সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, সীমান্তে গিয়ে যুদ্ধ করুন! মন্তব্য শহিদ বায়ুসেনার স্ত্রী-র

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: “আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধের ক্ষতি  কী সেটা আপনারা জানেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার যোদ্ধারা এবার থামুন। এখনও যদি আপনারা যুদ্ধ চান তা হলে  সীমান্তে যান।”– মন্তব্য করলেন শহিদ সেনা নিনাদ মাণ্ডবগণের স্ত্রী বিজেতা। সীমান্ত সমস্যা মেটাতে যুদ্ধের ক্রমাগত যুদ্ধের ফরমান তাঁকে বিরক্ত এবং আহত করেছে, এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে জানালেন তিনি।

    গত মাসের ১৪ তারিখে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় পুলওয়ামাতে ৪৪ জন সেনার শহিদ হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল গোটা দেশ। প্রত্যাঘাতের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াও। এর পরে ২৬ তারিখ কাকভোরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক করে জঙ্গি ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনা।

    তার পর থেকেই কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি সীমান্তে। পরপর সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে পাকসেনা। উড়িয়েছে যুদ্ধবিমান। জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনাও। এমনই এক জবাব দিতে গিয়ে, বুধবার, কাশ্মীরের বদগামে ভেঙে পড়ে ভারতীয় সেনার যুদ্ধবিমান। প্রাণ হারান বিজেতার স্বামী, এয়ার পাইলট নিনাদ।

    এর পর থেকেই বিজেতার জীবন ঘিরে এখন অনেক প্রশ্ন চিহ্ন। তারই মধ্যে ক্রমে উত্তাপ বাড়ছে সীমান্তে। আঘাত-পাল্টা আঘাতে প্রায় প্রতি দিনই শহিদ হচ্ছেন একাধিক জওয়ান। কিন্তু এই মৃত্যু যেন আরও বেশি করে তাতাচ্ছে মানুষকে। তার প্রতিফলন সোশ্যাল মিডিয়াতেও স্পষ্ট। যুদ্ধের পক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। দাবি করছেন, পাল্টা মারই সন্ত্রাস রোধের একমাত্র অস্ত্র। সীমান্তে শান্তি নয়, প্রতিশোধই তাঁদের মুখ্য চাহিদা। আর তার বলি হচ্ছেন একের পর এক জওয়ান।

    এই আবহেই বিজেতার বার্তা, যুদ্ধ থামানোর। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁরা যুদ্ধের পক্ষে সওয়াল করছেন তাঁদের উদ্দেশে বিজিতা বলেন, “আপনারা যদি আমার নিনাদের জন্য সত্যিই কিছু করতে চান, তা হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় চিৎকার না করে একটা ছোট্ট কাজ করুন। হয় বাহিনীর সঙ্গে নিজেরা যুক্ত হয়ে যান, নয় পরিবারের কাউকে সেই দায়িত্ব দিন। আর সেটাও না পারলে আরও ছোট কাজ করুন। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। রাস্তা নোংরা করবেন না, মহিলাদের হেনস্থা করবেন না। তা হলেই নিনাদের জন্য বা দেশের জন্য কিছু করা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা, যারা নিজের লোক হারিয়েছি, তারা কখনও যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধের ক্ষতি কী, সেটা আপনারা জানেন না বলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গলা ফাটান যুদ্ধ চেয়ে। আরও নিনাদের প্রাণ যাক, সেটা আমরা চাই না। সোশ্যাল মিডিয়ার যোদ্ধারা এবার থামুন। এখনও যদি আপনারা যুদ্ধ চান তা হলে দয়া করে সীমান্তে যান।”

    গত বুধবার কাশ্মীরের বদগামে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে ভেঙে পড়ে এমআই ১৭। তাতেই ছিলেন নিনাদ। এই ঘটনায় বায়ু সেনার আরও ছ’জন সদস্যের মৃত্যু হয়। প্রাণ যায় এক সাধারণ নাগরিকেরও।

    পারিবারিক সূত্রের কবর, ছোটবেলা থেকেই বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন নাসিকের বাসিন্দা নিনাদ। প্রাথমিক পড়াশোনা নাসিকেই সারেন তিনি। তার পরে ২০০৯ সালে বায়ুসেনায় যোগ দেন নিনাদ। দক্ষ এয়ার পাইলট হিসেবে সুখ্যাতি ছিল তাঁর। পরিবারের অহঙ্কারও কম ছিল না নিনাদকে নিয়ে।

    কিন্তু মানুষটা হারিয়ে গেলে, সমস্ত অহঙ্কারকে ছাপিয়ে যায় শোক। তার ভার বহন করা বড় সহজ নয়, শহিদ সেনার পরিবারগুলির পক্ষে। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More