রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

আলো-রঙের ব্যবহারে অনন্য তাঁর মায়াবী তুলি, জন্মদিনে গুগলের শ্রদ্ধার্ঘ্য স্পেনের শিল্পীকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্পেনের চিত্রশিল্পী বার্টোলোম এস্টেবেন মুরিলোর ৪০০তম জন্মদিবসে শ্রদ্ধা জানাল গুগল। মাঝেমধ্যেই বিশেষ কোনও মানুষের বা ঘটনার স্মৃতিতে হোমপেজে বিশেষ ডুডল বানিয়ে শ্রদ্ধা জানায় গুগল। আজ, বৃহস্পতিবার, তাঁর আনুমানিক জন্মদিনে তাঁর ছবির মাধ্যমেই তাঁকে স্মরণ করল গুগল।

আনুমানিক, কারণ এই স্পেনীয় পেন্টারের জন্মের তারিখ সঠিক জানা যায় না। তিনি মূলত ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃশ্য আঁকতেন। তাঁর আঁকাগুলি স্প্যানিশ আর্টের সুবর্ণ যুগের অয়েল ও ফ্রেসকো পেইন্টিং হিসেবে বিবেচিত হয়। রংতুলির মাধ্যমে নানা রকম উজ্জ্বল আলোর প্রকাশ, দুর্দান্ত রঙ বৈচিত্র্য দিয়ে মুরিলো বিভিন্ন দৃশ্য আঁকতেন। তা সে জাঁকজমকপূর্ণ কোনও অনুষ্ঠানের দৃশ্য হোক বা সুখী পরিবারের দৃশ্য বা নিছক জানলার ধারে দাঁড়িয়ে দুই মহিলা।

জানলায় দুই নারীর এই ছবিটি, ‘টু উইমেন ইন উইন্ডো’ মুরিলোর অন্যতম বিখ্যাত কাজ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১৬৫৫ থেকে ১৬৬০ সালে এটি আঁকা হয়। অত বছর আগে শুধু রং-তুলির মাধ্যমে এমন নিখুঁত আলোর ছবি ফুটিয়ে তোলা কার্যত অসম্ভব ছিল। কিন্তু মুরিলোর প্রতিভা ও দক্ষতা সে সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বিভিন্ন অ্যাপের সাহায্যে ফোটোগ্রাফ থেকে পেন্টিং তৈরি করা যায়। মুরিলোর কাজ দেখলে মনে হয়, অ্যাপও হার মানবে তাঁর তুলির কাছে!

মুরিলোর ছবিগুলির আর একটি  বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, পরিবারের দৃশ্য, সম্পর্কের দৃশ্য বারবার ফিরে আসে সেখানে। মা-সন্তানের বন্ধন হোক বা বৃদ্ধ মানুষ ও তাঁর স্নেহভাজন তরুণী হোক, অথবা হোক দুই ভাইয়ের বসে ফল খাওয়া– এরকম বিভিন্ন দৃশ্য যেন এক একটা ছায়াছবির মতো জীবন্ত হয়ে উঠেছে মুরিলোর ফ্রেমে।

সেই সঙ্গে লক্ষ্যণীয়, অত বছর আগের পারিবারিক দৃশ্যে বারবার ফিরে আসে পোষা-সাদা-লোমশ কুকুর বা ভেড়া। গোটা ফ্রেমের মধ্যে এই প্রাণীটির অস্তিত্ব যেন আরও বেশি মায়া বাড়ায় ছবিটির। প্রাণ দেয় ছবিটিকে। আবার মা-সন্তানের সম্পর্ক আঁকতে গিয়ে ফুটে ওঠে স্তন্যপানের দৃশ্য। স্নেহ যেন চুঁইয়ে পড়ে আবছায়া রঙের খেলায়।

মুরিলো তাঁর জীবনের বেশিটাই কাটিয়েছেন সেভাইলে। বিখ্যাত পেইন্টার জুয়ান ডেল কাস্টিলোর কাছে প্রথম জীবনে পড়াশোনা করলেও, পরবর্তী কালে মুরিলো তাঁর গুরুকে ছাপিয়ে যান এবং ‘সিভিলিয়ান স্কুল’-এর প্রধান হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁর প্রথম দিকের কাজগুলি জুবারান, জুসেপে দে রিবেরা ও অ্যালোঞ্জো কানোর দ্বার অনুপ্রাণিত।

মুরিলো পরে পেন্টিংয়ে নিজের ধারা গড়ে তোলেন। তাঁর বহু শিষ্য ও ছাত্র ছিল। গেইনসবরো ও গ্রেউজ়ের মতো বিখ্যাত শিল্পীরা তাঁরই কাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন।

Comments are closed.