সিরাজের ম্যাচ জেতানো বোলিং দেখে নিমেষে চাঙ্গা, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন বাবা

৫২৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছু কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলির কার্যকারণ বোঝা যায় না। এইরকমই একটা ঘটনা ঘটেছে কেকেআর বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই। আরসিবি দলের নামী পেসার মহম্মদ সিরাজের বাবা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেই খবর এসে পৌঁছায় পুত্রের কাছে। তিনি স্বাভাবিকভাবেই চঞ্চল হয়ে ওঠেন।

দেশে বাবা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, আর তিনি খেলতে নামবেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। মনের মধ্যে শঙ্কা ও আতঙ্ক চেপে বসেছিল বাবা মহম্মদ গাউসকে নিয়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের একদিন আগে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় সিরাজের বাবার। যিনি হায়দরাবাদের রাস্তায় অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

সিরাজের পরিবারের সদস্যরাই দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে বাবাকে রাখলেও ভয়টা কিছুতেই কাটছিল না সিরাজের। কিন্তু সিরাজের অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সে যেন অনেকটাই সুস্থ হয়ে গেলেন বাবা। খেলা শেষ হওয়ার জানা গেল হাসপাতাল থেকে ফিরে বাড়িতে ফিরে গেছেন সিরাজের বাবা।

কেকেআরের বিপক্ষে সেদিন স্বপ্নের বোলিং করেছেন সিরাজ। প্রথম স্পেলে ২ ওভারে ২ মেডেন দিয়ে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। কলকাতার দুজন ডান হাতি ওপেনার দেখে সেদিন দ্বিতীয় ওভারে স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরকে বোলিংয়ে আনেননি বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। নতুন বলে সিরাজের ওপর আস্থা রেখেছেন। প্রতিদানও দিয়েছেন এই প্রতিভাবান পেসার।

দ্রুতই কলকাতার রাহুল ত্রিপাঠি, নীতিশ রানা ও টম ব্যান্টনকে আউট করেন। এই ম্যাচে একটা কীর্তিও গড়েন সিরাজ। আইপিএলের ১৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও পেসার টানা দুই ওভারে মেডেন নিয়েছেন। ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৮ রান।। তাঁর কারণেই ২০ ওভারে মাত্র ৮৪ রান করেছে কলকাতা। শেষ পর্যন্ত কলকাতাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দেয় বেঙ্গালুরু।

ম্যাচের পরেও খুশির খবর অপেক্ষা করছিল সিরাজের জন্য। ম্যাচ খেলে উঠেই দুবাই থেকে ফোন করেন হায়দরাবাদের বাড়িতে। তাঁকে জানানো হয় বাবা বাড়িতে চলে এসেছেন ও তিনি ভাল রয়েছেন। এই খবরের আনন্দও সিরাজের কাছে বেশি ছিল। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘এরপর যখন ম্যাচ শেষে আমি বাড়িতে ফোন দিই, তখন জানতে পারি বাবা বাড়ি চলে এসেছেন। কথাটা শুনে সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। কলকাতাকে হারানোর পর আরেকটা আনন্দের খবর শুনে আমি আরও বেশি খুশি হয়েছিলাম।’’

সিরাজের কীর্তির খবরে তাঁর বাবাও খুশি হয়েছেন। এমনকি বহু ফোন পেয়েছেন ছেলের বোলিংয়ের কারণে। সেটিও জানিয়েছেন কোহলিদের দলের এই পেসার। বলেছেন, ‘‘বাবা ফোনে আনন্দের সঙ্গে আমাকে বলছিলেন, আজ সারা দিন প্রচুর মানুষ তাকে ফোন করেছে। শুভেচ্ছা জানিয়েছে। বলেছে, তোমার ছেলে তো আইপিএলে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। হায়দরাবাদের সব পত্রিকায় তোমার ছবিও এসেছে।’’

২০১৭ সালের নিলামে স্থানীয় পেসার সিরাজকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ওই সময় পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল, ‘‘গরিব অটোরিকশা চালকের পরিবার থেকে উঠে আসা এক পেসারের গল্প।’ তারপর তাঁকে নিয়ে নেয় কোহলির আরসিবি দল।

এতটা তারকা খ্যাতি পেয়েও পুরনো কষ্টের দিনগুলো ভুলতে পারেননি সিরাজ। বাবার কাছ থেকে দৈনিক মাত্র ৭০ টাকা হাতখরচ নিতেন অনুশীলনে যাওয়ার সময়, ‘‘বাবা আমাকে প্রতিদিন ৭০ টাকা দিতেন হাত খরচের জন্য। যাতে এটা দিয়ে আমি অনুশীলন ও ম্যাচ খেলতে পারি। তিনি যা উপার্জন করতেন সেটা থেকে এই অর্থ আমার জন্য ছিল অনেক।’’

সিরাজ এও বলেছেন, তিনি ওই সামান্য অর্থ স্কুটির পেট্রোল কিনতেই খরচ করে ফেলতেন। কারণ তাঁকে নিয়মিত ১৮ কিমি দূরে প্র্যাকটিস করতে যেতে হতো। এমনও অনেকদিন গিয়েছে যেদিন টিফিন খাওয়ার মতো পয়সাও পকেটে তাঁর ছিল না। সেই দারিদ্র থেকে উঠে আসা ওই ক্রিকেটারই আইপিএলের মঞ্চে বাজিমাত করে চলেছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More