কলকাতায় সামাজিক স্পর্শে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ল! এখন ঘরে থাকাই নিরাপদ ও বাঞ্ছনীয়, বলছেন চিকিৎসকরা

এভাবেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অন্য দেশে ছড়িয়েছে। সেটাই উদ্বেগের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় সামাজিক স্পর্শে করোনাভাইরাসে সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। অর্থাৎ এঁদের কেউ বিদেশ থেকে ভাইরাসে সংক্রামিত হয়ে দেশে আসেননি। সংক্রামিত রোগীর থেকেই এঁদের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে।

    এখন প্রশ্ন হল, এই চার জন আবার কত জনের সংস্পর্শে এসেছেন? এর স্পষ্ট উত্তর স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদেরও জানা নেই। বরং চিকিৎসকরা বলছেন, সামাজিক সংস্পর্শে এভাবেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অন্য দেশে ছড়িয়েছে। সেটাই উদ্বেগের। কারণ কলকাতা তো বেছে বেছে ব্যতিক্রম হতে পারে না। তাই সব রকম সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে বাড়িতে থাকাই নিরাপদ ও বাঞ্ছনীয়। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, জ্বর, সর্দি, কাশির সঙ্গে গাঁটে গাঁটে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হলে যেন অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া হয়। প্রথমে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরামর্শ নেওয়া ভাল। শ্বাসকষ্ট বা এ ধরনের উপসর্গ তীব্র হলে তবেই হাসপাতালে যেতে হবে।

    এ ব্যাপারে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ অপূর্ব ঘোষ বলেছেন, আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তৃতীয় স্টেজে ঢুকে পড়ছি। ফলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকাতে লক ডাউন করে সবার উচিত যথাসম্ভব বাড়িতে থাকা। অন্যদিকে বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট সুমন পোদ্দার বলেন, এটাই ভবিতব্য ছিল—সামাজিক স্তরে ভাইরাসের সংক্রমণ। আগামী সাত-দশ দিনের মধ্যে কলকাতা পুরোপুরি সংক্রমণের থার্ড স্টেজে ঢুকে পড়বে। তখন বোঝা যাবে, সামাজিক স্তরে সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে বা কতটা আটকানো গিয়েছে। সবাইকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনিও।

    কলকাতায় প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল এক লন্ডন ফেরত যুবকের শরীরে। সেই যুবক ও তাঁর পরিবার তথা তাঁর আমলা মা ও চিকিৎসক বাবা মোটেই দায়িত্বশীল আচরণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, ছেলের শরীরে উপসর্গ থাকলেও তাঁকে যেমন তাঁরা ঘুরে বেড়াতে দিয়েছেন, গোড়াতেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যাননি, বা ছেলেকে কোয়ারেন্টাইনে রাখেননি। তেমনই ওই আমলা নবান্নে নিজের দফতরে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসক স্বামী কৃষ্ণনগরে গিয়ে আবার রোগী দেখেন।

    যদিও ওই আমলা, চিকিৎসক এবং তাঁদের ড্রাইভারের শরীরে এখনও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে তাঁদের রাজারহাটের আইসোলেশন সেন্টারে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা বলছেন, ওই তিন জনের শরীরে যেহেতু নতুন করে কোনও উপসর্গ রবিবারও দেখা যায়নি তাই তাঁরা নিরাপদ বলেই আশা করা হচ্ছে।

    কলকাতায় দ্বিতীয় সংক্রমণ ধরা পড়েছিল লন্ডন ফেরত আরও এক যুবকের শরীরে। এই যুবকও স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি না থেকে কলকাতায় ঘুরে বেরিয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁদের পৈতৃক দু’টি দোকান রয়েছে কলকাতায়। সেখানেও গিয়েছেন। এঁর শরীর থেকেই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় ১১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে থেকে যুবকের বাবা, মা ও পরিচারিকার দেহে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে।

    এখন স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের উদ্বেগের বিষয় হল, যুবকের বাবা, মা আবার কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ওই পরিচারিকাই বা পরিবার-প্রতিবেশী কত জনের সংস্পর্শে এসেছেন। ওই পরিচারিকার পরিবারের লোকজনের শরীর থেকে আজ বা কাল লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তবে কতজনের নমুনা নেওয়া হবে সে ব্যাপারে গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। যাতে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়ায়।

    উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবরার যে তরুণীকে তিন নম্বর সংক্রামিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তিনি স্কটল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন। তাঁর পরিবার অবশ্য দাবি করেছে, ওই তরুণী নিজের উদ্যোগেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে গিয়ে নিজের চেক আপ করিয়েছেন সবার আগে। সামাজিক মেলামেশা করেননি। ডাক্তাররাও মনে করছেন, ওই তরুণীর থেকে হয়তো অন্যের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়নি।

    তবে স্বাস্থ্য ভবনের উদ্বেগ রয়েছে আর এক রোগীকে নিয়ে। তিনি সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ইনিও বিদেশ ভ্রমণে যাননি। তবে একটি সূত্রের মতে, তাঁর ছেলে জাপান থেকে আগ্রায় এসেছিলেন। সেখানে কিছুদিন আগে পিতা-পুত্রের সাক্ষাৎ হয়। ওই ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর আজ তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও পরিচারিকাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। রবিবার রাতে বা সোমবার সকালে তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে নাইসেড ও এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হবে।

    স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা বলছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এখন ষোল আনা সমন্বয় করে কাজ করছে। সংক্রমণ তৃতীয় স্টেজে প্রবেশের সময় বিবেচনা করেই সোমবার বিকেল থেকে গোটা রাজ্যে কার্যত লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে সোশ্যাল ট্রান্সমিশন ঠেকানো যেতে পারে। তবে এটাও ঠিক সরকার একা কিছু করতে পারবে না। এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতন আচরণই সংক্রমণ ঠেকাতে পারবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More