মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

ঝর্নায় পড়ে গেছিল ছোট্ট হাতির ছানা, তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দিল মা-সহ আরও ৫ হাতি! বাঁচল না কেউ

  • 38
  •  
  •  
    38
    Shares

দ্য় ওয়াল ব্যুরো: ঝর্নায় পড়ে যাওয়া ছোট্ট হাতির ছানাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মা-সহ আরও পাঁচটি হাতির! শনিবার দক্ষিণ তাইল্যান্ডের খাও ইয়া ন্যাশনাল পার্কের এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত পশুপ্রেমী মহল। এমনিতেই ওই জলপ্রপাতটি বেশ বিপজ্জনক। এই কারণে স্থানীয় ভাষায় জলপ্রপাতটি ‘নরকের জলপ্রপাত’ নামে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই ন্যাশনাল পার্কে প্রচুর হাতি রয়েছে। অবাধে ঘোরাফেরা করে সেগুলি। শনিবার একটি হাতির দল থেকে একটি বাচ্চা হাতি পা পিছলে হঠাৎ ঝর্নার তলায় পড়ে যায়। তখন ওই দলের অন্য হাতিগুলি তাকে বাঁচাতে যায়। তাতেই একে একে অন্য পাঁচটি হাতিরও মৃত্যু ঘটে। এই সময়ে আরও দুটো হাতি ছিটকে গিয়ে পড়ে ঝর্নায়। তারা এখনও বেঁচে আছে, কিন্তু তাদের এখনও উদ্ধার করা যায়নি। অরণ্য ও প্রাণী সংরক্ষণ দফতরের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। হাতিদুটোকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

দেখুন ভিডিও।

তবে তাদের উদ্ধার করা গেলেও, দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা কতটা টিকে থাকতে পারবে, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, তিন ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চালানোর পরে তিন বছর বয়সি একটি হাতির দেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরেই তার খুব কাছে পড়ে থাকা অন্য পাঁচ হাতির মৃতদেহও খুঁজে পাওয়া যায়। জানা গেছে, বিপজ্জনক ওই জলপ্রপাতে এর আগেও এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯২ সালের পর থেকে ওই জলপ্রপাতের খাদে পড়ে আটটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

তাইল্যান্ডের সংস্কৃতিতে ও ঐতিহ্যে হাতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এ দেশের অধিবাসীরা এই ঘটনায় শোকাতুর। তাই ওয়াইল্ড লাইফ ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের তরফে এটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলে জানানো হয়েছে। ওই ফাউন্ডেশনের তরফে এক কর্তা বলেন, “এই খাদটি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে হাতিদের জন্য কিন্তু এ বিষয়ে আমরা কিছুই করতে পারছি না। শনিবার আমরা যা হারালাম তা পরিবারের কোনও সদস্যদের হারানোর মতোই বেদনার।”

হাতি এমনিতেই দলবদ্ধ জীব। তাদের একা একা দেখা যায় না। সব সময়েই তারা দল বেঁধে চলাফেরা করে এবং মা-হাতি তার সন্তানদের আগলে রাখে। সেই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট বাচ্চাটি পড়ে যাওয়ার পরে দলের বাকি হাতিগুলি তাকে ছেড়ে চলে আসতে পারেনি। হাতিটিকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেয় তারাও।

Comments are closed.