বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

গান্ধী পরিবারের থেকে এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহার ভয়ানক ও উন্মাদের মতো সিদ্ধান্ত, মনে করেন চিদম্বরম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গান্ধী পরিবারে উপর থেকে এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভয়ানক ও উন্মাদের মতো সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) নিরাপত্তা ভোগ করতেন সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা বঢরা।

এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এসপিজি নিরাপত্তার বদলে তাঁদের জেড প্লাস ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এখন থেকে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সিআরপিএফ।

চিদম্বরমের হয়ে টুইটটি করেছে তাঁর পরিবার। সেখানেই সরকারের সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা করার পাশাপাশি বলা হয়েছে, ঈশ্বর যাকে ধ্বংস করতে চান, তাকে পাগল করে দেন।

https://twitter.com/PChidambaram_IN/status/1193006948574093313

আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম এখন তিহার জেলে বন্দি। গান্ধী পরিবারের তিন সদস্যের নিরাপত্তা কমিয়ে দিয়ে তাঁদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করে কংগ্রেস। এই সিদ্ধান্ত বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত বলে মনে করে কংগ্রেস।

এসপিজি নিরাপত্তা যাঁরা পান, বিমানবন্দরে তাঁদের তল্লাশি করা হয় না। প্রিয়াঙ্কা বঢরার সঙ্গে থাকালে এই সুবিধা পেতেন তাঁর স্বামী রবার্টও। বিমানবন্দরে কাদের তল্লাশি করা হবে না, সে সংক্রান্ত তালিকা রয়েছে ব্যুরো অফ সিভিল অ্যাভিয়েশের কাছে। তাঁদের সঙ্গে যদি স্বামী বা স্ত্রী থাকেন, তল্লাশি করা হয় না তাঁদেরও। জে়ড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই তালিকা থেকে বাদ পড়লেন সনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। বিমানবন্দরে তল্লাশি করা হয় না রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল, উপরাজ্যপাল, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি, দেশের প্রধান বিচারপতি-সহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা, মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীরা, লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী নেতা এবং ভারতরত্ন সম্মানপ্রাপকরা।

১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দিরা গান্ধী মারা যান দেহরক্ষীর গুলিতে। ১৯৯১ সালে তাঁর ছেলে রাজীব গান্ধী মারা যান আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায়, যদিও মারা যাওয়ার সময় তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। একই পরিবারের দু’জনের এই ভাবে মৃত্যু হয়েছিল বলেই গান্ধী পরিবারের সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তা পেয়ে আসছেন।

আগে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল দিল্লি পুলিশ। তবে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দেহরক্ষীর গুলিতে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের কথা ভাবা হয়। পরে তাতেও পরিবর্তন ঘটে। ১৯৮৮ সালে এসপিজি আইন প্রণয়ন করা হয়।

Comments are closed.