বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

মমতাকে রিটার্ন গিফ্ট দিলেন মোদী : সোমেন মিত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শনিবারের বারবেলায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হতে পারেন দেশের প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী। চব্বিশ ঘন্টা পর দিলীপবাবু সে কথা থেকে ডিগবাজি খেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার মানুষকে তা ভুলতে দিতে চান না বাংলার কংগ্রেস ও সিপিএম নেতারা। বরং দিলীপবাবুর ওই মন্তব্যের রেকর্ড বাজিয়ে যেতে চান তাঁরা।

দিলীপবাবুর মন্তব্য নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল দু’জনকেই খোঁচা দিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “মমতাকে রিটার্ন গিফ্ট দিলেন নরেন্দ্র মোদী। ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ার রিটার্ন গিফ্ট। ঝোলা থেকে বিড়াল বেরিয়েই পড়ল!”

সোমেন মিত্র-আবদুল মান্নানদের মতে, তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মোদী বিরোধিতা দেখাচ্ছেন তা লোক দেখানো। আসলে তলে তলে আঁতাত রয়েছে দিদিতে-মোদীতে। এবং সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ফেডারেল ফ্রন্টের কথা বলছেন। এবং কলকাতায় এসে সেই ফেডারেল ফ্রন্টের আবার ব্যাখ্যা দিয়ে গিয়েছেন মমতার রাজনৈতিক বন্ধু তথা তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ফেডারেল ফ্রন্ট হল অকংগ্রেসি-অবিজেপি ফ্রন্ট। যার অর্থ একটাই রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী জোট তৈরির চেষ্টাকে ঘেঁটে দিতে চাইছেন মমতা। সোমেনবাবু বলেন, এমন বন্ধুকে নরেন্দ্র মোদী রিটার্ন গিফ্ট তো দেবেনই।

কংগ্রেস নেতৃত্বের কথায়, ইদানীং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা গোটা তৃণমূল মোদী বিরুদ্ধে সরব ঠিকই। কিন্তু এতো হইচইয়ের মধ্যেও কতগুলো মৌলিক প্রশ্নের জবাব তৃণমূল দেয়নি। তা হল, এক-চোদ্দ সালে মোদী সরকার গঠনের পর প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় কেন তৃণমূল সংসদের মধ্যে বিজেপি-কে সুবিধা পাইয়ে দিয়ে চলছিল। লোকসভায় কংগ্রেস যখন আইপিএল কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ললিত মোদীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সরব, তখন কেন নীরব ছিল কংগ্রেস? বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তিতে যে তৃণমূল আপত্তি জানিয়েছিল, তারাই মোদী সরকারের প্রস্তাবে কেন সায় দিয়েছিল? দ্বিতীয়ত, কেন ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের ভোটের আগে পর্যন্ত চিটফাণ্ড কাণ্ডের সিবিআই তদন্ত থমকে রইল? তৃতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও গত চার বছরে কেন চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্ত বিশেষ এগোলো না? চতুর্থত, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাফায়েল কেলেঙ্কারি নিয়ে কেন দীর্ঘ সময় চুপ করে ছিল তৃণমূল?

অন্য দিকে সুজন চক্রবর্তীর মতো সিপিএম নেতারা বলছেন, বিজেপি বরাবরই তৃণমূলের বন্ধু। সেই কারণেই তৃণমূলনেত্রীর উদ্দেশে এতো শুভেচ্ছা বার্তা ঝড়ে পড়েছে বিজেপি সভাপতির মুখে।

বাংলার শাসক দলের নেতারা অবশ্য এ সব মন্তব্যে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, বাম ও কংগ্রেস বাংলার রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। সেই কারণে স্রেফ হতাশা থেকে এ কথা বলছে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেস ও বামেদের কৌশল অন্য। লোকসভা ভোটের আগে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, বিজেপি ও তৃণমূলের আঁতাত নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করে দিতে পারলে তাঁরা সেটার সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে উনিশের ভোটে সংখ্যালঘু ভোটের একাংশ তখন তাঁদের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে আশা করছেন সোমেন মিত্ররা।

Shares

Comments are closed.