দলকে জিতিয়ে সালাহর উচ্ছ্বাসে অভিনব বন্ধুপ্রীতি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : একদশকের বেশি সময় পরে লিভারপুল তাদের বিরুদ্ধে একটু হলেও দুমড়েছে। না হলে লিভারপুল মানেই তরতরিয়ে ছুটবে, হাই ক্লাস দলের তকমা নিয়ে বিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিয়েছে তারা। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে ‘কেউ আর ছোট নেই…’ এমন এক প্রবাদ আরও একবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শুরুর ম্যাচেই লিভারপুলকে আটকেই দিচ্ছিল একদা কমজোরি দল লিডস ইউনাইটেড। মার্সেলো বিয়েলসার দল লিডস ইউনাইটেড এতটাই ভাল খেলেছে শেষ মুহূর্তে মহম্মদ সালাহ গোল করে না জেতালে তারা ড্র করেই মাঠ ছাড়ত। সমানে-সমান লড়াই হওয়া ম্যাচটিতে গোল হয়েছে মোট ৭টি। যেখানে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে লিভারপুল, জিতেছে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মরসুমের সূচনায় জয় এনে দেওয়ার কৃতিত্ব মিশরীয় জাদুকর সালাহর। খেলার চার মিনিট, ৩৩ মিনিট ও ৮৮ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক করেছেন। আর এই হ্যাটট্রিকের সুবাদে রেকর্ডবুকে নামও তুলেছেন তিনি। গত ১৯৮৮-৮৯ মরসুমে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে লিভারপুলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন জন আলরিজ। চার্লটনের বিপক্ষে তাঁর সেই হ্যাটট্রিকের ৩২ বছর পর আবার লিগের প্রথম ম্যাচে লিভারপুলের হয়ে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন সালাহ।

লিভারপুলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার লিগে প্রথম দিনেই গোল করলেন সালাহ। এর আগে এই নজির ছিল টটেনহ্যাম হটস্পারের টেডি শেরিংহ্যামের।

প্রিমিয়ার লিগের আরও একটি বড় রেকর্ড গড়েছেন সালাহ। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়েন রুনি গোল করেছেন এমন ৩৪ ম্যাচে জিতেছিল তাঁর দল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নিজের গোল করা টানা ৩৫ জয়ে দলকে জিততে দেখলেন সালাহ। তাঁর গোলসংখ্যা ৯৭, আর মাত্র তিন গোল করতে পারলেই লিভারপুলের হয়ে সেঞ্চুরি গোল হবে ওই মহাতারকার।

জয়ের গোলের পরে কান চেপে জিভ বের করে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন সালাহ। সেই নিয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে নানা কথার ঝড় চলছে। বলা হচ্ছে, এ আবার কিসের উদযাপন? কিন্তু বিষয়টি নিঃসন্দেহে হৃদয় বিদারক। কেননা সালাহর জাতীয় দলের সতীর্থ আল আহলির ফরোয়ার্ড মোয়ামেন জাকারিয়ার কথা মনে রেখেই এমন অভিনব উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন সালাহ।
তাঁর অতি প্রিয় বন্ধু ওই জাকারিয়া, যিনি অ্যামিট্রোপিক ল্যাটারাল স্কেরোসিস রোগের শিকার। এই রোগের প্রতিক্রিয়া হল মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও স্পাইনাল কর্ডে কোনও জোর থাকে না, যারফলে গত দুই বছর ধরে সালাহর বন্ধু শয্যাশায়ী। তিনি আর কোনওদিন ফুটবলও খেলতে পারবেন না। কিন্তু জাকারিয়া গোল করে এমন উচ্ছ্বাস দেখাতেই। সেটিকে মনে রেখেই ফের সেই উল্লাস ফিরিয়ে দিলেন সালাহ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More