লকডাউনে অতিষ্ঠ দম্পতিকে গোয়া পাঠানোর প্রস্তাব, মানবিক সোনুর রসবোধেও মুগ্ধ টুইটার-বাসী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তা দিয়ে পিলপিল করে হেঁটে যাচ্ছে লোক। কাঁধে ব্যাগ, কোলে বাচ্চা। তাঁরা হাঁটছেন। গত ১০ মে মহারাষ্ট্রের ঠাণে বাসস্ট্যান্ডে থমকে দাঁড়িয়েছিলেন সোনু। হেঁটে যাওয়া প্রায় সাড়ে তিনশো শ্রমিকের উদ্দেশে সুঠাম চেহারার অভিনেতার জিজ্ঞাসা ছিল, যাবেন কোথায়? এ ভাবে হেঁটে কদ্দূর?

    জুতোর সোল খুইয়ে ফেলা, গোড়ালি ফেটে রক্ত বেরোতে থাকা এক শ্রমিকের জবাব ছিল কর্ণাটক। মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সোনু। তারপর রূপকথা! ওই শ্রমিকদের তো বটেই, সারা দেশের নানা প্রান্তে লকডাউনে আটকে পড়া একের পর এক শ্রমিককে কোনও না কোনও ভাবে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। কখনও বাস বুক করে, কখনও বা ফ্লাইটের টিকিট কেটে দিয়ে, সক্কলকে ফিরিয়ে দিয়েছেন গন্তব্যে।

    সম্প্রতি সোনু সুদ নিজের টুইটারে একটি ফোন নম্বর দিয়ে লেখেন, যে সমস্ত শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে চান, তাঁরা চাইলে নির্দিষ্ট ওই নম্বরে ফোন করতে পারেন। অভিনেকা আরও লেখেন, কতজন শ্রমিক রয়েছেন, কোথায় যেতে চান জানালে তাঁর টিমের সদস্যরা বাড়ি পৌঁছে দেবেন।

    তার পরে দেশের যেখানেই পরিযায়ী শ্রমিকরা সংকটে পড়ছেন, অনেকেই সোনুকে উদ্দেশ করে টুইট করছেন। আর মুশকিল আসান হয়ে হাজির হচ্ছেন ছ’ফুট তিন ইঞ্চির ‘বাহুবলী।’ প্রায় ১২ হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে নিজের খরচে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

    অনেকে বলেছেন, সোনু যেন নতুন যুগের সুষমা স্বরাজ! কেন? প্রয়াত সুষমা যখন বিদেশমন্ত্রী ছিলেন তখন দেশের বাইরে কেউ সমস্যায় পড়লে একটা টুইট করলেই হল! কাতারে আটকে পড়া হাওড়ার ডোমজুড়ের শ্রমিক হোক বা তেহেরানে আটকে পড়া হায়দরাবাদের ইঞ্জিনিয়র, সুষমার কানে যাওয়া মানেই ব্যবস্থা একটা হবেই। হতও তাই।

    কিন্তু এবার শুধু পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত থাকছেন না, সকলের টুইটের জবাবও দিচ্ছেন সোনু সুদ। সমস্ত টুইটেই যে সাহায্যের আবেদন আসছে, তেমনটা তো নয়! আসছে প্রশংসা। তার পাশাপাশি কিছু টুইট মজা করেও করছেন অনেকে। আর সে সবের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তরেও সুন্দর মনের পরিচয় দিচ্ছেন সোনু।

    যেমন দিন কয়েক আগেই ছোট্ট একটি শিশু তাঁর বাবার হয়ে সোনুকে প্রশ্ন করেছেন, ”সোনু আঙ্কেল, শুনেছি আপনি সকলকে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। তাই পাপা জিজ্ঞেস করছেন, মা কে দিদার বাড়ি পাঠাতে পারবেন কি?” মজা করে বানানো এই ভিডিও দেখে হেসে কুটোপাটি সবাই এর জবাবে সোনুও মজা করেই লিখেছেন, ”খুব কঠিন কাজ। তবু চেষ্টা করব।”

    উল্টোদিকে এক মহিলা আবার সোনুকে টুইট করেছেন, ”লকডাউনে আর বন্দি থাকতে পারছি না স্বামীর সঙ্গে। বাপের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন আমায়, নয় স্বামীকে তার বাড়ি পৌঁছে দিন।” উত্তরে সোনু লিখেছেন, ”আমার কাছে এর থেকেও ভাল একটা সমাধান আছে। আমি দু’জনকে একসঙ্গে গোয়া পাঠাতে পারি।”

    সোনুর উত্তরে বন্যা বয়ে গেছে প্রশংসার। তাঁর রসবোধের তারিফ করছেন সকলে। তবে এখানেই শেষ নয়। একজন আবার লিখেছেন, ”অনেকদিন পার্লারে যেতে পারিনি। আমাকে পার্লারে পৌছে দিন প্লিজ।” তার পরেই অবশ্য ওই ব্যক্তি লিখেছেন, ”মজা করছিলাম, ঈশ্বর আপনাকে আশীর্বাদ করুন। আপনিই আসল নায়ক।” একথারও উত্তর দিয়েছেন সোনু। বলেছেন, ”পার্লারের সকলকে তো আমি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আপনিও কি ওঁদের পেছন পেছন গ্রামে যেতে চান? তো বলুন।”

    তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও সাহসি আর্জিটি রেখে বসেছেন আর এক ব্যক্তি। তিনি লেখেন, ”আমি বাড়িতে আটকে আছি, আমাকে মদের ঠেকে পৌঁছে দিন।” জবাবে সোনু লেখেন, ”ঠেক থেকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারি, দরকার হলে বলবেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More