দীর্ঘ দাম্পত্যেও মাধুর্য বাঁচিয়ে রাখার কথা বলতেন ঋষি-নীতু, এ চিরবিচ্ছেদ যেন হিসেবের বাইরে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

    কিশোর বয়সে তাঁর বলিউডে অভিষেক। ‘টিনেজার হিরো’ থাকাকালীন নিজের ইমেজ ধরে রেখেছিলেন ‘চকলেট বয়’ হিসেবেই। কিন্তু পরে বয়স অনুযায়ী নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে নিয়ে সাহসী এক্সপেরিমেন্ট করেছেন তিনি। কখনও ভিলেন, দালাল, কখনও বা নারী চরিত্রে, কিংবা সমকামী চরিত্রে, কখনও আবার ৯০ পেরোনো বৃদ্ধ– সবই করেছেন তিনি। তিনি বলতেন, “দর্শককে সেল্‌সম্যানের মতো সব রকমই অভিনয় দেখাচ্ছি। কোনও না কোনওটা নিশ্চয়ই পছন্দ হবে।”

    তিনি ঋষি কাপুর। ভারতীয় সিনেমার প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা, আজ চলে গেলেন চিরঘুমে।

    তুখোড় অভিনেতা হিসেবে আর পাঁচ জন সমসাময়িকের মধ্যে একেবারে এক নম্বরে থাকত না তাঁর নাম। পুরস্কারের ঝুলিও সেভাবে উপচে পড়েনি। তবু কোনও এক অলিখিত জাদুবলে, ৭০-৮০-৯০ এই তিন দশক ধরে চিরকালীন রোম্যান্টিক হিরো তিনি। পরবর্তী কালে তাঁর অভিনয় ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে আরও জোরালো ভাবে। বয়স বাড়ার পরে একসময়ে ছোট চরিত্র হলেও দেখিয়েছেন তাঁর প্রতিভা, তবু চট করে নায়কের বাবার চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি ঋষি কাপুর।

    স্টার কিড হলেও ঋষির লড়াই কম ছিল না

    ঋষি কাপুর ছিলেন তারকা পরিবারেরই সন্তান। ডাক নাম চিন্টু। ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫২ সালে জন্ম ঋষির।  রাজ কাপুর-কৃষ্ণা কাপুরের পাঁচ ছেলে-মেয়ে। রণধীর কাপুর, ঋতু কাপুর নন্দা, ঋষি কাপুর, রিমা কাপুর জৈন ও রাজীব কাপুর। বলতে গেলে বলিউডের সর্বোচ্চ মহাতারকা পরিবারেই ছেলেবেলা কাটিয়েছেন ঋষি।  কিন্তু তাই বলে তাঁর লড়াই কম ছিল না।

    লতা মঙ্গেশকরের কোলে ছোট্ট চিন্টু।

    ঋষি কাপুরকে হয়তো ফুটপাথে রাত কাটাতে হয়নি কিংবা আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়নি। বলিউডে জায়গা পেতে এক কামরার ঘরে স্ট্রাগলও করতে হয়নি। কিন্তু তাঁর লড়াইটা অন্য রকম ছিল। স্টারকিডদের লঞ্চ পেতে অসুবিধে হয় না কোনও কালেই। কিন্তু তার পরে সেই জায়গাটা ধরে রাখা তাঁর নিজের উপর নির্ভর করে। কত স্টার কিড তো একটা দুটো ছবি করেই হারিয়ে গেছেন। রাজ কাপুর কিন্তু পৃথ্বীরাজ কাপুরের জন্য বিখ্যাত হননি। কিংবা ঋষি কাপুরও রাজ কাপুরের জন্যে টিকে যাননি।

    তাঁদের আরকে প্রোডাকশানের ক্ষমতা ছিল, নিজেদের প্রোডাকশান হাউস ছিল তবু এতগুলো দশক ঋষির নায়ক হয়ে থেকে যাওয়া কম কঠিন ছিল না।

    আত্মপ্রকাশ বাবা রাজ কাপুরের ছবি ‘শ্রী ৪২০’ দিয়ে

    ঋষির প্রথম ছবি কিন্তু ‘মেরা নাম জোকার’ নয়। অনেকেই এই তথ্যটা সত্যি বলে জানলেও, আসলে একদম শিশুবেলাতেই ঋষিকে সিনেমার পর্দায় দেখা যায়, তাও একটি আইকনিক গানে। রাজ কাপুর-নার্গিস অভিনীত ‘শ্রী ৪২০’ গানে রাজ কাপুর তাঁর তিন ছেলে-মেয়েকে বৃষ্টিতে রেনকোট পরে যাওয়ার দৃশ্যে ব্যবহার করেছিলেন। সেখানেই ছিলেন ঋষিও।

    শোনা যায়, সেদিন নার্গিসের থেকে চকলেট পেয়ে ভারি খুশি হয়েছিল ছোট্ট ঋষি। কিন্তু সেই ছোট্ট ঋষি যত বড় হতে থাকে তত সে বুঝতে পারে, ফিল্ম লাইন আর ফিল্মি পরিবারের হালচাল। এই সময়ে নার্গিস-রাজ কাপুর দেশের বিখ্যাত জুটি। রাজ-নার্গিসের ভিতরের সম্পর্কের প্রভাবও পড়ে রাজ কাপুরের স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের ভিতর। সে সময়ে আরকে প্রোডাকশনের ছবি থেকে লোগো সবেতেই চলে আসে নার্গিসের মুখ। পরে যদিও নার্গিস-প্রভাব কাটিয়ে ওঠেন রাজ। এর পরেই রাজ কাপুর-বৈজয়ন্তীমালা জুটি হিট করে যায় এবং রাজ-বৈজয়ন্তী প্রেমও শুরু হয়।

    Khullam Khulla: Rishi Kapoor says Raj Kapoor had affairs with ...নায়িকাদের সঙ্গে নায়ক প্রযোজকদের প্রেমে তখন এই জুটি যেন হটকেক। এছাড়াও এক দক্ষিণী নায়িকার সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রাজ। এক সময়ে নাবালক ঋষিকে নিয়ে ঘর ছাড়েন রাজ কাপুরের স্ত্রী। বাবা-মার সেপারেশন যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল ছোট্ট চিন্টু অর্থাৎ ঋষির মনে, যা বড় হয়েও ভুলতে পারেনি সে।
    পরে অবশ্য সংসারে জোড়া লাগে, রাজ কাপুর মারা যান। এর পরে বৈজয়ন্তীমালা তাঁর সঙ্গে রাজ কাপুরের প্রেম অস্বীকার করেন। এমনও বলেন, “কাপুর পরিবার প্রচার পেতে তাঁকে জড়িয়ে এসব করেছে।”

    Rishi Kapoor says Raj Kapoor had affairs with Nargis and ...পরে নায়ক হয়ে ঋষি কাপুর এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বৈজয়ন্তীমালা ভালবাসার কথা অস্বীকার না করলেও পারতেন। ছেলে হয়ে তিনি জানেন কী কারণে তাঁদের ঘর ছাড়তে হয়েছিল। তাঁর বাবা বেঁচে থাকলে অন্তত বৈজয়ন্তীমালা এভাবে অস্বীকার করতেন না সম্পর্কের কথা।

    মেরা নাম জোকারে জাতীয় পুরস্কার

    ১৯৭০ সালে ‘মেরা নাম জোকার’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন ঋষি কাপুর। তখন সদ্য কিশোর তিনি। এক টিনেজ ছাত্রের তার দিদিমণির ওপর ‘ক্রাশ’, এই নিয়ে সেই কিশোরটি কী কী ফ্যান্টাসি করে– তাই নিয়ে সিনেমা। সেই কিশোর চরিত্রে ঋষি তাক লাগিয়ে দেন সিমি গারোয়ালের বিপরীতে। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ‘মেরা নাম জোকার’ বেশ সাহসী ছবি ছিল। ছিল সাহসী দৃশ্যও। বয়ঃসন্ধির দুঃসাহসিক ফ্যান্টাসি ছবিটিতে তুলে ধরেন ঋষি কাপুর।

    awesome Mera Naam Joker - Drama Scene - Rishi Kapoor - Simi ...অসমবয়সি প্রেমের সাহসী দৃশ্যও ছিল ছবিতে। কিশোর ছেলে গাছের ফাঁক দিয়ে দেখছে যৌবনসরসী সিমির কাপড় বদলানোর দৃশ্য। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে কোনও কিশোর অভিনেতার পক্ষে একেবারেই সহজ ছিল না এই চরিত্রটি করা। কিন্তু ভরসা ছিলেন বাবা রাজ কাপুর। ছেলেকে দিয়ে ঠিক করিয়ে নিয়েছিলেন কঠিন কাজ। আর এই ছবিতে অভিনয় করেই অপাপবিদ্ধ মুখের ঋষি কাপুর শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়ে যান।

    ডিম্পল-ঋষি, প্রথম যৌবনের আগুন

    রাজ কাপুরের আর এক ঝড় তোলা সুপার ডুপার হিট ছবি ‘ববি’। যে ছবি দিয়েই নায়ক রূপে প্রথম অভিষেক হয় ঋষি কাপুরের। রাজ কাপুর ঋষির বিপরীতে নায়িকা হিসেবে চেয়েছিলেন হেমন্ত-পুত্রবধূ মৌসুমী চ্যাটার্জীকে। তখন সদ্য বালিকা বধূ করেছেন মৌসুমী। কিন্তু মৌসুমী ঐ সাহসী নায়িকার রোলে কম পোষাকের জন্য রাজী হননি। শেষমেষ রাজ কাপুর খুঁজে বের করেন ডিম্পল কাপাডিয়াকে।

    Bobby: Raj Kapoor's 1973 film starring Rishi, Dimple Kapadia is a ...‘হাম তুম এক কামরেমে’, ‘ঝুট বলে কাউয়া কাটে’, ‘ম্যায় শায়র তো নাহি’– ববির প্রতিটি গান তুমুল হিট হয় এবং দর্শকও রোমাঞ্চিত হন নবীন বসন্তের মতো ঋষি-ডিম্পল জুটিকে দেখে। এই সিনেমাতেই প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে ঋষি কাপুর ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান ১৯৭৪ সালে।

    Rishi kapoor dance khullam khulla with Neetu on Kapil Sharma's showডিম্পল মাঝে বিয়ে-সংসারের কারণে বিরতি নিলেও, পরে ‘সাগর’ ছবি দিয়ে আবার ঋষি-ডিম্পল জুটি ফিরে আসে আশির দশকে। সাগর ছবির পূর্ণ যৌবনের আবেদনে রোমাঞ্চিত হয় তামাম ভারত। ফের দীর্ঘ বিরতি এই জুটির। কিন্তু ‘পেয়ারমে টুইস্ট’ ছবিতে আবার প্রত্যাবর্তন। ‘খুল্লাম খুল্লা পেয়ার’ গানে নাচলেন বহু বছর পর প্রৌঢ় বেলায় ঋষি-ডিম্পল।

    বিয়ের আগে মূর্ছা গিয়েছিলেন নীতু

    নীতু শিং একদম শিশু বয়স থেকে ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। তখন নাম ছিল বেবি সনিয়া। যখন নীতু চোদ্দো, তখন ঋষি স্টার। তবু চোদ্দোর নীতু প্রেমে পড়েন ঋষি কাপুরের। এও শোনা যায়, ববি ছবির জন্য নীতুও অডিশন দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বরাত খোলেনি বলে ডিম্পল সুযোগ পান। পরে ডিম্পল খান্না হয়ে যান কারণ বেশ ছোটবেলাতেই ডিম্পল রাজেশ খান্নার ঘরণী হয়ে যান এবং সিনেমা ছেড়ে দেন। অন্যদিকে নীতু সুযোগ পান ঋষির পরের ছবিগুলোতে নায়িকা রূপে। ব্যস এভাবেই বলিউডে দাঁড়িয়ে যায় ঋষি-নীতু জুটি। এই জুটির একের পর এক ছবি সুপারহিটও হয়: অমর আকবর অ্যান্টনি, খেল খেল মে, কাভি কাভি। সুপারহিট হয় গানগুলোও।

    সেই সঙ্গে তখনকার সমস্ত সিনে পত্রিকায় ঋষি-নীতু প্রেম নিয়ে জোর জল্পনা।

    ১৯৮০ সালে সব জল্পনা সত্যি করে ঋষি-নীতুর বিয়ে হয়। বিশাল তারকাখচিত বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন ছ’হাজার মানুষ। ঋষির বিয়েতেই আবার মুখোমুখি হন আবার নার্গিস ও রাজ কাপুর। খাবারের পাহাড় আর সুরার ফোয়ারায় অতিথিরা মাত হয়ে যান। শেরোয়ানি পরে ঋষিকে ঠিক পাঞ্জাবি বরের মতোই লাগছিল। নীতু নাকি বিয়ের দিন সকালে খানিক ক্ষণের জন্য জ্ঞান হারান। বিয়ের ধকলে নীতুকে বেশ অসুস্থও দেখাচ্ছিল অনুষ্ঠানে।

    রণধীরের স্ত্রী ববিতার পরে আরও এক চিত্রনায়িকা গৃহবধূ হয়ে এলেন কাপুর পরিবারে। নীতুর বিয়েতে কনে সাজানোর দায়িত্বে ছিলেন তাঁর প্রিয় বান্ধবী রেখা।

    তখন নীতু নায়িকা হিসেবে খ্যাতির মধ্যগগনে। কিন্তু অজানা এক কারণে নীতু বিয়ের পরেই ছেড়ে দিলেন ফিল্ম জগত। যখন তাঁকে পরে জিজ্ঞেস করা হয়, “আপনি যখন কাপুর পরিবারে শ্বশুরবাড়ি গেলেন, কী মনে হত আপনার? একসঙ্গে রাজ কাপুর, শাম্মী কাপুর, শশী কাপুর, রণধীর কাপুর, ঋষি কাপুরকে দেখে চমকে যেতেন?”

    তিনি উত্তর দেন “আমিও ফেলনা নই, আমিও আ্যওয়ার্ড উইনার অভিনেত্রী।”
    কিন্তু ছবির জগত ছাড়া নিয়ে কাপুর পরিবারকে কখনও দোষ দেননি নীতু। সব সময় বলেছেন, নিজের ইচ্ছেয় ছেড়েছেন তিনি ফিল্মজগৎ। গুছিয়ে সংসার করতেই চেয়েছেন।

    চাঁদনির রোলে প্রথম পছন্দ ছিলেন রেখা

    যশ চোপড়া যখন চাঁদনির চিত্রনাট্য লেখেন, রেখাকে ভেবেই লেখেন। পরে ফাইনাল করেন দুই নায়ক ঋষি কাপুর আর বিনোদ খান্নাকে। কিন্তু ঋষিকে নায়ক করার জন্যই তাঁর মনে হয়, রেখার মতো নায়িকাকে নিলে নায়করা অস্তমিত হয়ে থাকবেন ছবিতে। ঋষির বিপরীতে রেখা চলবে না। এই সময় ‘সদমা’তে শ্রীদেবীকে দেখেন যশ চোপড়া। আর ফাইনাল করে ফেলেন তাঁর চাঁদনিকে। হলুদ শাড়িতে শ্রীদেবীর লিপে লতাজির গানের সঙ্গে ঋষি কাপুরের চিরন্তন তারুণ্যে এক রঙিন রোম্যান্টিক কাব্য রচিত হয়।

    Chandni' turned around Yash Chopra's fortunes, but he initially ...

    মাধুরী ঋষির প্রেমগ্রন্থ

    আশির দশক থেকে নব্বই জুড়ে ঋষি হার্ডকোর বাণিজ্যিক ছবির নায়ক হয়ে ওঠেন। মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতে ঋষির ‘প্রেমগ্রন্থ’ কিংবা ‘ইয়ারানা’ বেশ হিট করে। অন্যদিকে মীনাক্ষী শেষাদ্রীর সঙ্গে ‘দামিনী’। দিব্যা ভারতী থেকে জুহি চাওলার বড় হিটও ঋষির সঙ্গেই। এই অধ্যায়ে বাণিজ্যিক ছবিতে এত কাজ করেছেন ঋষি, যে পরে সেই নিয়ে আক্ষেপ করতেন। একজন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতাকে পরের দিকে সবাই ব্যবহার করল ছবি হিট করাতে। কিন্তু একটু অন্যরকম চরিত্রে কেউ ভাবল না তাঁকে ওই সময়ে। যেটা করার ইচ্ছে ও ক্ষমতা দুই-ই তাঁর ছিল। ‘খোঁজ’ ছবিতে ঋষি কাপুরকে খলনায়কের চরিত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দর্শক তাঁর চরিত্রকে কী ভাবে নেবেন, সেই ভেবে ক্লাইম্যাক্সে পরিবর্তন আনা হল।

    কিন্তু চাঁদনি, প্রেমগ্রন্থ– ছবিগুলো তো আমাদের প্রেমের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল। সেই সত্তর দশকের ‘ববি’ থেকে ‘ও হানসিনি’  হয়ে ‘সরগম’ ফ্যাশন আইকন ঋষি কাপুর। যিনি পরে নিজের সম্পর্কে বলেছেন “আমি ছিলাম রোম্যান্টিক চকলেট বয়। হঠাৎ ১৯৭৩ সালে মিস্টার বচ্চনের আবির্ভাবের সঙ্গে পুরো হিন্দি সিনেমার ধরনই বদলে গেল। অ্যাংরি ইয়ং ম্যান ছাড়া দর্শক আর কিছু দেখতে চাইত না। আমার সমসাময়িক নায়করা তখন সকলে অ্যাকশন ছবিতে স্টান্ট করছেন। আর আমি ২৫ বছর ধরে রোমান্টিক ছবিতে নাচগান করে বেড়িয়েছি। তাই আমার টিকে থাকার লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন ছিল।”

    Rishi Kapoor's reaction on Salman Khan 'Rape' comment makes sense ...নায়ক রূপে অনিল কাপুর, সলমন খান, শাহরুখ খান, আমির খানদের সাম্রাজ্য শুরু হয়ে গেল তার পরে। এদিকে ঋষির বয়স বাড়ছে, চেহারা ভারী হচ্ছে। নিলেন কিছু বছরের বিরতি।

    পরের দিকে অবশ্য বেশ কিছু ছবিতে অন্যরকম অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। ডি ডে, কাপুর এন্ড সনস, অগ্নিপথ, ১০২ নট আউটে তাঁর অনবদ্য স্পষ্টবাদী অভিনয় মনে রেখেছেন সকলে।

    102 Not Out review: Is Amitabh Bachchan really over a hundred? I ...১০২ নট আউট করতে গিয়ে প্রিয় বন্ধু অমিতাভ বচ্চন সম্বন্ধে ঋষি বলেছিলেন, “আমরা ছ’টা ছবি একসঙ্গে করেছি। শেষ ছিল ‘আজুবা’। ২৭ বছর বাদে আবার একসঙ্গে ছবি করলাম। মিস্টার বচ্চন যে ভাবে ওঁর চরিত্রকে ভালবাসেন, সেটা আমি ওঁর কাছ থেকেই শিখেছি। আর ওঁর বিনয় তো সকলের জানা।”

    আজ ঋষির মৃত্যু সংবাদ সবার প্রথম টুইট করেন অমিতাভ বচ্চনই। তিনি বিধস্ত হয়ে পড়েন প্রিয় বন্ধুর দুঃসংবাদে।

    পরিবার আর ভালবাসাকে জড়িয়ে থেকেছেন

    ছেলে রণবীর কাপুর, ঋষি কাপুরের যোগ্য উত্তরসূরী। পরিশ্রম করে রণবীর কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তাঁর সাক্ষী ঋষি-নীতু দু’জনেই। ওঁদের আর এক মেয়ে ঋদ্ধিমা কাপুর সাহানি।  সবই সুন্দর ছিল, থাবা বসাল ক্যানসার। দু’বছরের লড়াই শেষ। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েও শেষরক্ষা হল না। ঋষি মাঝে সুস্থ হয়ে নীতুর জন্মদিন পালন করেছিলেন প্যারিস গিয়ে। সেই লাভস্টোরির ইতি টানা হল যেন আজ।

    Rishi Kapoor's Family Statement On Demise: “He Kept The Medical ...ঋষি-নীতু দুজনেই বলতেন, রোমান্স মানে দিনে একশো বার আই লাভ ইউ বলা নয়, রোমান্স মানে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার নয়, মূল্যবান উপহার নয়, রোমান্স মানে একে অপরকে বুঝতে পারা, সে তাঁর কষ্ট না বললেও, ভরসা, নির্ভরতা, মাধুর্য বাঁচিয়ে রাখা দীর্ঘ দাম্পত্যে দুঃখ কষ্টের মধ্যেও। এটাই হল আসল ‘কাপল গোলস’।

    Teenage Love To A Rock-Solid Marriage, This Is The Neetu-Rishi ...নীতু সিং যেন সেটাই করে গেলেন এত গুলো বছর। ভালবাসার জন্য শুধু স্বামীকে নয় সমগ্র কাপুর পরিবারকে জড়িয়ে থাকলেন নীতু। ঋষি কাপুর ক্যানসারের যুদ্ধে জীবনের সমাপ্তি টানলেও, ঋষি-নীতু প্রেম শাশ্বত অমর হয়ে থাকবে। এ ছিল তাঁদের একটা সেলিব্রেশন। যা চিরদিনের, চিরন্তন।

    আর ঋষি কাপুর যেন সিনেমার মতোই প্রাণখোলা এক চরিত্র। তাই তিনি নিজের যে আত্মজীবনী লিখেছেন, যেখানে খুবই অকপট কলম খুঁজে পেয়েছেন পাঠকরা। পিতার প্রণয় থেকে নিজের উত্থান-পতন, বলিউডের মারপ্যাঁচ থেকে ছেলের স্টার হওয়া– সব নিয়েই মুখ খুলেছেন তিনি।

    আত্মজীবনীর নামও তাই ‘খুল্লাম খুল্লা’। তাঁর অভিনীত গানের নামেই।

    Rishi Kapoor Passes Away: Aamir Khan to Priyanka Chopra ...

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More