বাবা আসবে এখুনি! ধ্বংসস্তূপের তলায় দুই ছেলেকে বুকে চেপে ধরে বলেছিলেন মা, বুকেই মারা গেল তারা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দিকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা, অন্য দিকে বুকে চেপে ধরা দুই সন্তানকে মারা যেতে দেখার ট্রমা। সব মিলিয়ে যেন স্থবির হয়ে গেছেন আলিমা ইদ্রিস। কোনও যন্ত্রণাই যেন আর স্পর্শ করছে না ‘অধিক শোকে পাথর’ হয়ে যাওয়া এই তরুণীকে। দুই সন্তানকে নিয়ে মুম্বইয়ে কর্মরত স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা আলিমা। বড় সুন্দর কাটছিল সময়। পরিকল্পনা করছিলেন, সবাই মিলে ফিরে যাবেন উত্তরপ্রদেশের গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ভাবতে পারেননি, মুম্বইয়ের বহুতল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে যাবে তাঁদের স্বপ্নও!

    মঙ্গলবার যখন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল ডোংরির পাঁচতলা আবাসন, তখন চার বছরের হারবাজ ও সাত বছরের শাহজাদ– দুই ছেলেকে নিয়ে ঘরেই ছিলেন আলিমা। চোখের নিমেষে বহুতলটি যখন ভেঙে পড়ল হুড়মুড়িয়ে, দুই সন্তানকে নিয়ে চাঙর, পাথর ও লোহার নীচে আটকে পড়েন তিনি। কোনও রকমে বেঁচে যান বড় আঘাতের হাত থেকে।

    দুই ছেলেকে বুকে আগলে রেখেছিলেন আলিমা। বারবার তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, “এখুনি বাবা এসে যাবে, নিয়ে যাবে আমাদের।” মায়ের কথায় অনেকটা ধৈর্য্য ধরেছিল দুই খুদে। বেশ কিছু ক্ষণ বাবার অপেক্ষাও করে তারা। এভাবেই কেটেছিল গোটা একটা দিন। কিন্তু যত ক্ষণে উদ্ধারকারীদের নজর পড়েছে তাদের উপর, তত ক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আরও বেশি চাপা পড়ে গিয়েছেন আলিমা। নিথর হয়ে গিয়েছে আলিমার দুই সন্তানের দেহ৷

    মুম্বইয়ের বহুতল ভেঙে পড়ায় ভিটেহারা হয়েছেন বহু মানুষ। সরকারি হিসেবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ১৪ জনের। চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন অনেকেই। আর সেই ভয়ংকর মুহূর্তের স্মৃতিই এখন তাড়া করছে ডোংরিতে ভেঙে পড়া ওই আবাসনের বাসিন্দাদের। কিন্তু আলিমার শোক যেন সব কিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে। ডোংরির ওই বহুতলের বিপর্যয় জীবনটাই পালটে দিয়েছে বছর আঠাশের আলিমার।

    ছেঁড়া ছেঁড়া কান্না মিশিয়ে আলিমা বলছিলেন, “মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা হবে তখন। আমি রান্নাঘরে ছিলাম। হঠাৎ দেখি, বাড়িটা কাঁপছে। ভূমিকম্প নাকি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুড়মুড়িয়ে সব ভেঙে পড়ল। চোখের সামনে শুধু ধুলো। শ্বাস নিতে পারছিলাম না। বহুতল ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই রশিদ বাড়ি ফিরে আসে। আমাকে ফোনও করেছিল, কিন্তু ফোন তখন কোথায়! এর পরে ও হাসপাতালে পৌঁছেও আমাদের খোঁজ করতে শুরু করে। কিন্তু কোথাও আমাদের হদিস পায়নি। আমরা তো তখন আটকে আছি ভেতরে।”

    ঘটনার পরের দিন বুধবার বেলা দেড়টা নাগাদ উদ্ধারকারীরা আলিমা ও তাঁর সন্তানদের দেখতে পান। আরও আধ ঘণ্টা পরে উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তবে তত ক্ষণে জ্ঞান নেই কারও। আলিমার বুক অবধি ধ্বংসস্তূপের নীচে। ছেলে দু’টির মুখটুকু বাইরে কেবল। খানিক পরিচর্যায় আলিমা সাড় ফিরলেও অসাড় হয়ে পড়েছিল তাঁর দুই ছেলে। এর পরে উদ্ধারকারীরাই টের পান, তাদের দেহে প্রাণ নেই।

    এখন আলিমার গলায় শুধুই আক্ষেপ, “কেন এলাম মুম্বই!”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More