রবিবার, অক্টোবর ২০

কাশ্মীর ছাড়ুন, পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের নিয়ে মুখ খুলুন! মালালাকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৭০ ধারা বিলোপের পরে জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের শোচনীয় অবস্থা নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া মালালা ইউসুফজাই। কাশ্মীরের শিশুরা যাতে স্কুলে যাওয়া শুরু করতে পারে, সে জন্য সাহায্য করতে বলে রাষ্ট্রপুঞ্জকেও অনুরোধ জানিয়েছিলেন ব্যক্তিগত ভাবে। আর এতেই মালালার উপর বেজায় চটেছে বিজেপি। কর্নাটকের বিজেপি সাংসদ শোভা করণদালাজে পাল্টা আক্রমণ পর্যন্ত করেছেন মালালাকে। বলেছেন, “মালালার যখন কাশ্মীরিদের নিয়ে এতই উদ্বেগ, তখন পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের কথা ভাবছেন না কেন মালালা!”

শোভা করণদালাজে আরও দাবি করেছেন,যে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। সে বিষয়ে কিন্তু মালালা চুপ! নোবেলজয়ী মালালা কাশ্মীরিদের নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে ততটা নন বলেই দাবি শোভার। কাশ্মীরের বাসিন্দাদের কথা শুনেই সেখান থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও টুইটে লিখেছেন বিজেপি সাংসদ। কিন্তু নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে সেটা নিয়ে চিন্তিত নন মালালা।

দেখুন তাঁর টুইট।

বস্তুত, উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই পাকিস্তানের তরফে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছে। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেই সুরে সুর মিলিয়েই প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের সদ্য-তরুণী, নোবেল জয়ী মালালা ইউসুফজাইও।

মালালা টুইটে রাষ্ট্রপুঞ্জকে অনুরোধ করেছিলেন কাশ্মীরী বাচ্চাদের স্কুলে যেতে শুরু করার ব্যবস্থা করার জন্য। কাশ্মীরীদের কথা না শুনেই তাঁদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন মালালা। শনিবার, পরপর বেশ কয়েকটি টুইটে মালালা জানান, সম্প্রতি তিনি কাশ্মীরে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা তাঁকে জানিয়েছেন, কাশ্মীর জুড়ে যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। সেনা বুটের আওয়াজ ছাড়া কিছু শোনা যাচ্ছে না।

মালালা সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও জানিয়েছেন, এক ছাত্রী তাঁকে বলেছে, তাদের স্কুলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ১২ অগাস্ট তাদের পরীক্ষা ছিল, সেই পরীক্ষাও দিতে পারেনি। এ ছাড়া কাশ্মীরে মহিলা ও শিশু-সহ চার হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনা কারণে জেলে বন্দি করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

মালালার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, ৫ থেকে ১০ অগাস্ট সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ ছিল উপত্যকায়। তার পরের দিন ১১ অগাস্ট ছিল রবিবার, ছুটির দিন। তার পরের দু’দিন ১২ ও ১৩ তারিখ ইদ উপলক্ষে কাশ্মীরে ছুটি ছিল। মাঝে ১৪ অগাস্ট বাদ দিলে, তার পরের দিন ১৫ অগাস্ট আবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি ছিল।

বিজেপির নেতা-সমর্থক-কর্মীরা এর পরেই মালালাকে নিশানা করেছেন সরাসরি। অনেকের দাবি, মালালা মনগড়া কাহিনি বলছেন। ১২ তারিখ ইদের দিন পরীক্ষা থাকার ভুল ধরিয়ে দিয়েও কম বিদ্রুপ হয়নি সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তবে সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন শোভা করণদালাজে। তিনি বলেছেন, মালালার উচিত পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো। সংখ্যালঘু মেয়েদের পাকিস্তান কী ভাবে জোর করে ধর্মান্তরিত করে, তাদের উপর কী ভাবে অত্যচার চালায়, তাই নিয়ে কথা বলা উচিত। তিনি দাবি করেন কাশ্মীরে বিকাশের মন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোনও দমননীতি চলছে না।

 

Comments are closed.