হিরোশিমা-নাগাসাকির ৭৫ বছর: ছোট্ট ছেলের ইতিকথা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অর্কপল কর

রুপোলি পর্দায় বা বাস্তবে মার্কিন সামরিক আধিপত্য একচেটিয়া। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর একথা আরও বেশি করে প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর প্রবাদপ্রতিম দাপট একদিনে গড়ে না উঠলেও তার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে। জাপানি কারিগরি শিক্ষা এবং প্রযুক্তিকে অসমর্থ বলে মনে করেছিল মার্কিন সামরিক উপদেষ্টামণ্ডলী , ফলস্বরূপ দুর্ভেদ্য বন্দর পার্ল হারবার আর প্রশান্তমহাসাগরীয় নৌবাহিনী তছনছ হয়ে যায় জাপানি টর্পেডোতে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বয়স যখন সবে মাত্র বছর দুই, তখনই নাৎসি জার্মানির হাতে ব্রিটিশদের নাভিশ্বাস উঠেছে। মার্শাল স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন অপারেশন বার্বারোসার জালে নাস্তানাবুদ। কিন্তু এশিয়া তখনও তুলনামূলক শান্ত। জাপান প্রহর গুনছে। ব্রিটিশরা তাদের সাধের রবার এবং খনিজ তেলের উৎস দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জকে আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছে ‘Lend-Lease’ চুক্তিতে, যুদ্ধাস্ত্রের বিনিময়ে। তখন জার্মানি এবং ইতালির সঙ্গে জাপান হাত মেলানোয় সমস্ত খনিজ তেলের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়। হোয়াইট হাউসের সে নিষেধাজ্ঞা ছিল কড়া ধাঁচের।

যুদ্ধের অপরিহার্য উপাদান এবং মার্কিনীদের সঙ্গে শত্রুতা— সব মিলিয়ে জাপান উভয়সঙ্কটের সম্মুখীন হয় সে সময়ে। জাপানি ভাইস অ্যাডমিরাল ইসোরকু ইয়ামামোতো যৌবনে আমেরিকায় বসবাস করার দরুণ সে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা, নৌশক্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যপারে ওয়াকিবহাল ছিলেন। তিনি জানতেন জাপানি সৈন্যদের কাছে সময় মাত্র ছ’মাস থেকে এক বছর। এর মধ্যেই দখল নিতে হবে প্রাকৃতিক সম্পদে ঠাসা ফিলিপাইন, গুয়াম, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের। তার জন্য সবার আগে দরকার মার্কিন নৌবাহিনীর অনুপস্থিতি। তাই এক অতর্কিত হানায় মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্তমহাসাগরীয় শাখাকে ধ্বংস করে দিলে এই ‘আমোদপ্রবণ-বেলেল্লা জাত’ আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না— এই ছিল কৌশল।

৭ ডিসেম্বর ১৯৪১। সকাল আটটা। ছ’খানা জাপানি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে ৪০০-র অধিক জাপানি ‘জিরো’ এবং ‘টর্পেডো’ বম্বার একযোগে হামলা চালায় পার্ল হারবার নৌবন্দর এবং বিমানবন্দরে। ২৪০০ মার্কিন সেনা প্রাণ হারান ওই হামলায়। নৌবাহিনীর গর্ব ইউএসএস অ্যরিজোনা ডুবে যায়, অগভীর জলে বিশেষ ভাবে প্রস্তুত জাপানি টর্পেডো জাহাজের সারিতে আছড়ে পড়ে। কিন্তু সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যক্রমে হামলার মূল নিশানা মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলি অক্ষতই থেকে যায়। জাপান একইসঙ্গে আক্রমণ চালায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জেও।

Attack on Pearl Harbor - 1941 | Atomic Heritage Foundation

পরের দিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট আমেরিকার বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশের কথা ঘোষণা করেন। দলে দলে আমেরিকার নাগরিকরা নাম নথিভুক্ত করেন সৈন্যদলে। মার্কিন শিল্পাঞ্চলগুলি পুরোদমে যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু করে দেয়। এই অতর্কিত আক্রমণ মার্কিনিদের কাছে ছিল বর্বর এবং কাপুরুষোচিত। পরিসংখ্যান বলছে প্রায় ১৬ লক্ষ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। যার মধ্যে থেকে আট জন ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্ট উঠে আসেন। আইসেনহাওয়ার থেকে জর্জ বুশ।

এমন সময় বিজ্ঞানী স্যার অ্যালবার্ট আইনস্টাইন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জার্মান পারমাণবিক বোমার ব্যাপারে সচেতন করেন। মিত্রপক্ষ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একত্রিত করে এক ব্রহ্মাস্ত্র সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। ফলস্বরূপ নিউ মেক্সিকোর আলমগর্ডোতে জার্মান-ব্রিটিশ-সুইডিশ-মার্কিন মস্তিষ্কের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচের বিনিময়ে জন্ম নেয় প্রথম পারমাণবিক বোমা।

Why Albert Einstein wrote to the US, begging it to create atomic ...

১৬ জুলাই ১৯৪৫, প্রজেক্ট ট্রিনিটি। মানুষ প্রবেশ করে পারমাণবিক যুগে। নারায়ণ সান্যালের লেখা ‘বিশ্বাসঘাতক’ উপন্যাসে হুবহু তুলে ধরা রয়েছে কী ভাবে এই অসাধ্য সাধন হয়েছিল। এই বোমার ধ্বংস ক্ষমতা দেখে ওপেনহাইমার, নিলস বোহরের মত মনীষীরা কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আবার আইনস্টাইনের দ্বারস্থ হন কিন্তু এবার অন্য উদ্দেশ্যে, অনুরোধ জানান প্রেসিডেন্টকে এই ভয়ানক অস্ত্রের ব্যবহার না করার কারণ মূল শত্রু নাৎসি জার্মানি মাস কয়েক আগে আত্মসমর্পণ করেছে মিত্রপক্ষের হাতে। লাল ফৌজ ইউরোপ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মুক্তিদূতের ন্যায়।

দুর্ভাগ্যবশত তার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের জীবনাবসান ঘটেছে। তাঁর জায়গায় এসেছেন হ্যারি ট্রুম্যান। নিজের জমানার মাত্র চার মাসের মাথায় ট্রুম্যান নির্দেশ দেন ওই ব্রহ্মাস্ত্র যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। সমস্ত বিজ্ঞানীকে উপেক্ষা করেই সেদিন ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন রুজভেল্টের চেয়ারে বসা ট্রুম্যান। লক্ষ লক্ষ জাপানিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিকলাঙ্গ পঙ্গু করে দিতে ঠিক কোন ঘটনা প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে বাধ্য করল সে অন্য পরিসরে আলোচনার বিষয়।

১৯০৫-এ পোর্টসমাউথ চুক্তি। প্রথমবার বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছিল এশীয় শক্তির কাছে ইউরোপীয়দের মাথা নত করে পরাজিত হওয়া। প্রবল পরাক্রমশালী রাশিয়া এক ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জে বসবাসকারী জাপানের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছে। এই সন্ধির তাৎপর্য অপরিসীম। কারণ হিটলারের অতর্কিত আক্রমন ‘অপারেশন বারবারোসা’য় সোভিয়েত ইউনিয়ন বিপর্যস্ত হলে মহান মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ক্যাবিনেটের বিপক্ষে গিয়ে সোভিয়েত বাহিনীকে সাহায্য করেন ট্রাক, রেল ইঞ্জিন, ট্যাঙ্ক ইত্যাদি সমর সরঞ্জাম সরবরাহ করেন।

50 Breathtaking Photos of the Operation Barbarossa, 22 June 1941

এই বিপুল সরঞ্জাম ভ্লাডিভোস্টক বন্দরের মাধ্যমে লাল ফৌজের কাছে এসে পৌঁছয়। যা জাপানি নৌবাহিনী চাইলে তছনছ করে দিতে পারত। তা সত্ত্বেও নাৎসি বাহিনীর আগ্রাসন রোধ করা যায় না মস্কোর পতন আসন্ন বলে মনে করে মিত্রপক্ষ। ধনতন্ত্র সমাজতন্ত্রের জন্মাবধি শত্রু। চার্চিল-সহ অন্যান্য মিত্রপক্ষের নেতৃবৃন্দ চেয়েছিলেন নাৎসি বোমায় কমিউনিস্ট বাহিনী ধ্বংস হয়ে যাক । তাই তাদের একাধিক অনুরোধ সত্বেও একটি দ্বিতীয় ‘ফ্রন্ট’ অর্থাৎ ইউরোপে মিত্রপক্ষের সৈন্যদের পুনরায় পদার্পণ হয় না যা ক্রেমলিনকে নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দিত। ধীরে ধীরে নাৎসি বাহিনী এসে পৌঁছল ভলগা এবং ডন নদীর তীরে।

২৩ অগস্ট ১৯৪২, স্তালিনগ্রাদ। রুশবাহিনীর কফিনে শেষ পেরেক। ২৪ বছর আগে যে নগরী রাশিয়ার গৃহযুদ্ধের ইতিহাস বহন করে চলেছে, তার পতন হতেই হবে। এই লড়াই সম্মানের লড়াই। বলশেভিক পার্টির সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং কমিটির ঐতিহাসিক বৈঠক থেকে স্তালিন জারি করলেন অর্ডার নম্বর ২২৭। যার পোশাকি নাম ‘নট ওয়ান স্টেপ ব্যাক’! দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার বৈঠক হয়েছিল ক্রেমলিনে। বলা হয়, সেই বৈঠকে নাকি স্তালিন সরাসরি বলেছিলেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর পূর্বসূরি লেনিনের ‘এক পা আগে, দুই পা পিছে’ কৌশল চলবে না। এখন চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের সময়। এক পাও পিছনোর সুযোগ নেই।

স্তালিনের দুই সেনাপতি ছিলেন গর্গেই ঝুকোভ এবং নিকিতা ক্রুশ্চেভ। উভয় পক্ষ ক্রমাগত সেনা নিক্ষেপ করে যায় এই বার্বরিক কসাইখানায়। জার্মান বোমায় ধুলিস্যাৎ হয়ে যাওয়া স্তালিনগ্রাদের ঘরে ঘরে পেশাদার জার্মান বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় সোভিয়েতের নারী-পুরুষ। মাস পাঁচেক পরে জার্মান বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়লে ক্রুশ্চেভ এবং ঝুকোভের নেতৃত্বে লাল ফৌজ জার্মান বাহিনীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

Battle of Stalingrad | Facts, Deaths, & Summary | Britannica

প্রথমবার জার্মানরা আত্মসমর্পণ করে। সেই প্রথম বার। এর পরের পর্বটা কেবলই তাদের পূর্ব ইউরোপ থেকে পাততাড়ি গোটানোর পালা। মিত্রপক্ষ যখন দেখল সোভিয়েত ইউনিয়ন নিশ্চিহ্ন হওয়ার বদলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, লালফৌজ ইউরোপের কোণায় কোণায় মুক্তিসেনার মর্যাদা পাচ্ছে, নাৎসিরা প্রমাদ গুণতে শুরু করে।

তার ফলে যেটা দাঁড়াল তার নাম ‘নরম্যান্ডি অভিযান’ বা ‘অপারেশন নেপচুন‌’। ১৯৪৪-এর ৬ ই জুন। আট হাজার জাহাজ, ১২ হাজার বিমানে ছেয়ে গেল ইংলিশ চ্যানেলের জল এবং আকাশ। ফ্রান্সের নরম্যান্ডির পাঁচটি উপকূল তটে অবতরণ করল লক্ষাধিক সেনা। এই হল মিত্রপক্ষের তথাকথিত দ্বিতীয় ফ্রন্ট। সামান্য কিছু প্রাথমিক বাধা বিপত্তি কাটিয়ে শুরু হল বার্লিনের জন্য দৌড়। অপর দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী জাপানিদের সঙ্গে মরণ সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। তারা দ্বীপের পর দ্বীপ দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল। সমস্ত বর্বরতাকে অতিক্রম করেছিল এই যুদ্ধ। উভয় পক্ষই আত্মসমর্পণের বালাই রাখেনি। অসংখ্য নৃশংসতার সাক্ষী ছিল দ্বীপের স্থানীয় অধিবাসীরা। প্রতিটি দ্বীপে জাপানিরা শেষ মানুষ অবধি লড়েছে। গুলি ফুরোলে চার্জ করা হত আত্মঘাতী বেয়নেট।

Operation Neptune hits the beach : arma

বহু রক্ত ঝরিয়ে যখন ১৯৪৫-এর ২২ জুন মার্কিন সেনা ওকিনাওয়া দ্বীপের দখল নেয়, তখন প্রথমবার তারা জয়ের সম্ভাবনা দেখতে পায়। জাপানের মূল ভূখন্ডের আগে শেষ দ্বীপ ছিল ওকিনাওয়া। এখন ভারী‌ বোমারু বিমান বাহিনীর পাল্লায় জাপানের শহরগুলো চলে আসে। অসংখ্য ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও জাপানিরা আত্মসমর্পণের নির্দেশ মেনে নেয়নি। উপরন্তু শেষ ব্যক্তি‌ পর্যন্ত দেশরক্ষার শপথ নিয়েছে। ছোট ছোট শিশুদের দিয়েছে অস্ত্র শিক্ষা। প্রত্যেক সমর্থ ব্যক্তি, নারী-পুরুষ-বয়স নির্বিশেষে সম্রাটের জন্য প্রাণ দেবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান বুঝতে পারেন, সোভিয়েতের সাহায্য ছাড়া জাপান জয় অসম্ভব। আর সম্ভব হলেও তার মূল্য চোকাবে বহু মার্কিন প্রাণ। অথচ সোভিয়েত রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের ফলাফল হবে এশিয়ায় সমাজতন্ত্রের প্রভাব বৃদ্ধি। কার্যত উভয় সঙ্কট। সেই অবস্থায় ৪৫-এর ১৬ জুলাই খবর আসে ‘নতুন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে নির্বিঘ্নে’! ছোট্ট ছেলে ‘লিটল বয়’ ৬ আগস্ট মধ্যরাতের কিছু পরে এনোলা গে নামক বি-২৯ সুপারফোট্রেসের পেটে চড়ে রওনা দিল হিরোশিমার উদ্দেশে। উড়ানকাল কমবেশি সাড়ে ছ’ঘণ্টা।

সকাল ৮:১৫ , হিরোশিমা। সূর্যোদয়ের দেশের ঝলমলে সকালে নীল আকাশ চিরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯৪০০ মিটার উচ্চতায় এনোলা গে‌ উড়ছে। ঠিক শহরের কেন্দ্রস্থলের উপর ‘লিটল বয়’কে রিলিজ করা হল। ‘লিটল বয়’ ৫১ সেকেন্ড সময় নিল নির্ধারিত উচ্চতায় (ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০০মিটার) পৌঁছতে। ততক্ষণে এনোলা গে ১৮.৫ কিলোমিটার দূরে চলে এসেছে লক্ষ্য থেকে। ডিটোনেশন। হিরোশিমার আকাশে যেন দ্বিতীয় সূর্যের আবির্ভাব ঘটল। মুহূর্তে বাষ্পীভূত হলেন এক লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ।

মানবসভ্যতা স্তম্ভিত হয়ে দেখল। তিন দিন পরে, ৯ অগস্ট আবার উড়ল এনোলা গে। লক্ষ্য নাগাসাকি। এবার পড়ল ‘ফ্যাট ম্যান।’ প্রাণ হারালেন ৭৪ হাজার মানুষ। আরও তিন লক্ষাধিক মানুষ তেজস্ক্রিয় রেডিয়েশান জনিত রোগে মারা যান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। এইদিন, ৯ আগস্ট সোভিয়েত বাহিনী মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ করে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। জাপানি সম্রাট হিরোহিতো ১৫ অগস্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন সেনাবাহিনীকে। জাপানি সেনা ২ সেপ্টেম্বর মিত্রপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

Nagasaki Day: Let's commemorate the day when a 'Fat Man' killed ...

আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্রের হুঙ্কারের জবাব সোভিয়েত ইউনিয়ন দেয় ১৯৪৯ সালের ২৮ অগস্ট। নিজেদের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে। মহর্ষি ক্লাউস ফ্লুকসের দৌলতে মাত্র সাত বছরে সোভিয়েত বাহিনীকে পরমাণু শক্তিধর বানিয়ে তোলেন স্তালিন। নাগাসাকির দ্বিতীয় বোমা ‘ফ্যাট ম্যান’ পরোক্ষে ঠান্ডা যুদ্ধের যে দামামা বাজিয়েছিল তারই চক্র সম্পূর্ণ হয়। দুই বিপরীত শক্তি মেতে ওঠে অস্ত্রের দৌড়ে। সরকারি ভাবে শুরু হয় সমাজতন্ত্র বনাম ধনতন্ত্র। আজ ৯ আগস্ট। নাগাসাকির ৭৫ বছর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More