে উঠল মুম্বইয়ের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডি’কক। ফলে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল তারা।

১৪৮ রান করে জিততে হলে পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই অন্তত ২ থেকে ৩ টে উইকেট ফেলতে হত কলকাতাকে। কিন্তু বোলারদের কোনও সুযোগই দিল না মুম্বইয়ের দুই ওপেনার। আগের দিনের ভুলই এদিন ফের করল কলকাতার বোলাররা। রোহিত ও ডি’কক দু’জনেই শর্ট বল ভাল খেলে। তারপরেও শর্ট বল করেই গেল কামিংসরা।

বেশি বিধ্বংসী দেখাচ্ছিল ডি’কককে। মাত্র ২৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করল দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটসম্যান। ফলে অন্যদিকে থাকা রোহিত ধীরে সুস্থে খেলল। কোনও পরিকল্পনা দেখা গেল না কলকাতার বোলারদের মধ্যে। কার্তিকের কাছ থেকে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পরে মরগ্যানের মধ্যেও কোনও প্ল্যান বি দেখা গেল না। তার ফলে যা হওয়ার তাই হল। মুম্বইয়ের ব্যাটসম্যানদের কিছুটা সমস্যায় ফেলল শিবম মাভি। অথচ তাকে মরগ্যান নিয়ে এল ১০ ওভারের পরে। ফলে যা হওয়ার তাই হল।

যদিও ডি’কক দুরন্ত খেলল। তাকে সঙ্গ দিল বাকিরা। আসলে মুম্বইয়ের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের সবাই রানে রয়েছে। তাই এই দলের বিরুদ্ধে জিততে গেলে বল হাতে জ্বলে উঠতে হত কামিংসদের। সেটাই হল না। ফলে ১৯ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে গেল মুম্বই। ডি’কক ৪৪ বলে ৭৮ রান করে অপরাজিত থাকল।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে খুব খারাপ ওপেনিং পার্টনারশিপ হচ্ছে কলকাতার। আমি আগেই বলেছি শুভমান গিল এমন ক্রিকেটার নয় যে পাওয়ার প্লে’র মধ্যে বড় শট খেলে রান এগিয়ে নিয়ে যাবে। বরং ও একদিকে খেলাটা ধরে রাখে। তাই শুরুতে একজন বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান দরকার। রাহুল ত্রিপাঠি আউট হওয়ার পরে সেই কারণে পাওয়ার প্লে’তে রান এত কম উঠল। গিলও এদিন বেশি রান পেল না।

শুধু রাহুল ও গিল নয়, কেকেআরের বাকি ব্যাটসম্যানরাও ফর্মে নেই। নীতীশ রাণার ব্যাটে রান নেই। দীনেশ কার্তিক এদিনও রান পেল না। সবথেকে বড় কথা, গত দু’বারের প্রধান ক্রিকেটার আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটেও এবার রান আসছে না। ওকে সবাই বুঝে গিয়েছে। আর তাই রাসেল ব্যাট করতে এলেই এখন সবাই শর্ট বল করে ওকে আউট করে দিচ্ছে।

এদিন মরগ্যান আর কামিংস না থাকলে ১০০ রান পার হত কিনা সন্দেহ। কামিংস ব্যাট হাতে প্রথম হাফসেঞ্চুরি করল। মরগ্যানও শেষ পর্যন্ত ৩৯ রান করল। আর তার ফলেই ১৪৮ রান হল। মুম্বইয়ের হয়ে এদিনই প্রথম খেলতে নামা কুল্টার নাইল ছাড়া বাকি সবাই ভাল বল করল। রাহুল চাহারকে তো খুবই ভাল লাগল। কারণ এই উইকেট ব্যাটের পক্ষে আদর্শ। তাই এখানে কলকাতাকে দেড়শ’র মধ্যে আটকে রেখে অর্ধেক ম্যাচ সেখানেই জিতে নেয় বুমরাহরা। বাকি কাজটা সহজেই শেষ করল মুম্বইয়ের ব্যাটসম্যানরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর- কলকাতা নাইট রাইডার্স ১৪৮/৫। কামিংস ৫৩, মরগ্যান ৩৯। রাহুল চাহার ১৮/২। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ১৪৯/২। ডি’কক ৭৮, রোহিত ৩৫। চক্রবর্তী ২৩/১। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৮ উইকেটে জয়ী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More