চরম অভাবে জমিতে লাঙল দিচ্ছিল দুই কিশোরী, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেই ট্রাক্টর পাঠিয়ে দিলেন সোনু সুদ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনে চায়ের দোকান বন্ধ, তাই গ্রামের বাড়িতে ফিরে চাষাবাদ করতে শুরু করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের নাগেশ্বর রাও। চাষ করার জন্য জমিতে লাঙল দিতে হবে, কিন্তু তাঁর না আছে ষাঁড় না আছে ট্রাক্টর। তাই তাঁর দুই কিশোরী মেয়ে এগিয়ে আসে এই কাজে। তারা নিজেরাই লাঙল টেনেছে জমিজুড়ে। নে

টদুনিয়ায় এ ছবি ভাইরাল হতেই এগিয়ে এল সাহায্যের হাত। আর সে হাতের মালিক আবারও সেই সোনু সুদ।
স্বভাবসুলভ ভাবেই দুই কিশোরী মেয়ের লাঙল টানার ছবি দেখেই মন গলেছে অভিনেতার। তিনি পাঠিয়ে দিলেন একটি ট্রাক্টর। কারণ তাঁর মনে হয়েছে ওই কৃষকের ষাঁড় নয়, ট্রাক্টরই প্রয়োজন। সোনুর কথায়, “আমাদের দেশের গর্ব কৃষকেরা। ওঁদের রক্ষা করুন। আপনি মেয়েদের পড়াশোনা করতে পাঠান। আপনার খেতে চাষ করার ব্যবস্থা আমি করছি। সন্ধের মধ্যেই আপনার ক্ষেতে ট্রাক্টর চলে আসবে।”

কথার অন্যথা হয়নি। সন্ধের মধ্যেই নীল রঙের একটি বড় ট্রাক্টর পৌঁছে যায় নাগেশ্বরের বাড়ি। তাঁর যেন এখনও ঘোর কাটছে না গোটা ঘটনায়।

Sonu Sood delivers on his tractor promise made to Chittoor girls ...

তিরুপতির এক চায়ের দোকানদার নাগেশ্বর রাও লকডাউনে বিপদে পড়েছিলেন আরও অনেকের মতোই। দোকান খোলাই দায়। বাড়িতে হাঁড়ি চড়ছে না। তাই তিনি দোকান ছেড়ে চাষ-আবাদের কাজ শুরু করেন আবার। কিন্তু সমস্যা সেখানেও। চাষ যে করবেন, মাটিতে লাঙল দেবে কে, গরু তো তাঁর নেই। ক্ষমতা নেই ট্রাক্টর কেনারও। এই অবস্থাতেই এগিয়ে এসেছে তাঁর দুই কিশোরী কন্যা। নিজেরাই লাঙল চালিয়ে দেয় জমিতে। বলে, “আমাদের লেখাপড় শিখিয়ে বড় করতে বাবা কতই না কষ্ট করেছে সারাজীবন, আজ বাবার দুর্দিনে এইটুকু সাহায্য করব না!”

নাগেশ্বর রাও ও তাঁর পরিবার তিরুপতির মহালরাজুপল্লির বাসিন্দা ছিলেন। সেখানেই ছিল তাঁর চায়ের দোকান। স্বচ্ছলতা না থাকলেও, প্রতিদিনের রোজগার থেকে দিন কেটে যেত ঠিকই। কিন্তু মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে দোকান বন্ধ। রোজগার নেই। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার টাকাও নেই। তাই মদনাপল্লী চিত্তুরের মারপুরি স্ট্রিটে দেশের বাড়িতে সপরিবারে চলে যান নাগেশ্বর রাও।

কিন্তু দেশের বাড়িতে থাকলেও, পেট চলবে কী করে! তাই শুরু করেন চাষবাসের কাজ। অথচ তাঁর ট্রাক্টর কেনার ক্ষমতা নেই, নেই কোনও মজুরকে ভাড়া করার মতো টাকা পয়সাও। গরু বা ষাঁড়ও নেই জমিতে লাঙল দেওয়ার জন্য। এমন সমস্যায় পরিস্থিতিতে তাঁর হাত দু’পাশ থেকে শক্ত করে চেপে ধরেছে দুই মেয়ে। যে কাজ একটি ষাঁড় কিংবা ট্রাক্টরের করার কথা, সেই কাজই করছে স্কুলপড়ুয়া দুই কিশোরী।

ভেন্নেলা এবং চন্দনা নামের ওই দুই মেয়ে সবেমাত্র দশম শ্রেণি পাশ করেছেন। কিন্তু এইটুকু বয়সেই বাপের দুঃখ বুঝেছে তারা। তাই তো সারাজীবন তাদের জন্য যে পরিশ্রম করেছেন বাবা, সেই ঋণই যেন খানিকটা শোধ করতে চাইছে দুই মেয়ে। তারা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চাষ-আবাদ করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই টাকা রোজগার করার। তাই তারা বাবাকে যতট সম্ভব সাহায্য করছে।

দুই কন্যার মা অর্থাৎ নাগেশ্বর বাবুর স্ত্রী জানিয়েছেন, বাড়িভাড়ার টাকা দিতে পারেননি তাঁরা। বন্ধ করে দিতে হয়েছে দোকান। তাই দেশের বাড়িতে ফিরে এসে চাষবাস করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না। সেই জন্য তাঁদের আড়াই একর জমিতে চীনাবাদাম এবং ডালের চাষ করতে শুরু করেছেন তাঁরা। এবার ফসল ফলার অপেক্ষায় রয়েছে নাগেশ্বরের পরিবার। এবার সে কাজ আরও সহজ করে দিলেন সোনু সুদ।

সাম্প্রতিক কয়েক মাসের লকডাউনে বারবারই ঈশ্বরের দূতের মতো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সোনু সুদ। একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিকের দলকে বাড়ি ফিরিয়েছেন বাস ভাড়া করে। রিল লাইফ থেকে একেবারে বাস্তবের হিরো হয়ে উঠেছেন তিনি। অভিনেতার এই মানবিক দিকটি গোটা দেশবাসী তাঁর ভারতরত্নের দাবিতে মুখর হয়ে উঠেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More