নীরবে হজম

0 ১০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আতঙ্ক এতটাই যে কিল খেয়ে, সম্পূর্ণ বিনা কারণে কিল খেয়েও কিল হজম করতে হচ্ছে। মুখ খুললে, প্রতিবাদ করলে, মিডিয়ার দ্বারস্থ হলে সুরাহা তো কিছু হবেই না, বরং পরিস্থিতি আরো ঘোরালো হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

সেই আতঙ্ক ও উদ্বেগের সঙ্গে সমব্যথী হয়ে হাসপাতালটির নামোল্লেখ উহ্য থাক, শুধু তাই না, কলকাতার কোন এলাকায় সেটি অবস্থিত, সেটাও না হয় নাই বলা হল। কারণ ঘটনা হলো সমস্যাটা সর্বগ্রাসী এবং আরো পরিতাপের বিষয়, ক্রমবর্ধমান।

ফলে কোন এলাকার হাসপাতাল, সেটি চিহ্নিত করা খুব জরুরি নয়।

বরং সংক্ষেপে ঘটনাটির বিবরণ দেওয়া যাক। রাত তখন বারোটা সাড়ে বারোটা হবে। অসুস্থ শিশু সন্তানকে নিয়ে জরুরি বিভাগে চড়াও হলেন স্থানীয় জনৈক দাদা, যিনি নিজে আবার প্রায় ত্রিকালদর্শী এক রাজনৈতিক দাদার বিশেষ অনুচর। চড়াও বলা হলো এই কারণে যে সেই মাঝারি দাদাটি একা আসেননি, তাঁর সঙ্গে সাঙ্গোপাঙ্গ অন্তত জন্য দশেক, এবং যারা কেউই ঠিক প্রকৃতিস্থ অবস্থায় নেই। ডাক্তার নার্সরা শিশুটিকে পরীক্ষা করবেন কী, এদের হামলায় দিশাহারা। তাঁদের অপরাধ হয়েছে তাঁরা বিরক্তি দেখিয়ে ফেলেছেন, ভিড় হঠাতে বলেছেন, কাজটা ঠিক করে করতে দিতে বলেছেন। যার ফলশ্রুতি পুরুষ-মহিলা, ডাক্তার-নার্স-কর্মী নির্বিশেষে মারধর, গালিগালাজ, প্রায় শ্লীলতাহানি। সিসি টিভির ফুটেজ থাকা সত্তেও যা নিয়ে নীরব ওই প্রতিষ্ঠান।

মাস্তানি নিয়ে মুখ খুলে আরো মার খেতে রাজি নন তাঁরা। আদর্শবাদী ও ঠোঁটকাটা বলে সুবিদিত এক চিকিৎসককে যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় সে দিন বলতে শোনা গেল, হাসপাতালগুলো আজকাল মাস্তানির পাঠশালা হয়ে যাচ্ছে, যখন ইচ্ছে এসে ডাক্তার বদ্যিদের দু’ঘা দিয়ে হাতের সুখ করে নিলেই হলো।

এমন মনে করে বসার কোনো কারণ নেই, যে এক ধারসে সব হাসপাতাল নার্সিংহোমকে দরাজ ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দেওয়া এই লেখার অভিপ্রায়। আদপেই না। রোগীর পরিবারকে শোষণ করে যারা, নির্দয় ভাবে বিল বাড়ায়, অকারণে পরীক্ষা নিরীক্ষার বোঝা চাপায়, আই সি ইউ তে ডেড বডিকে শুইয়ে রাখে – তাদের কোনো ক্ষমা নেই। তাদের উপরে প্রশাসনের খাঁড়া নেমে আসুক। কিন্তু প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তি যখন সার্বিক ভাবে হাসপাতাল সম্প্রদায়ের উপরে কঠোর হবেন, এবং তাঁর স্নেহধন্য পার্শ্বচরদের উস্কানিতে আরো উত্তেজিত হবেন, তখন কি তিনি খবর রাখেন যে এঁদের একাংশ কী ভাবে এই সব হাসপাতালে ক্ষমতা প্রদর্শন করেন? তিনি কি জানেন, এঁদের অনেকের প্রেরিত পেশেন্ট পার্টি মনে করে যে হাসপাতালে চোটপাট করা ও পয়সা না দিয়ে চিকিৎসা করানো তাদের পিতৃদত্ত অধিকার?

মাথায় রাখা দরকার। কারণ হাসপাতাল শিল্প যেমন অন্যায় দুর্নীতি করতে পারে না, তেমন দাতব্যও হতে পারে না। দাদাদের প্রেরিত ভাই বেরাদররা এই অত্যাচার চালালে, সেই ক্ষতির চাপ কিন্তু সামলাতে হবে আমজনতাকেই। তাতে আখেরে ভালো হবে কি?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More