লাল কার্ড দেখে নেইমার, ‘ওকে ঘুষি মারা উচিত ছিল’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা থেকে সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরে রীতিমতো বড় বিতর্কে নেইমার। ব্রাজিলীয় এই সুপারস্টার ফরাসী লিগে মার্শেইয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমে দুটি হলুদ কার্ডসহ একটি লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। খেলাটিতে নেইমারের দল প্যারিস স্যঁ জ্য হেরেছেও ০-১ গোলে।

পুরো ম্যাচে ১২টি হলুদ কার্ড এবং ৫টি লাল কার্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে নেইমারের লাল কার্ড নিয়ে বহুকাংশের মত হল তাঁর ক্ষেত্রে লঘু পাপে গুরুদন্ড হয়েছে। কারণ তিনি মার্শেইয়ের রক্ষণভাগের ফুটবলার আলভারো গঞ্জালেজের বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন। শেষমেশ রেফারি নেইমারকেই কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিয়েছেন।

খেলার একেবারে শেষে তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের দুই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় লেওনার্দো পারেদেস ও দারিও বেনদেত্তোর ফাউলের ঘটনাকে বড় করেন জর্ডান অ্যামেভি-ল্যাভিন কুরযায়ারা। ফলে চারজনকেই দেখানো হয় লাল কার্ড। তখন আলভারো গঞ্জালেজ অভিযোগ করেন তাঁর মাথায় মেরেছেন নেইমার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয় ভিডিও অ্যাসিসটেন্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তা এবং পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে নেইমারকে দেখানো হয় লাল কার্ড। কিন্তু নেইমার কেন সেই খেলোয়াড়ের মাথায় মেরেছেন, সেটি খুঁটিয়ে দেখেননি রেফারি।

ম্যাচ শেষে মিডিয়াকে নেইমার তার ব্যাখ্যা করেছেন। এমনকি ট্যুইটারে নেইমার লিখেছেন, ‘‘গঞ্জালেজের মাথায় না মেরে বরং ওর মুখে ঘুষি মারা উচিত ছিল। কারণ যে আমাকে বানর ও শুয়োর বলে গালিগালাজ করল, তার কী হবে? আমি দেখতে চাই এটার কী বিচার হয়। আমি ‘রেইনবো ফ্লিক’ (এক ধরনের বিশেষ স্কিল) করলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়, কাউকে মাথায় আঘাত করলে কার্ড দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়, আর এবার দেখব আমাকে যে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করল, তার ক্ষেত্রে কী হবে?’’

তবে তাৎক্ষণিকভাবে নেইমারের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলভারো গঞ্জালেজ। নিজের প্রোফাইলে এক ট্যুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘‘ফুটবলে বর্ণবিদ্বেষের কোনও সুযোগ নেই। যদি তা হত, আমার এতদিনের ফুটবল জীবনে অনেক কালো দাগ থাকত। আসলে একেকটি দিনকে পরাজয় হিসেবে স্বীকার করতে হয়, কেউ কেউ সেটি ভুলে যায়, তখনই হয় সমস্যা। আজ আমাদের ম্যাচে তিন পয়েন্ট প্রাপ্তিটা দারুণ ছিল।’’

গঞ্জালেজ আবার পাশে পেয়েছেন দলের কোচ আন্দ্রে ভিয়াস বোয়াসকেও। ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘‘আমি জানি না, আমি আশা করি এমন কিছু হয়নি। ফুটবলে বর্ণবৈষম্যের কোন স্থান নেই। এমনটা হয়ে থাকলে সত্যিই বড় অপরাধ। কিন্তু আমি মনে করি না এমন কিছু হয়েছে। ম্যাচ শেষে পরিস্থিতির কারণে হয়তো রেগে ছিল নেইমার।’’ উল্লেখ্য, ফুটবল মাঠে নেইমারের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ এবারই প্রথম নয়।

এই নিয়ে অন্তত সাতবার তাঁর সঙ্গে ঘটল বর্ণবিদ্বেষের মতো ঘটনা। ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডে, ২০১২ সালে বলিভিয়ায়, ২০১৩ সালে ইতালিতে, ২০১৪ সালে বার্সেলোনায়, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে স্পেনে এবং এবার পিএসজি-তে নিজের ঘরের মাঠেই তিনি এই আচরণের শিকার হলেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More