বরুণের স্পিনে দিল্লিকে গুঁড়িয়ে আইপিএলে ফিরল নাইট রাইডার্স, মহাষ্টমীর উপহার সমর্থকদের

৮০০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

এই কলকাতাকেই তো আমরা সবাই দেখতে চাই। ব্যাট-বল সবদিকে প্রাধান্য দেখিয়ে দিল্লির মতো দলকে হারাল নাইটরা। প্রথমে ব্যাট হাতে নীতীশ রাণা ও সুনিল নারিন চার-ছয়ের ফুলঝুরি ছোটালেন। তারপরে বল হাতে মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর ভেল্কি। এই বরুণকে আমি যত দেখছি অবাক হচ্ছি। এবার বরুণ থাকায় সুনীল নারিনের উপর চাপটা কম পড়ছে। এমনকি কুলদীপের মতো স্পিনারকেও বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে। কেন বরুণের উপর ভরসা দেখাচ্ছে ম্যানেজমেন্ট তার প্রমাণ আজ সে দিয়ে দিল। তার ৫ উইকেটে দিল্লিকে ৫৯ রানে হারাল নাইট রাইডার্স।

টুর্নামেন্টে লড়াইয়ে থাকার দৌড়ে দিল্লির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুটা কিন্তু মোটেই ভাল হয়নি নাইটদের। উইকেটে সামান্য ঘাস থাকায় দুরন্ত বল করছিল দিল্লির পেসাররা। বিশেষ করে খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে ফেরা নর্তজে যেন আগুন ঝরাচ্ছিল। গিল ৯, ত্রিপাঠি ১৩ ও দীনেশ কার্তিক ৩ করে আউট হয়ে যায়। প্রথম দুটি উইকেট নেয় নর্তজে। কার্তিককে বিষাক্ত আউট সুইঙ্গারে আউট করে রাবাদা। ৪২ রানে ৩ উইকেট পড়ে যায় কলকাতার।

দেখে মনে হচ্ছিল মরগ্যানকেই ইনিংস ধরতে হবে। আর তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে কয়েক ম্যাচ পরে ফেরা সুনীল নারিনকে নামিয়ে দেয় ম্যানেজমেন্ট। আর নেমে খেলার রং বদলে দেয় নারিন। অশ্বিনকে ছক্কা মেরে শুরু হয়। একের পর এক বড় শট খেলতে শুরু করে নারিন। তাকে দেখে খেলার ধরন বদলে দেয় নীতীশ রাণাও। হাত খুলে খেলা শুরু করে।

দু’জনের মধ্যে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ হয়। কোনও বোলারই তা ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত রাবাদার বলে ৩২ বলে ৬৪ করে আউট হয় নারিন। নিজের খেলা অবশ্য চালিয়ে যায় রাণা। ৫৩ বলে ৮১ করে শেষ ওভারে আউট হয় সে। মরগ্যানও ৯ বলে ১৭ রানের ক্যামিও খেলে। আর তার ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান তোলে নাইট রাইডার্স।

বল হাতে প্রথম বলেই রাহাণের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেয় কামিংস। অনেক দিন পরে ফের ছন্দে দেখা গেল কামিংসকে। আর পরপর দু’ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শিখর ধাওয়ানকে আউট করে বড় ধাক্কা দেয় কামিংস। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার কিছুটা ধরার চেষ্টা করলেও বিশেষ লাভ হয়নি। কারণ এক একটা দিন এমন যায় যাতে হাত দেওয়া যায় তাতেই সোনা ফলে। আজকের দিনটা তেমনটাই হল নাইট রাইডার্সের জন্য।

বরুণ চক্রবর্তী কী ভেল্কিটাই না দেখাল। ওর মিস্ট্রি স্পিনের কোনও জবাব দিল্লির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ছিল না। শ্রেয়স আইয়ার, ঋষভ পন্থ, শিমরন হেটমায়ের, মার্কাস স্টয়নিস ও অক্সর পটেলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেয় বরুণ। চার ওভারে ২০ রান দিয়ে বরুণের ৫ উইকেট অনেক দিন মনে রাখবে সমর্থকরা।

শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৩৫ রানে শেষ হয় দিল্লির ইনিংস। ৫৯ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেল কলকাতা। এই জয়ের ফলে কলকাতা শিবিরে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়বে নাইট ব্রিগেডের। তার প্রভাব হয়তো আগামী ম্যাচগুলিতেও দেখা যাবে কলকাতার খেলায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর- কলকাতা নাইট রাইডার্স ১৯৪/৬। নীতীশ রাণা ৮১, সুনীল নারিন ৬৪। নর্তজে ২৭/২, রাবাদা ৩৩/২। দিল্লি ক্যাপিটালস- ১৩৫/৯। শ্রেয়স আইয়ার ৪৭। বরুণ চক্রবর্তী ২০/৫, প্যাট কামিংস ১৭/৩। কলকাতা নাইট রাইডার্স ৫৯ রানে জয়ী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More