জন্মদিনে অন্য মৃণাল সেন: তাঁর জন্য গোঁফ পাঠান সত্যজিৎ রায়, সত্যজিতের জন্য বিদেশে ধুতি নিয়ে যান তিনি

মৃণাল সেনের ছবিতেই অমিতাভ বচ্চনের জীবনের প্রথম রোজগার, ৩০০ টাকার চেক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

    তাঁর সৃষ্টি ছুঁয়েছিল আন্তর্জাতিক উৎকর্ষের মাপকাঠি, কিন্তু তাঁর শিকড় বরাবর প্রোথিত ছিল বাংলার বুকে। দেশদুনিয়ার রাজনৈতিক বিষয়গুলি নিয়ে অনায়াসে নাড়াঘাঁটা করেছেন তিনি ছবির পর্দায়। ভিয়েতনাম বা লাতিন আমেরিকায় যুদ্ধ অথবা দেশভাগের ক্ষত– বাদ থাকেনি কিছুই। নিজের বাংলা ছবিতে সেই সব ঘটনার ডকুমেন্টরি ফুটেজ ব্যবহার করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে এমন সব স্টিল ফোটোগ্রাফি ব্যবহার করেছেন, যা বাংলা ছবিকে ঋদ্ধ করেছে। তাঁর ছবিতে ভারত সব সময়ই আন্তর্জাতিক ঘটনাক্রমের সঙ্গে জুড়ে গেছে বৃহত্তর রাজনৈতিক ক্যানভাসে।

    তাই এই বাঙালি পরিচালকের খ্যাতিও আন্তর্জাতিক হয়ে উঠেছে। তিনি মৃণাল সেন। আজ তাঁর জন্মদিন। সবাক ও নির্বাক যুগের চলচ্চিত্রের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন তিনি।

    ফিজিক্স থেকে কমিউনিস্ট পার্টি

    ১৯২৩ সালের ১৪ মে অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম মৃণাল সেনের। হাইস্কুলের পড়াশোনা শেষ করে কলেজে পড়তে কলকাতায় আসেন তিনি। পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও লাভ করেন। তবে পদার্থবিদ্যার ছাত্র হলেও তাঁকে টানত সাহিত্য। তাই লেখার জগতে তাঁর ছিল অপরিসীম টান।

    ছাত্রাবস্থায় কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত হন মৃণাল সেন। আজীবন কমিউনিস্ট জীবনচর্যায় বিশ্বাস রেখে গেছেন। কিন্তু তিনি কখনও কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় পদ গ্রহণ করেননি। ১৯৪৩ সালে সমাজবাদী সংস্থা আইপিটিএর (ইন্ডিয়ান পিপ্‌লস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন) সঙ্গে যুক্ত হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পরে সাংবাদিকতা, ওষুধ বিক্রি, সিনেমায় শব্দকুশলী– এমন নানা রকম কাজ করেন। ভর্তি করেন অভিজ্ঞতার ঝুলি। তবে তখনও কেউ জানত না, সিনেমা তৈরি করেই জগদ্বিখ্যাত হবেন তিনি!

    বিপ্লবের খিদে

    দেশ তখন সবে স্বাধীন হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি অবিচল বিশ্বাস রেখে, তাকে সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চাইতেন একদল যুবক। আনতে চাইতেন এক নতুন বিপ্লব। সেই বন্ধুদলে ছিলেন সলিল চৌধুরী, তাপস সেন, বংশী চন্দ্র গুপ্ত, হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়, নৃপেণ গঙ্গোপাধ্যায় আর মৃণাল সেন। সেই সময়ের ভারতীয় সিনেমাকে কার্যত অন্তঃসারশূন্য বলে মনে হতো তাঁদের। নিজেদের সৃষ্টি দিয়ে বাংলা ছবিতে তাঁরা বিশ্বমানের স্পর্শ আনতে চাইতেন। সেই থেকেই ভাবনার বীজ পোঁতা হয় মৃণালের বুকে। এমনিতেই তারুণ্যের উৎসাহ, তার উপর বিপ্লবের স্বপ্ন। বিফলে যায়নি কিছুই।

    প্রথম ছবির নায়ক উত্তম কুমার

    মৃণাল সেনের প্রথম ছবি ‘রাতভোর’ মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে। উত্তম কুমার ও সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জুটি নিয়ে সেই ছবি। সঙ্গীতে শিল্পীবন্ধু সলিল চৌধুরী। তবে অনেকেই জানেন না মৃণাল সেনের প্রথম ছবির নায়ক ছিলেন উত্তমকুমার।  কারণ ছবিটি পুরোপুরি ফ্লপ করে। পরবর্তীকালে মৃণাল নিজেও আর সেই জাতীয় ছবি বানাননি। বলতে গেলে, ওই ছবিটিকে তিনি নিজের ফিল্মোগ্রাফিতে ধরতেনই না।

    পরে অকপটে স্বীকার করেছেন, সেটি তাঁর বানানো প্রথম ছবি হলেও, তার সঙ্গে তিনি মোটেও একাত্ম হতে পারেননি কখনও। ঐ একই বছর রিলিজ করেছিল সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’। সত্যজিতের প্রথম ছবিই আন্তর্জাতিক খ্যাতির দুনিয়ায় পৌঁছে যায়। কিন্তু মৃণাল সেনের বেলায় তা মোটেও হয়নি। উত্তমের মতো নায়ককে নিয়েও ফ্লপ দিয়েই শুরু করেন কেরিয়ার।

    স্বপ্ন থাকলে সফল হয়

    কিন্তু ফিল্ম তৈরির খিদে যাঁর মধ্যে আছে, তাঁকে কি থামিয়ে রাখা যায়? এদিকে একটি ফ্লপ ছবির নির্মাতা হয়ে টাকা জোগাড় করাও কঠিন। এই অবস্থায় মৃণালের জন্য প্রযোজক হয়ে এগিয়ে এলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তাঁরই প্রযোজনায় মৃণাল সেনের দ্বিতীয় ছবি, ‘নীল আকাশের নীচে’। কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় এ ছবির সম্পদ। সঙ্গে হেমন্তের ভরাট কণ্ঠ। বাকিটা ইতিহাস।

    এর পরে মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বানালেন ‘বাইশে শ্রাবণ’। এই ছবিটি পেল ‘ক্লাসিক’ তকমা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই ছবির পরে আর মৃণাল সেনকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে মৃণাল সেনের ছবির সব বিষয়বস্তু গতানুগতিক ছিলনা তাই প্রযোজক পাওয়াও মুশকিল হত। এক সময়ে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ও ছবি বানাতে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন মৃণাল সেনকে।

    সাবিত্রীকে দেখা গেছে মৃণালের ‘অবশেষে’ এবং ‘প্রতিনিধি’– এই দু’টি ছবিতে। যদিও সে ছবি দুটি স্বল্পালোচিত।

    মৃণাল গীতা একে অপরকে আগলে রেখেছেন

    এক সময়ে চাকরি বাকরি ছেড়ে বেকার হয়ে গেলেন মৃণাল। দিন কাটছিল চরম দারিদ্র্যে। সেই সঙ্গে বাড়ছিল সিনেমা তৈরির তীব্র ইচ্ছে। এ রকমই সময়ে এক মার্চ মাসে তিনি বিয়ে করে ফেললেন গীতা সেনকে। গীতা সেন ছিলেন অনুপ কুমারের মামাতো বোন। উৎপল দত্তের দলে এবং গণনাট্য সংঘে অভিনয় করতেন তিনি।
    মৃণাল-গীতার সংসার শুরু হল মনোহরপুকুর রোডে একটা ছোট ভাড়া বাড়িতে। অনুপ কুমারের আদি বাড়ি ছিল পাইকপাড়ায়, কিন্তু টালিগঞ্জে কাজ করার সুবাদে তিনি থেকে যেতেন বোন গীতার সংসারেই। অনুপ কুমারের হাতে তখন অনেক ছবি। তাঁর সাহায্যেই তখন মৃণাল সেনের সংসার চলেছে অনেকটা সময় ধরে।

    পরে মৃণাল তাঁর ছবিতে আনলেন গীতা সেনকে। কলকাতা ৭১, একদিন প্রতিদিন, খণ্ডহর, আকালের সন্ধানে, মহাপৃথিবী– প্রতিটি ছবিতে মায়ের চরিত্রে গীতা সেনের অভিনয় প্রশংসিত। ওঁদের এক ছেলে কুণাল সেন, যিনি চিরকাল বাবাকে বন্ধু বলেই ডেকে এসেছেন। শুরুর দিকের ছবিতে ছেলে কুণালকে নিয়ে গীতা আউটডোরেও যেতেন।

    সিনেমায় নয়, পরিবারে সঙ্গী ছিলেন অনুপ কুমার

    মাধবী মুখোপাধ্যায়ের থেকে শোনা, হোটেলের ঘরের চাদর বালিশের ওয়াড় বদলাতে ছেলেকে নিয়ে মৃণাল সেনের ঘরে আসতেন গীতা। নিজেদের মধ্যে মজার ঝগড়া লেগেই থাকত। মাঝেমাঝে কথা বন্ধ দুজনের, গীতা দরকারি কথা কাগজে লিখে মৃণালকে দিয়ে যেতেন। মৃণাল যেহেতু ছবি বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তাই বাবার সঙ্গ অনেকটাই কম পেয়েছেন ছেলে কুণাল। তবে মামা অনুপ কুমার তা পুষিয়ে দিতেন। গীতা সেন অনুপকে অনু বলতেন, ছেলে কুণালও তাই অনু বলেই ডাকতেন। সব ধরনের আবদার মেটাতেন সেই অনু। কালীপুজোয় চিনাবাজার থেকে বাজি কিনে আনা হোক, বা বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ির লড়াই।

    তবে মৃণাল সেনের ছবিতে অনুপ কুমার বেশি কাজ করেননি কখনওই। কারণ মৃণাল সেনের ছবিগুলিতে যেধরনের চরিত্র থাকত, সেগুলির সঙ্গে হয়তো খাপ খেতেন না অনুপ কুমার। পরে যদিও ‘পলাতক’-এর মতো সিনেমায় দুর্দান্ত কাজ করেন অনুপ কুমার।

    পারিবারিক মানুষ

    শোনা যায়, সময়ে সময়ে দারিদ্র্য চিরসঙ্গী হয়ে থেকে গেছে মৃণালের সংসারে। এমন অনেক দারিদ্র্যের দিন গেছে, যে গীতা সেন হয়তো ভাতের জল চাপিয়েছেন হাঁড়িতে, মৃণাল কি অনুপ বাজার থেকে চাল কিনে আনলে তবে ভাত হয়েছে। তবে ওঁরা যখন পরে আর্থিক ভাবে সচ্ছল হন, তখনও কিন্তু মৃণাল-গীতা আড়ম্বরের জীবন বেছে নেননি। কোনও কিছুর সামনেই নিজেদের বিকিয়ে দেননি তাঁরা। কুণাল এখন আমেরিকা নিবাসী। গীতা সেনের মৃত্যুর পরে মৃণাল সেন ভেঙে পড়লেও মুখের হাসি ম্লান হয়নি। নিজেও বহুদিন অসুস্থ ছিলেন।

    মাধবী মুখোপাধ্যায়কে একবার মৃণাল সেন দুঃখ করে বলেছিলেন, “ছেলেমেয়ে বেশি শিক্ষিত হয়ে গেলে এদেশে আর তাঁদের বাবা-মার কাছে রাখা যায় না।” যদিও কুণাল সেন ও তাঁর বিদেশিনী স্ত্রী নিশা বাবা-মার প্রতি কোনও দায়িত্ব পালনে খামতি রাখেননি। মৃণাল সেনের মৃত্যুর পর কুণাল গোর্কি সদনে স্মরণসভায় বলেছিলেন “কলকাতা থেকে আমেরিকায় ফিরে ফোন করার থাকত প্রতিবার। জানাতাম, ভাল ভাবে পৌঁছে গেছি। এবার আর কোনও ফোন করার রইল না।”

    সত্যজিৎ ও মৃণাল

    বন্ধু বংশী চন্দ্রগুপ্তর সূত্রে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে প্রথম আলাপ মৃণাল সেনের। সত্যজিৎ তখন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করতেন। ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটি থেকেই আলাপ সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক এই তিন মহারথীর। মৃণালের হিন্দি ছবি ‘ভুবন সোম’ তখনও তৈরি হয়নি। মৃণালের একটি বই ‘চার্লি চ্যাপলিন’ এর প্রচ্ছদ করে দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়, বিনা পারিশ্রমিকে। শোনা যায়, মৃণাল যখন ছবিটা আনতে গেলেন সত্যজিতের বাড়ি, তিনি বলেছিলেন “কত টাকা দেব আপনাকে?” সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন “এক কাপ চা খান আমার সঙ্গে আর খান সিগারেট।”

    মৃণাল সেন বুঝেছিলেন সত্যজিৎ রায় পারিশ্রমিকের কথা তুলতে চান না।

    ইতিহাস গড়ল ভুবন সোম

    হিন্দি চলচ্চিত্রে বাঁক বদল ঘটায় মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ ছবিটি। ১৯৬৮ সালে এই থবির শ্যুটিংয়ে গুজরাতে গিয়ে মৃণাল দেখেন এক অভিনেতার জন্য গোঁফের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি পাচ্ছিলেন না পছন্দমত গোঁফ। কলকাতা থেকে দু’দিনের মধ্যে টেলিগ্রাম পেলেন সহকারীর, গোঁফ পাঠাচ্ছেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়!

    ভুবন সোম ছবিতে উৎপল দত্ত জীবনের সেরা অভিনয় করেছেন বলে মনে করেন অনেকেই। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। ‘ভুবন সোম’ ছবিতে উৎপল দত্তের মতো নাট্য ব্যক্তিত্বের সামনে মৃণাল সেন দাঁড় করিয়ে দেন নবাগতা সুহাসানী মুলেকে, যাঁর প্রথম অভিনয় এই ছবি। আবার এই ছবিরই ধারাভাষ্যতে জীবনের প্রথম ভয়েস ওভার করেন অমিতাভ বচ্চন। পেয়েছিলেন জীবনের প্রথম রোজগার তিনশো টাকার চেক। কেকে মহাজনের প্রথম ক্যামেরার কাজও এই ছবিতে এবং সঙ্গীতে বিজয় রাঘব রাওয়েরও প্রথম কাজ এখআনেই। নতুন যৌবনের দূতেরা যেন ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন বাঁক বদল ঘটালেন।

    কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও ধুতি-পাঞ্জাবি

    ১৯৮৩-তে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সত্যজিৎ পাবেন লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। মৃণাল সেন রয়েছেন বিচারকমণ্ডলীতে। ফ্রান্সে পৌঁছে গিয়েছেন সত্যজিৎ। কিন্তু ওখানে ড্রেসকোড স্যুট শুনে সত্যজিৎ বেঁকে বসলেন। উনি ধুতি-পাঞ্জাবি পরেই পুরস্কার নেবেন। কিন্তু কে পৌঁছে দেবে ধুতি-পাঞ্জাবি? মৃণাল সেনকে ফোন করলেন সত্যজিতের স্ত্রী বিজয়া রায়। জানিয়ে দিলেন, সত্যজিতের জন্য যেন উনি ধুতি-পাঞ্জাবি আর শাল নিয়ে যান। সেইমতো কানে সেইসব নিয়ে গেলেন মৃণাল সেন। সত্যজিতের পাঠানো গোঁফের ঋণ সেদিন শোধ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এতটাই হৃদ্যতা ছিল দুই পরিচালকের।

    কান-এ মৃণাল সেনই প্রথম ভারতীয় জুরি

    ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯, আট বার কান উৎসবে গিয়েছেন মৃণাল সেন। কখনও জুরিতে থেকে, কখনও আবার নিজের ছবি নিয়ে। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সঙ্গে ১৯৮২-তে কানের কমিটিতে ছিলেন তিনি। মৃণাল সেনই কানের মতো আন্তর্জাতিক আঙিনায় প্রথম ভারতীয় জুরি।

    তবে এই কান নিয়েই এক সময় সত্যজিৎ ও মৃণালের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। মৃণাল সেন বলেছিলেন, “খণ্ডহর সিনেমাটি যখন কানে যায়, সত্যজিৎ রায় তখন অসুস্থ। ‘ঘরে বাইরে’ শেষ করেছেন। কমিটি থেকে আমাকে বলা হয়েছিল, ‘খণ্ডহর’টা প্রাইজ উইনিং ক্যাটাগরি থেকে তুলে নিতে। যুক্তি ছিল, যদি আমার ছবি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যায়, তাহলে রে-র ছবি লজ্জার মুখে পড়ে যাবে। ওঁরা নিশ্চিত ছিলেন, এটাই মানিকবাবুর শেষ ছবি। আমি ওঁদের বলেছিলাম, চিন্তা করবেন না, রে সুস্থ হয়ে উঠবেন। আবার ছবি করবেন।”

    স্টারমেকার মৃণাল

    মৃণাল সেনের ছবিতে যারা ছিলেন নবাগত বা নবাগতা, পরে তাঁদের অনেকেই সুপারস্টার হয়েছেন। মিঠুন চক্রবর্তী আর মমতা শংকর দুজনকে নিয়ে মৃণাল সেন বানান ‘মৃগয়া’। এ ছবির মাধ্যমেই এল দুই শ্রেষ্ঠ অভিনেতা অভিনেত্রী। অনসূয়া মজুমদারের প্রথম রিলিজড ছবি ‘মহাপৃথিবী’। কৌশিক সেনের প্রথম শিশুবেলায় হাতেখড়ি মৃণাল সেনের ‘একদিন প্রতিদিন’-এ মমতা শঙ্করের ছোট ভাইয়ের চরিত্রে। শ্রীলা মজুমদারের প্রথম ছবি মৃণালের ‘পরশুরাম’। অঞ্জন দত্তর প্রথম ছবি ‘চালচিত্র’ কিংবা রঞ্জিত মল্লিকের প্রথম ছবি ‘ইন্টারভিউ’।

    ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হন পরিচালক। সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে গিয়েছে তাঁর বহু ছবি। তবু আজও সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় উজ্জ্বল তাঁর সৃষ্টি। সুস্পষ্ট রাজনৈতিক চেতনা ও নান্দনিক দক্ষতা– এই দুইয়ের মিশেলে বাংলা সিনেমার জগতে যে ঐতিহাসিক বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছেন তিনি, তাকে আজও কুর্নিশ জানায় গোটা বিশ্ব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More