বুধবার, মার্চ ২০

রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন মহিলা, ছুটে এসে কী করলেন এই শিখ যুবক! জানলে মন ভরে যাবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “যা চেয়েছো তার কিছু বেশি দিব, বেণীর সঙ্গে মাথা”… এমনটাই বলেছিলেন তরুসিং। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রার্থনাতীত দান কবিতায় এমনটা লিখে তিনি বুঝিয়েছিলেন, মাথার বেণী এবং পাগড়ি শিখদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র। ধর্মপ্রাণ শিখেরা কখনওই প্রকাশ্যে পাগড়ি খোলেন না সাধারণত। কিন্তু ব্যতিক্রমী হলেন বছর কুড়ির যুবক মনজিৎ সিংহ। সটান খুলে ফেললেন পাগড়ি। আর এই ব্যতিক্রমেই জিতে নিলেন অসংখ্য হৃদয়।

কাশ্মীরের অবন্তীপোরায় একটি পথ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে, রাস্তায় ছটফট করছিলেন এক মহিলা। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল তাঁর শরীর। পায়ের ক্ষত থেকে বন্ধ হচ্ছিল না রক্তপাত। ঘটনাস্থলে ছিলেন মনজিৎ। সতলেই যখন কী করবেন বুঝতে না পেরে ছুটোছুটি করছেন, তখনই ঝাঁপিয়ে পড়েন মনজিৎ। মাথা থেকে খুলে ফেলেন পাগড়ি। বেঁধে দেন জখম ওই মহিলার পায়ের ক্ষত। বন্ধ হয় রক্ত। তার পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

মনজিতের এই স্বতঃস্ফূর্ত পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন সকলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এই ‘গুড সামারিটান’-এর গল্প। বিপদের মুখে, কঠিন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় রীতিকে অগ্রাহ্য করে মানবিকতাকে এগিয়ে রাখার ঘটনা সকলের মন জয় করে নিয়েছে।

সূত্রের খবর, বছর ৪৫-এর ওই মহিলাকে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। তাঁর পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। রাস্তায় পড়ে যান তিনি। পথচারীরা কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না, হঠাৎই তাঁদের মধ্যে থেকে এগিয়ে আসেন মনজিৎ। তিনি বলেন, “আমি দেখলাম উনি রাস্তায় পড়ে আছেন, পা থেকে রক্ত বেরোচ্ছে গলগল করে। সেই মুহূর্তে ক্ষত বন্ধ করার জন্য পাগড়ি খুলে ফেলি আমি। অন্য কিছু মাথায় আসেনি। আমার জায়গায় যে কোনও কেউ-ই হয়তো তা-ই করতেন।”

অনেকেই বলছেন, শিখ ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল মাথার পাগড়ি। এই ধরনের ঘটনা সব সময়ই প্রমাণ করে, সমস্ত ধর্মের উর্ধ্বে হল মানব ধর্ম। ২০ বছরের মনজিৎ তেমনটাই শিখিয়ে দিলেন এই ঘটনার মাধ্যমে। কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয় মনজিতের জন্য।

কিছু দিন আগে বাবা মারা গিয়েছেন মনজিতের। তার পরে তিনি বাবার জায়গায় চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর চাকরি পেয়েছেন শের-ই-কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাড়িতে রয়েছেন মনজিতের দাদা এবং প্রতিবন্ধী মা। মনজিতের আশা, ভাল কোনও একটা চাকরি পেয়ে সংসারের দারিদ্র্য দূর করবেন।

Shares

Comments are closed.