চিনের শিনজিয়াং প্রদেশে ‘গণহত্যার মতো’ কিছু ঘটেছে, দাবি আমেরিকার

১০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চিনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরে চিনের ‘দমনপীড়ন’ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে আমেরিকা। ওই নির্যাতনের জন্য যাঁরা দায়ী, সেই অফিসারদের ওপরে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। গত শুক্রবার চিনের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুললেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ওব্রায়েন। তিনি বলেন, শিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের ওপরে ‘গণহত্যার মতো’ কিছু একটা ঘটানো হয়েছে।

অ্যাসপেন ইনস্টিটিউটের এক অনলাইন অনুষ্ঠানে রবার্ট ওব্রায়েন বলেন, শিনজিয়াং প্রদেশে ‘গণহত্যা যদি নাও হয়, গণহত্যার মতো কিছু একটা ঘটানো হয়েছে।’ একইসঙ্গে হংকং-এ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপরে চিনের দমনপীড়নেরও নিন্দা করেন ওব্রায়েন।

আমেরিকা এখনও পর্যন্ত সরাসরি চিনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনেনি। যদি আনত, তাহলে চিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহল থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হত। রাষ্ট্রপুঞ্জের হিসাবমতো শিনজিয়াং প্রদেশে ১০ লক্ষ মুসলিমকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, সেখানে প্রায়ই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যা ঘটানো হয়। চিন তার প্রতিবাদ করে বলেছে, শিনজিয়াং প্রদেশে স্থানীয় মানুষকে ‘হাতের কাজ’ শেখানোর জন্য কয়েকটি ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সেখানকার মানুষ যাতে উগ্রপন্থার পথে না যান, সেজন্য তাঁদের মধ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ওব্রায়েন উল্লেখ করেন, আমেরিকার শুল্ক দফতর সম্প্রতি এমন কিছু চিনা পণ্য আটক করেছে যা মানুষের মাথার চুল দিয়ে তৈরি হয়েছিল। মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষা সচিবের দাবি, “চিনারা উইঘুর মুসলিম মহিলাদের মাথা কামিয়ে দিচ্ছে। সেই চুল দিয়ে নানা পণ্য বানিয়ে পাঠাচ্ছে আমেরিকায়।”

গত জুন মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মাইক পম্পিও অভিযোগ করেন, শিনজিয়াং প্রদেশে জোর করে পরিবার পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে। সেখানে জোর করে নির্বীজকরণ ও গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে।

গত শতাব্দীর শুরুর দিকে উইঘুররা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কিন্তু ১৯৪৯ সালে চিনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কিছুদিন পরে চিনের কমিউনিস্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চিনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব জানায়। প্রস্তাব মেনে না নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন।

কূটনীতিকরা বলছেন, তিব্বত থেকে শিনজিয়াং প্রদেশে যাওয়ার একমাত্র মসৃণ পথ আকসাই। এই পথ ব্যবহার করতে না পারলে চিনকে কারাকোরাম হয়ে বিকল্প পথে পৌঁছতে হবে, যা অনেক বেশি কঠিন। ফলে শিনজিয়াং প্রদেশের উপর থেকে চিনের দখল থাকা জরুরি। কিন্তু এখন এই প্রদেশে বছরের পর বছর ধরে চিনের অকথ্য অত্যাচার সারা বিশ্বের কাছে সমালোচিত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More