কিউই দেশের করোনারা

প্রকৃতির সহজ হিসেবগুলোকেও বড্ড জটিল করে ভাবে এরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    ছন্দক বন্দ্যোপাধ্যায়

    ওয়েলিংটনের রোদ ঝলমলে দিন। উইলি স্ট্রিট ধরে লোকজনের বিক্ষিপ্ত ভিড়। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত রাস্তা এটা। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডেরন আগামীকাল থেকে পুরো দেশের সমস্ত কাজকর্ম বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। কেবল মাত্র জরুরি পরিষেবার জন্য কোথায় কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে সেইসবও ধীরে ধীরে সংবাদমাধ্যমগুলোয় চলে আসছে। মানুষজন শেষবারের মতো সুপার মার্কেটের ফর্দ মিলিয়ে দেখে নিচ্ছে কী কী বাকি থেকে যাচ্ছে। ছয় সপ্তাহ কমপ্লিট শাটডাউন বলে কথা! বাতাসে হাল্কা শীতের আমেজ। দূরে মাউন্ট ভিক্টোরিয়ার গায়ে গালিচার মতো সাজানো পাইন গাছগুলো নড়ছে মৃদুমন্দ বাতাসে। উইলি স্ট্রিটের মাঝখানে সদর্পে দাঁড়ানো রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পুরনো বাড়িটার মাথার ওপর উঁকি মারছে নরম সূর্য। আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে সাদাটে ছাই রঙের সিগ্যাল। রাস্তায় দানা খুঁটে খাচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে পায়রা আর স্পটেড কাকাহে ।পুরোদমে কেনাকাটি চলছে। এমন সময়ে সবাই কেমন যেন শিউরে উঠল। কানের কাছে কেউ যেন ফিসফিসিয়ে উঠল না? না না। কানে নয়, মাথার মধ্যে কারা যেন কথা বলছে । 

    কে কথা বলছে? কীভাবে বলছে? সবচেয়ে বড় কথা– কী বলছে?

    চলুন তো ব্যাপারটা একটু খতিয়ে দেখা যাক। লোকজনের কি প্যানিকে মাথা খারাপ হয়ে গেল না কি? অদৃশ্য কোনও কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছে মানুষ , তাও আবার সবাই মিলে একসঙ্গে? ব্যাপারটা কী?

    দাঁড়ান, এক কাজ করা যাক। উইলি স্ট্রিটে সেই সময়ে যাঁরা ছিলেন তাঁরা ঠিক কী শুনেছিলেন সেটা আগে বলেনি, তারপর না হয় গবেষণা করা যাবে কী, কেন, কীভাবে এইসব নিয়ে।

    * * * * *

    ভালই প্যাঁচে পড়েছে মানুষ, কী বলো ওস্তাদ ? (এই ‘ওস্তাদ’ কথাটা বিভিন্ন লোকে বিভিন্ন প্রকারে শুনেছিলেন, আমি গোটা ব্যাপারটা গোদা বাংলায় লিখছি মূল ভাবটা অক্ষুণ্ণ রেখে)

    আপাতত পড়েছে কিন্তু এখনই অত উল্লসিত হওয়ার কিছু হয়নি। আমাদের আরও নিখুঁত প্ল্যানিং করতে হত, বেশ কয়েক জায়গায় খামতি আছে এবং চিন্তার বিষয় হল ওরা সেটা ধরে ফেলেছে। প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবাটা মহা বোকামির কাজ। বিশেষ করে আমাদের যুদ্ধটা যাদের সঙ্গে তাদের তো কোনওভাবেই হেলাফেলা করা যায় না। যাই হোক, এই জায়গাটা কোথায়?

    মানুষের হিসেব জানতে চাও, না কি আমাদের? মানুষের হলে একটু সময় লাগবে। প্রকৃতির সহজ হিসেবগুলোকেও বড্ড জটিল করে ভাবে এরা।

    মানুষেরটাই চাইছি রে আহাম্মক। আমাদের হিসেব আমি জানি। ওদের হিসেব অনুযায়ী আমরা ঠিক কোনখানে এখন আছি এবং সেখানকার মানুষেরা কেমন, খাবার কী খায় সেইসব বুঝতে পারলে ওদের কমব্যাট স্ট্র্যাটেজিটাও বুঝে নেওয়া যাবে আর সেইসঙ্গে আমরা কেমন কাজ করছি ওদের সব সেফটি মেজারের বিরুদ্ধে, সেটাও জানতে হবে। ঝটপট যা জানার, খবর নেওয়ার, সেসব করে এখান থেকে কেটে পড়তে হবে। বারবার বলছি , আমাদের কাজ হল– এই মুহূর্তে এই নতুন জায়গায় আমাদের সংগঠন কেমন কাজ করছে তার স্ট্যাটাস নেওয়া আর কিছুটা জায়গা সম্পর্কে খবর সংগ্রহ করা। আমরা কোনওরকম প্রত্যক্ষ কাজের মধ্যে নিজেদের জড়াব না। কারণ, মানুষ কিন্তু মহা ধূর্ত আর অসম্ভব বুদ্ধিমান, একটু কোথাও ভুল হলেই আমাদের ধরে ফেলবে আর তারপর কাটাছেঁড়া করে সব তথ্য বের করে নেবে। তাই সবসময়, বি কেয়ারফুল। বোঝা গেছে?

    বুঝেছি ওস্তাদ, তুমি নিশ্চিন্তে থাকো। আমি বেরোলাম, কিছুক্ষণের মধ্যেই যতটা পারছি খবর নিয়ে চলে আসছি।

    প্রত্যক্ষ শ্রোতারা জানাচ্ছেন, এরপর কয়েক মিনিট কোনও কথা শুনতে পায়নি কেউ । তারপর আবার সেই ফিসফিসানি, সেই গা শিরশিরে আওয়াজ।

    * * * * *

    কী রে, কীরকম বুঝলি? কাজকর্ম কেমন চলছে এখানে আমাদের? তুই তো সেই গেলি তো গেলিই। এত সময় লাগে না কি একটা ছোট জায়গা কভার করতে? আমায় ওপর মহলে রিপোর্ট করতে হয় সব। চিন্তায় পড়ে গেছিলাম।

    খবর মোটের ওপর ভালই। দাঁড়াও, গুছিয়ে বলি। এই জায়গাটার নাম নিউজিল্যান্ড। আসলে বড় বড় দুটো দ্বীপ মিলিয়ে একটা পুঁচকি দেশ। দক্ষিণ মেরু থেকে ৩৩৯২ কিলোমিটার উত্তরে মূলত আগ্নেয়শিলা দিয়ে তৈরি এই দেশ। বেশ সুন্দর সাজানোগোছানো। পাহাড়, সমুদ্র মিলিয়ে শান্তিপ্রিয় নিরুপদ্রব থাকার জায়গা । মানুষজন খুবই কম , খালি তো দেখি ভেড়া আর গোরু ঘুরে বেড়াচ্ছে চারিদিকে। সবচেয়ে বড় কথা হল– গোটা দেশটায় দূষণ অনেক কম , মানুষে মানুষে রেষারেষি কম, চাহিদা কম। একটা পাতলা অথচ মজবুত শান্তির ত্রিপল গোটা দেশটায় ছড়ানো আছে। আমরা আগের যেসব দেশ ঘুরে এসেছি তাদের চেয়ে বেশ খানিকটা আলাদা এই নিউজিল্যান্ড। মোদ্দা কথা হল– আমরা আসার আগে অবধি এই দেশের লোকজন এক্কেবারে খাঁটি সুখে থাকত। অনেকটা সেই যে গো, আমরা গেলাম না, কী যেন নাম… হ্যাঁ মনে পড়েছে– ফিনল্যান্ড। ওরকম দেশ।

    আরে দুর বাবা– এ তো পুরো পাঁচালি খুলে বসল। অত খবর দিয়ে আমি কী করব? আমাদের সংগঠনের খবর কী সেইটা বল।

    দেখো, এককথায় বলতে গেলে– মানুষ বেশ ভয়ে আছে। নিউজিল্যান্ড পৃথিবীর একদম প্রান্তিক একটা দেশ বলে অনেকদিন পর্যন্ত এখানে আমাদের কাজ শুরুই করতে পারিনি। আজ থেকে মাস দুয়েক আগেও আমরা যখন চিন থেকে বেরিয়ে ইউরোপে ঢুকে দখল নেওয়া শুরু করেছি তখনও এখানে আমাদের একজনও ঢুকতে পারেনি।

    তারপর কী হল? ঢুকলাম কী করে?

    দাঁড়াও দাঁড়াও, বলছি রে বাবা। আমরা যে জায়গাটায় আছি এখন, তার নাম ওয়েলিংটন। এটা এই দেশের রাজধানী। এখান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উত্তরে আরেকটা বড় শহর আছে– নাম অকল্যান্ড । সেই অকল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ঘন জনবসতিপূর্ণ শহর। সেখানেই আমরা প্রথম আঘাতটা হানি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ডায়ম্ভড প্রিন্সেস নামে এক জাহাজ (সৌখিন জাহাজ, যাকে ক্রুজ বলে) তাইওয়ান থেকে জাপানের ইয়াকোহামা হয়ে অকল্যান্ডের পোর্টে আসে। সেইখানেই দু’জনের শরীরের মাধ্যমে আমরাও ঢুকে আসি শহরে। ব্যস, কেল্লা ফতে। তারপর গত দেড় মাসে আমাদের যুদ্ধবাজ ভাইরা পরিকল্পনামাফিক ছড়িয়ে পড়তে লাগল গোটা দেশে। সত্যি কথা বলতে– এই দেশটাও ইতালির মতো শুরুতে আমাদের অত পাত্তা দেয়নি। ভেবেছে আমরা বাকিদের মতোই যাদের সহজেই একটা শটে কাবু করে দেওয়া যাবে। তাছাড়া যা দেখলাম, এখানে চিকিৎসাব্যবস্থাও সেরকম আহামরি নয়, খারাপের দিকেই পাল্লা ভারী। সুখী দেশ হলে যা হয় আর কি। পুরো নিউজিল্যান্ডে মোটে আট–ন’খানা হাসপাতাল। সেই হাসপাতালে কোনও উচ্চমানের যন্ত্রপাতি বা আমাদের ধরে ফেলার মতো অত্যাধুনিক ফেসিলিটি কিছুই নেই। আমরা হুহু করে ছড়িয়ে পড়েছি এবং পড়ছি ওস্তাদ। তবে…

    তবে কী?

    কয়েক দিন যাবৎ কিন্তু লোকজন নড়েচড়ে বসেছে। মানুষদের এই একটা মারাত্মক গুণ। ব্যাটাদের ফাইটিং স্পিরিটটা একেবারে একশোয় একশো। মরেও মরে না , হেরেও হারে না। গতকাল এদের প্রধানমন্ত্রী, জেসিন্দা আরডেরন যার নাম, ঘোষণা করে দিয়েছে– আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশে অ্যালার্ট সিস্টেম- ফোর জারি করে দেওয়া হবে। এটা কিন্তু চিন্তার বিষয় ওস্তাদ।

    অ্যালার্ট সিস্টেম- ফোরটা কী? মানুষের তো একেক দেশে একেক নিয়ম। এখানে কী ?

    মানে স্কুল, কলেজ, দোকান, রেস্তোরাঁ, বার, স্ট্রিপ ক্লাব, বাস, ট্রেন, ডোমেস্টিক/ইন্টার ন্যাশনাল ফ্লাইট, অফিস সমস্ত বন্ধ করে দেওয়া হবে। অফিস যারা বাড়ি থেকে করতে পারবে তারাই করবে, বাকিরা নয়। সরকার এই নিয়মের বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখলে কড়া পদক্ষেপ নেবে– যাকে বলে জিরো টলারেন্স। রাস্তায় সর্বক্ষণ পুলিশ ঘুরবে, সেনাবাহিনীকেও বলা হয়েছে স্ট্যান্ডবাই থাকতে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবা, জরুরি পরিষেবা, সুপার মার্কেট খোলা থাকবে। কর্মীরা আলাদা শিফটে কাজ করবে সোশ্যাল ডিসট্যান্স বাড়ানোর জন্যও। মোটের ওপর আগামী ছয় সপ্তাহের জন্য পুরো দেশটাকে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হল। ১৯৬৯ সালে মাত্র একবারই তিন দিনের জন্য এই অ্যালার্ট সিস্টেম- ফোর জারি করা হয়েছিল, তাও এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের সময়। ছয় সপ্তাহের জন্য অ্যালার্ট সিস্টেম- ফোর, এই দেশের ইতিহাসে কোনওদিন হয়নি। এখানেই ভয়টা লাগছে। অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে নিয়েছে দেশের নেত্রী।

    ভয় পাস না। আগে বল এখনও অবধি কতজনের শরীরে আমরা পাকাপাকি ভাবে ঢুকতে পেরেছি?

    আমাদের হিসেব তো তুমি জানই, মানুষের হিসেব অনুযায়ী ২০৫ জন। তার মধ্যে চার-পাঁচজনের এখনও পুরোপুরি পরীক্ষা হয়নি, শুধুই সন্দেহ করা হচ্ছে। অকল্যান্ডে সবচেয়ে বেশিজন ইনফেক্টেড– প্রায় ১২০, ওয়েলিংটনে ৫৫ জন, বাকি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

    দেশের বাইরে থেকে যারা আসছে তাদের ছাড়া ভিতরের কারও শরীরে কি আমরা ঢুকতে পেরেছি? এই খবরটা আমার খুব দরকার। আমাদের লোকজন সঠিক কিছু বলছে না । ওদের নামে আমি ওপর মহলে কমপ্লেইন করব।

    চিন্তা নেই, আমি খবর এনেছি। তোমার উত্তর হল– হ্যাঁ পেরেছি। মানুষের ভাষায় যাকে কমিউনিটি স্প্রেডিং বলে, সেইটা এই দেশে শুরু হয়ে গেছে। প্রায় ছ-সাতজন এরকম লোক আছে যারা গত পাঁচ বছরে দেশ কেন, নিজের শহরের বাইরেও যায়নি।

    বেশ, এইটা ভাল খবর। আর লোকজনের মধ্যে সচেতনতা কেমন দেখলি?

    নাহ!! সেরকম সচেতন এখনও কেউ হয়নি। পার্কে, সমুদ্রের ধারে, রাস্তায় ভালই জমায়েত দেখে এলাম। ওয়েলিংটনে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি আছে। সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা তো সারা শহর জুড়ে রোজই তাণ্ডব চালায়। এখনও তার ব্যতিক্রম কিছু দেখলাম না। সরকার থেকে রেডিও-টিভিতে প্রচার চালাচ্ছে বটে কিন্তু লোকে এখনও আমরা কী করতে পারি, কতটা ক্ষমতা রাখি সেই বিষয়ে বিশেষ খবরাখবর রাখে না। অর্থাৎ আমাদের দিকেই পাল্লা ভারী। তুমি খবর পাঠিয়ে দাও ওপর মহলে, ক’দিনের মধ্যেই সুখবর পেয়ে যাবেন ওরা। ইতালির মতো।

    না রে, অতটা সহজ হবে বলে মনে হয় না। অনেকগুলো ফ্যাক্টর আছে এখানে। এক এক করে বলি । দেখ, সারা পৃথিবীর কেউই মানুষকে পছন্দ করে না। আগেই বলেছি– মানুষের মতো ধূর্ত, নৃশংস, স্বার্থপর অথচ অসম্ভব বুদ্ধিমান প্রাণী দুটো হয় না। নিজের স্বার্থের জন্য সমুদ্রের মাছ থেকে শুরু করে গাছের পাখি, জঙ্গলের গাছগাছালি, পশু থেকে শুরু করে পুরো বায়ুমণ্ডল অবধি তছনছ করে রেখে দিয়েছে হারামজাদাগুলো। গত পঞ্চাশ-একশো বছরে সমুদ্র ও নদীর প্রায় ৪০ শতাংশ প্রজাতির জলজ প্রাণী একা দায়িত্ব নিয়ে অবলুপ্তির পথে পাঠিয়ে দিয়েছে এই মানুষ। সারা গ্রহে একেবারে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে এদের জন্য। তাও দেখ– প্রকৃতি ঠিক মানুষকেই ফেভার করে সারাক্ষণ ধরে। যে কোনও প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা দিয়ে রেখে দিয়েছে এই হতভাগাদের এবং সেটা মানুষ খুব ভাল করে জানে। তাই জন্যই পুরো গ্রহ জুড়ে অত্যাচার চালানোর সাহস পেয়ে গেছে এবং এটাও জানে যে তাদের হারানো অত সোজা নয়। এখন তো এরা আবার ধর্ম, জাতি, দেশ, বর্ণ, সব মিলে গিয়ে একজোট হয়ে লড়ছে আমাদের রুখতে। এই মানুষ আমাদের অচেনা। অপরিসীম শক্তিশালী, বিচক্ষণ আর সংঘবদ্ধ। অতএব আমাদের সামনের যুদ্ধটা বেশ কঠিন।

    সে তুমি যাই বল ওস্তাদ, মানুষ জোট বেঁধেছে ঠিকই কিন্তু আমাদের মতো concurrent বা collective intelligence কিন্তু ওদের নেই। তাই সেরকম ভয়ের কিছু নেই। কী বল?

    সেটা ঠিক। একসঙ্গে সবাই মিলে ভাবার বা কাজ করার ক্ষমতা প্রকৃতি মানুষকে দেয়নি। কারণ তাদের আলাদা আলাদা ভাষা আছে। Non local communication এখনও মানুষের আয়ত্তের বাইরে। তবে আমাদের রুখতে প্রকৃতির বরপুত্র মানুষ নিজেদের অভিযোজিত করে সেই ক্ষমতা পেয়ে গেলে আমাদের মহা বিপদ। জানি না কী হবে। যাই হোক, আর কিছু বলার থাকলে বল, আমায় কাজ নিয়ে বসতে হবে । সময় নেই হাতে একদম।

    এইমাত্র খবর এল, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রয়োজনে পার্লামেন্ট বিল্ডিং খুলে দেওয়া হবে আর প্রতিরক্ষাবাহিনীও সক্রিয় করা হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। আর মানুষ যেটা সবচেয়ে বেশি চেনে সেই টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রায় ১২.৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হল বিভিন্ন খাতে– আমাদের মোকাবিলা করার জন্য। এটা কিন্তু টেনশনের ব্যাপার। মানুষরা টাকাটা এমন ভাবে চেনে যে তাদের সচেতন করতে হলেও টাকা দিয়ে বোঝাতে হয়, আর প্রধানমন্ত্রী ঠিক সেটাই করলেন। নাহ ওস্তাদ, আমারও চিন্তা হচ্ছে এবার।

    * * * * *

    এর চেয়ে বেশি কিছু লোকজন এই মুহূর্তে মনে করতে পারছেন না। আদৌ সত্যি বলছেন, না বানিয়ে শুধু মজা করার জন্য বলেছেন সেটাও জানা যাচ্ছে না। তবে সত্যি যদি কিছু মানুষ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কথা শুনতে পান তা হলে বোঝা যাবে এই নব্য ভাইরাসের কারণে নিজেদের অস্তিত্ব যখন সঙ্কটে ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে মানুষ নিজেকে অভিযোজিত করতে সক্ষম হয়েছে। মানুষের এই ভার্সান-২-এ অনেক নতুন গুণাবলি দেখা যাবে। তার মধ্যে একটা হয়তো collective intelligence, যা কিনা আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া লক্ষ লক্ষ পাখিদের মধ্যে থাকে কিংবা সমুদ্রের অতলে অগুনতি মাছের ঝাঁকের দিক পরিবর্তন করার সময় বোঝা যায় যে তারা একসঙ্গে সবাই মিলে এক কোনও ভাবনা ভাবতে পারে যা মানুষ পারে না। পাখিরা পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র নিখুঁতভাবে অনুভব করতে পারে এবং সেটা কাজে লাগিয়ে দিক নির্ণয় করতে পারে। মানুষ সেটা পারে না।

    মানুষ শুধুই সাজানো এই পৃথিবীকে ধ্বংস করতে পারে। আমাজনের জঙ্গলে আগুন লাগাতে পারে, ডোডো পাখি, সাদা জিরাফ, কালো পুমা, দাঁতাল হাতিদের মেরে নির্বংশ করতে পারে। তাই উইলি স্ট্রিটের সেই লোকজন যা বলছে তার যদি কিছুমাত্র সত্যি হয় তা হলে এ যাত্রায় মানুষ বেঁচে তো যাবে। কারণ এবার সে ভাইরাস এবং বাকি সব আণুবীক্ষণিক জীবদের কথা বুঝে তাদের একেবারে যমের দক্ষিণ দুয়ারে পাঠিয়ে ছাড়বে। সেইসঙ্গে এই নতুন অভিযোজনের পর মানুষের দাপটে স্বয়ং প্রকৃতিরও যে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হবে সেই বিষয়ে আমরা মানুষরাই নিশ্চিত।

    বাকি রইল নিউজিল্যান্ডের খবর। হ্যাঁ, ভাইরাসরা একদম সঠিক খবর দিয়েছে। সমস্ত দেশ লকডাউন করা হয়েছে। সবার মোবাইল ফোনে সেই খবর চলে এসেছে Emergency message এর মাধ্যমে । রাত ১২টায় প্রধানমন্ত্রী লাইভে এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই জরুরি অবস্থা চালু করেছেন। কিউইল্যান্ড যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। এককোষী ক্ষুদ্র করোনা ভাইরাস ভার্সেস এই গ্রহের সেরা প্রাণী মানুষ (অবশ্যই সেলফ প্রোক্লেইমড)। দেখা যাক ফলাফল কী হয়।

    * * * * *

    ও হ্যাঁ, উইলি স্ট্রিটের ঘটনাটা নিছকই কাল্পনিক, কেউ আবার সত্যি ভেবে বসবেন না প্লিজ।

    (লেখক নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী)

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More