একেই বলে অস্তিত্ব সংকট, সীতারামের মাথায় মহাকালীর ঘট

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিরাচরিত লাইন ছেড়ে একেবারে উলটো পথে হাঁটতে শুরু করল সিপিএম? এই প্রশ্নই উস্কে দিল দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির একটি ছবি। যে ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলো দলের অন্দরেও।

    গত ১৫ জুলাই বহুজন বাম ফ্রন্টের কর্মসূচিতে যোগ দিতে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। সেখানেই স্থানীয় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সামিল হন রাজ্যসভার প্রাক্তন এই সাংসদ। মহাকালী উৎসবের পদযাত্রায় তাঁর মাথায় ঘট নেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুক, টুইটারে। আর এই ছবি নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

    প্রসঙ্গত, ‘মার্ক্সবাদে বিশ্বাস করলে ভাববাদের ধারে কাছে যেতে নেই’ এমন ধারণাই প্রচলিত ছিল সিপিএম-এ। এ নিয়ে লাল পার্টির নেতাদের বুক ভরা ‘গর্ব’ও ছিল। এক সময় বাংলার সিপিএম তো গাইড লাইন করে দিয়েছিল দলীয় কর্মীদের জন্য। পুজো কমিটি, মসজিদ কমিটি থেকে আলোকবর্ষ দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেখানে। দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন ক্রীড়া ও পরিবহণমন্ত্রী প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তী তারাপীঠে গিয়ে পুজো দেওয়ায় ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল দলের ভিতর। স্বয়ং জ্যোতি বসু বলেছিলেন, ‘ওঁর মৃত্যু ভয় ঢুকেছে।’ তারপর সময় যত এগিয়েছে ততই সিপিএম ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে। বাংলার মসনদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ২০১৬-র নির্বাচনে হারাতে হয়েছে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদাও। রক্ষা হয়নি ত্রিপুরার সরকারও।

    কিন্তু সীতারামের এই কাজ কি দলের লাইনের পরিপন্থী?

    প্রকাশ কারাটদের হাত থেকে দলের রিমোট নরমপন্থী সীতারামের হাতে যেতেই ২০১৫ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় সাংগঠনিক প্লেনামে সিপিএম গণলাইনে চলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ রাজ্যে সূর্যকান্ত মিশ্ররা আশির দশকের গাইডলাইন খণ্ডন করে জনসংযোগ বাড়াতে নতুন গাইডলাইন তৈরি করেন। সেখানে বেশি বেশি করে উৎসবে সামিল হওয়ার কথা বলা হয় দলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে। দলের একাংশের মতে ব্যক্তিগত বিশ্বাস-অবিশ্বাস এক জিনিস, আর মানুষের উৎসবে সামিল হওয়া অন্য জিনিস। সীতারাম যা করেছেন তাতে দলীয় লাইন কোথাও ক্ষুন্ন হয়নি। ২০১৬ সালের দীপাবলীর সময় উত্তর দমদমের সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য্য কালী পুজোর উদ্বোধন করায় বিতর্ক উঠেছিল। তাতে আমল না দিয়ে আলিমুদ্দিন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যদি জনপ্রতিনিধিরা না থাকেন, মার্ক্সবাদের দোহাই দিয়ে গোয়ার্তুমি করেন তাহলে যতটুকু অস্তিত্ব রয়েছে তাও হারাতে হবে।

    যদিও সিপিএম-এর তাত্ত্বিক নেতাদের মতে দলীয় অনুশাসন ভেঙেছেন স্বয়ং সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় কেরলে নাকি রথ যাত্রা উপলক্ষে নানান কর্মসূচিতে থাকবে সিপিএম। বিভিন্ন পোস্টার ভাইরাল হতেই আসরে নামেন কেরল সিপিএম-এর সম্পাদক কেডিয়ারি বালাকৃষ্ণন। তিনি জানিয়ে দেন, ‘ওই পোস্টার বিজেপি’র আইটি সেলের ফোটোশপের কারসাজি। দল কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে থাকবে না।’ কিন্তু রথের পরের দিনই বেঙ্গালুরুতে সীতারামের এই ছবি ভাল ভাবে নিচ্ছে না সিপিএম-এর কট্টরপন্থী অংশ। বাংলার এক কট্টরপন্থী নেতা বলেন, ‘সীতারামের মাথায় ভোটের ভুত চেপেছে।’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More