রথ আসলে মানুষের শরীর, রথযাত্রার আগে জেনে নিন সনাতন শাস্ত্রের ব্যাখ্যা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নবকুমার ভট্টাচার্য

রথ নিয়ে মেতেছে গোটা দেশ। এই বাংলাও কম যায় না। রথ যত না ধর্মীয় উৎসব তার চেয়েও বেশি সামাজিক উৎসব। রথের মতোই প্রাধান্য পায় রথের মেলা। তবু জেনে রাখা ভাল সনাতন শাস্ত্র রথ সম্পর্কে কী বলেছে।

ব্রহ্মবিদ্যা প্রবর্তক ভগবান বৈবস্বত আত্মতত্ত্ব বোঝাতে গিয়ে নচিকেতাকে বলেছেন— ‘শরীরং রথমেব তু’ অর্থাৎ, মানুষের শরীরটাই যেন একটা রথ। কঠোপনিষদে সেই রথের এক অপূর্ব বর্ণনা রয়েছে।

সেখান বলা রয়েছে, আমাদের শরীর রূপ সেই রথখানি অবিরাম বিষয়পথে ছুটে চলেছে। মানব দেহের ইন্দ্রিয়গুলি হচ্ছে সেই রথের ধাবমান ঘোড়া। আমাদের বুদ্ধিরূপ সারথি মনরূপ লাগাম জুড়ে দিয়ে ইন্দ্রিয়রূপ ধাবমান ঘোড়াগুলির গতিকে সবলে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। সেই রথের দেবতা হচ্ছে আত্মা-যা স্থির অচঞ্চল শান্ত মূর্তিতে রথের উপরে বিরাজিত।

মনুষ্যরূপ সেই রথ ছুটে চলেছে। এ যেন মহাকালের রথচক্র। জন্মমৃত্যুর তালে তালে চলে অনন্তকালের রথযাত্রা। মহাভারতে রথের চাকার চক্রান্তে কর্ণকে জীবন দিতে হয়েছিল। কর্ণের রথের চাকার মতো মানুষের সৌভাগ্যরথ যদি বিকল হয় তবে জীবনের গতিচক্রে আসে অনিবার্য বিপর্যয়। সনাতন শাস্ত্রের বক্তব্য— শরীরের মধ্যে আত্মারূপ সেই বিগ্রহকে উপলব্ধি করতে পারলেই মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More