মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

মশলারও এক্সপায়ারি ডেট আছে! জানতেন?  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবন হোক বা রান্না, মশলাবিহীন হলে বড্ড বিস্বাদ লাগে তাই না? তবে এই মশলার কি কোনও এক্সপায়ারি ডেট হয়? আপনার রান্নাঘরে একটা তাক জুড়েই তো মশলার কৌটো থাকে।  ভেবে দেখেছেন, সেই মশলা কতদিন রেখে ব্যবহার করেন আপনি?

যাঁরা ডায়েট প্ল্যান করেন, অনেক সময়ে ভাবেন সেদ্ধ খাবার খাবেন, তাই মশলা নৈব নৈব চ।  কিন্তু এই মশলা অনেক সময়েই আপনার মেটাবলিজ়ম বাড়িয়ে দিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।  হলুদের মতো কিছু মশলা আবার আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়।

বাড়ির দুধ বা সব্জি যেভাবে খুব দ্রুত খারাপ হয়ে যায়, ততটা না হলেও, বেশ কিছুদিন রেখে দিলে আপনার বাড়ির মশলাও খারাপ হয়ে যেতে পারে।  তা থেকে একটা অদ্ভুত ছাতা ধরা, স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ পাবেন আপনি।  মশলার গুণই যেখানে তার গন্ধ, সেটাই যদি না থাকে, তবে আর কেনই বা আপনি সেটা ব্যবহার করবেন! আবার আপনার যে কোনও রান্নায় যখন ওই খারাপ মশলা আপনি দিচ্ছেন, খাবারের পুষ্টিগুণগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে তখনই।  বিশেষত গুঁড়ো মশলার ক্ষেত্রে এই অসুবিধা খুবই হয়।  তাই এই খারাপ হয়ে যাওয়া মশলা রান্নায় বা কোনও খাবারে না দেওয়াই ভালো।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে কতদিন? আসলে আপনি যদি খুব ঘনঘন রান্না না করেন, তাহলে স্বভাবিকভাবেই আপনার মশলার ব্যবহার কম হবে।  তাই সেগুলো খারাপ হয়েই পড়ে থাকবে।  মাথায় রাখবেন, যে কোনও মশলা কেনার এক বছর পর আর সেগুলো ব্যবহার করা কাজের কথা নয়।  অর্থাৎ সারা বছর জুড়ে খুব কম সময় আপনি রান্নাঘরে গেলেও এক বছরের বেশি কোনও মশলাই ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক নয়।

আরেকটা সহজ উপায়েও আপনি দেখতে পারেন মশলাগুলো আর ব্যবহার করা যাবে কি না।  মশলার গন্ধ শুঁকে দেখুন।  যদি তা টাটকা থাকে তাহলে সেই গন্ধেই আপনি তা বুঝতে পারবেন।  গন্ধ আর বর্ণ, এ দুটোই মশলার খুব উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।  তাই গন্ধ ঠিক আছে কি না দেখার সঙ্গে সঙ্গে দেখবেন মশলার রঙটা ফ্যাকাশে হয়েছে কি? ফ্রেশ মশলা হলে তার রঙই সেটা বলে দেবে।  কিন্তু বছরের পর বছর মশলা রেখে দিলে রঙেও একটা তফাৎ আসে।

চেষ্টা করবেন, গুঁড়ো মশলার বদলে গোটা মশলা ব্যবহার করতে।  গোটা মশলায় কোনও প্রিজ়ারভেটিভ দেওয়া থাকে না, তাছাড়া এই মশলাগুলোয় অন্য কোনও রাসায়নিকও থাকে না।  তাই আপনি যদি গোটা মশলা ব্যবহার করেন, তাতে স্বাদ , বর্ণ, গন্ধ সবই তুলনায় বেশি দিন ভালো থাকবে।  গোটা মশলা তাই যে কোনও দিক থেকেই আপনার জন্য বেস্ট।

চেষ্টা করবেন মশলার কৌটোর মুখ ভালো করে বন্ধ করে রাখতে।  হাল্কা মুখ হলেই হাওয়া ঢুকে সমস্যা তৈরি হতে পারে।  বিশেষত গুঁড়ো মশলা হলে, হাওয়ার সাথে বিক্রিয়ায় তা নষ্ট হবে অনেক তাড়াতাড়ি।  যতবার মশলা ব্যবহার করবেন, চেষ্টা করবেন কৌটোর মুখ ঠিক করে আটকাতে। আপনার ব্যবহারের মধ্যে দিয়েই আরও বেশ কিছুদিন ভালো থাকতে পারে এই মশলা।

অনেকেই ফ্রিজে রাখেন মশলা, তাঁরা আর রাখবেন না।  এতে মশলার পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। তাছাড়াও, ফ্রিজে রাখা অন্য খাবারের গন্ধ এই মশলার সাথে মিশে মশলার যে নিজস্ব গন্ধ তা নষ্ট করে দিতে পারে।  তাই রুম টেম্পারেচারই ভালো মশলার জন্য।

জীবনকে মশলাবিহীন না করতে চাইলে, মেনে চলুন এই নিয়মগুলো।

 

 

 

 

Comments are closed.